- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে সিন্ডিকেটবাজি বন্ধ হোক

কৃষি উৎপাদনে সহায়তা প্রদানের উদ্দেশ্যে সরকার ৭০ ভাগ ভর্তুকি মূল্যে যেসব কৃষি যন্ত্রপাতি কৃষকদের মাঝে সরবরাহ করেছেন সেসব যন্ত্রপাতি ব্যক্তি বিশেষের ব্যবসা এবং কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত মুনাফা কামানোর উপকরণ হয়ে উঠছে বলে সোমবারের দৈনিক সমকালে প্রকাশিত একটি খবর থেকে জানা যায়। সিলেট ব্যুরো কর্তৃক প্রচারিত ওই সংবাদ থেকে জানা যায়, চলতি আমন মৌসুমে বিভাগের বিভিন্ন স্থানে আমন ধান কাটাতে হারভেস্টার মেশিন মালিকরা সিন্ডিকেট তৈরি করে একদিকে এক উপজেলার মেশিন অন্য উপজেলায় আসতে বাধা দিচ্ছে অন্যদিকে ধান কাটার জন্য কৃষকদের নিকট থেকে মাত্রাতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। সিন্ডিকেট করে অন্য এলাকার মেশিন আটকে রাখায় ধান কাটার জন্য অপেক্ষমাণ কৃষকরা বাধ্য হয়ে এই বেশি টাকা দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই সিলেট জেলায় যেখানে প্রতি বিঘা জমির ধান ১২০০ টাকা হতে ১৬০০ টাকায় কাটা হয় সেখানে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট ও শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলায় প্রতি বিঘা জমির জন্য কৃষকদের খরচ করতে হয় ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। সরকার কর্তৃক ভর্তুকি দামে বিতরণকৃত কৃষিযন্ত্র নিয়ে এই ধরনের ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি নিতান্তই দুঃখজনক। এতে যে উদ্দেশ্যে প্রতিটি যন্ত্রের বিপরীতে সরকার বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিচ্ছে তা আক্ষরিক অর্থে অপচয় হচ্ছে বলা চলে।
সরকারের কৃষি যন্ত্রপাতি বিতরণের নীতিমালাও যথেষ্ট বিভ্রান্তিকর। ৭০ ভাগ হ্রাসকৃত মূল্যে বিতরণ করার পর এসব যন্ত্র কী উপায়ে সংশ্লিষ্ট এলাকার কৃষি সহায়তায় কাজে লাগানো হবে এবং কীভাবে একটি যন্ত্র থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক কৃষক উপকৃত হবেন; সে বিষয়গুলো পরিস্কার নয়। সাধারণত রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের সুপারিশে অথবা তারা নিজে, সরকারের এই মহতী কর্মসূচির সুযোগ নিয়ে থাকে। পরে এই যন্ত্রপাতি তারা এলাকার কৃষি সহায়তার কাজে না লাগিয়ে নিজেরা ব্যবসা শুরু করে দেন। নীতিমালায় এসব যন্ত্রপাতি ব্যবহারের কী নির্দেশনা রয়েছে তাও কৃষকরা জানেন না। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ কর্তৃক এ বিষয়ে প্রচারণার ঘাটতি রয়েছে বলেও অনুমিত হয়। আলোচ্য সংবাদটি চলমান আমন মৌসুম নিয়ে করা হলেও বিষয়টি পুরো দেশের জন্য সমান প্রযোজ্য। তাই কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে উদ্যোগী হয়ে এসব যন্ত্রপাতি ব্যক্তি বিশেষের পরিবর্তে যাতে অধিক সংখ্যক কৃষকের কাজে লাগে সে বিষয়ে ব্যাপকভাবে অবহিতকরণের কাজ শুরু করতে হবে। সমবায় সমিতির মাধ্যমে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণের সুযোগ থাকলেও বাস্তবে কৃষক সমবায় সমিতিগুলো এই সুযোগ খুব কম পায়। কৃষক সমবায় সমিতির মাধ্যমে এসব যন্ত্রপাতি বিতরণের ব্যবস্থা করতে পারলে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ব্যবস্থার চাইতে উন্নত ফল পাওয়া যেত বলে অনুমান করা যায়। এই ক্ষেত্রে বেশি দামের মেশিন ক্রয় করার জন্য কৃষক সমবায় সমিতিগুলোকে সহজ শর্তে ঋণের সুযোগ করে দিতে হবে।
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে বোরো চাষের মৌসুম শুরু হয়েছে। কৃষি কাজের জন্য শ্রমিক সংকট এই এলাকার একটি সাধারণ সমস্যা। বিশেষ করে ধান কাটার মৌসুমে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করে। ধান কাটার সময় যাতে কৃষকরা সহজ ও সুলভে এইসব যন্ত্রপাতির সুবিধা পেতে পারে সেজন্য কৃষি বিভাগকে এখন থেকেই পরিকল্পনা সাজানোর জন্য আমরা অনুরোধ জানাই। সে সময় কেউ যাতে সিন্ডিকেট করে মেশিন ব্যবহারের দাম বাড়ানো সহ অন্য এলাকার মেশিন আনতে বাধা তৈরি না করতে পারে তাও নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক ও কৃষকের স্বার্থে সরকার এসব যন্ত্রপাতির যে ৭০ ভাগ্য মূল্য পরিশোধ করছেন তা মূলত সাধারণ মানুষের করের টাকা। তাই এইসব যন্ত্রপাতিতে সাধারণ কৃষকদের অধিকার বেশি। এই বিবেচনা কাজে লাগাতে হবে।

  • [১]