- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কেনাকাটায় ভাটা, দামে জোয়ার

সাইদুর রহমান আসাদ
সুনামগঞ্জের বাজারে ঈদের কেনা কাটা আশানরূপভাবে জমে নি। অন্যান্য বছরের চেয়ে কেনাকাটায় কিছুটা ভাটা পড়েছে বলছেন বিক্রেতারা। তবে ক্রেতারা বলছেন, এবার বাজারে কাপড়ের মূল্য অধিক। ফলে কিনতে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।
করোনার দখলে গত ২ বছরে সুনামগঞ্জের দোকানগুলোয় বেচাকেনায় ছিলো ধীরগতি। লোকসান ও দীর্ঘ বন্ধের রেস কাটিয়ে এবার নতুন করে ব্যবসার আশা করেছিলেন তারা। এজন্য দেশি বিদেশী কাপড়ের সমাহার করেছিলেন এবারের রোজার ঈদকে সামনে রেখে। তবে ঈদের কেনা কাটা সেভাবে জমে নি।
সুনামগঞ্জ শহরের দোজা মার্কেট, সুরমা মার্কেট ও লন্ডন প্লাজাসহ বড় বড় শপিং সেন্টারে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। বিশেষ করে শিশুদের কেনাকাটায় ছিলো একটু ভিন্ন আমেজ। বাজারে এরকম উপস্থিতি কাঙ্খিত উপস্থিতির চেয়ে কম বলছেন দোকানীরা। বুধবার সরজমিনে ঈদের মার্কেট ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।
রূপসী বাংলার দোকানের সেকেন্ড ইনচার্জ মো. মাজহারুল ইসলাম বললেন, আমরা ঈদের জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। তবে হঠাৎ করে পাহাড়ি ঢলে কৃষকের অনেক ক্ষতি হয়েছে। ফলে আমাদের উপরে এর প্রভাব পড়েছে। কৃষকরা যদি বৈশাখে ভালো ধান গোলায় তুলতে পারতেন তাহলে আমাদের বিক্রিও বেড়ে যেতো।
পাঞ্জাবি বিক্রেতা ডেনিশ টুটুল রায় বললেন, এবার আমাদের পাঞ্জাবিসহ অন্যান্য কাপড়ের বেচা—কিনি ভালো হচ্ছে না। বাজারের অন্যান্য জিনিসপত্রের অধিক দাম, ক্রেতা পাওয়া যাচ্ছে না।
শাওন ডিপাটমেন্ট স্টোরের মালিক মহিবুর আলম শাওন বললেন, এবারের বেচাকেনা অন্যান্য বারের চেয়ে কিছুটা কম। ফসলের অবস্থা খারাপ হওয়ায় প্রভাব পড়েছে বাজারে। এবারে আমাদের সংগ্রহ ছিলো বেশি। দেশি কাপড়ের পাশাপাশি বিদেশি কাপড়ের সংগ্রহ রয়েছে আমাদের কাছে। গেল ২ ঈদের চেয়ে এবার ক্রেতাদের সংখ্যা একটু বেশি হবে ভেবেছিলাম। তবে এখনো সেরকম হয় নি। শেষ সময়ে কিছু হতে পারে। তিনি বলেন, ভারতীয়, পাকিস্তানি কাপড় এনেছেন তারা। দেশিও ভালো ভালো পণ্য রয়েছে। ধারারা, শারারা, লেহেঙ্গা গ্রাউন্ড বারবি ভালো চলছে।
দোজা শপিং সেন্টারের জিনিয়া ফ্যাশনের দোকানী মিটু রায় বললেন, ঈদকে সামনে রেখে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টাকার কাপড় দোকানে এনেছি। এখনও ২০ লাখ টাকাই বিক্রি করতে পারিনি। বেচাকেনা নেই বললেই চলে। এরকম চললে লোকসানে পড়তে হবে।
এদিকে বিক্রেতাদের বাজার মান্দার মধ্যেই রয়েছে ক্রেতাদের অভিযোগ। তারা বলছেন, অন্য বারের চেয়ে এবার কিছুটা কাপড়ের দাম বেশি। এতে বাচ্চা ও আত্মীয় স্বজন নিয়ে কেনাকাটা করতে এসে বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।
চরমহল্লা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক জাকিয়া বেগম মেয়েকে নিয়ে এসেছিলেন ঈদের কাপড় কিনতে। শহরের একটি বড় দোকানে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সেখানেই এ প্রতিবেদকের সঙ্গে দেখা এই শিক্ষিকার।
তিনি বললেন, আগের থেকে কাপড়ের দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে। দোকানে এসে যা দেখলাম তা আমাদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে রয়েছে।
সুনামগঞ্জ সদরের কালিপুরের বাসিন্দা মোবারক ইসলাম বললেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পাশাপাশি কাপড়ের দামও এভাবে বেড়ে যাবে তা আমরা ভাবিনি। দোকানদাররা করোনা পরবর্তী সবকিছুর দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। বড়দের কাপড় না নিলেও বাচ্চাদের কাপড় নিতেই হচ্ছে। সেই অপারগতার জায়গা থেকেই কাপড় কিনতে দোকানে আসা।
জয়নগরের বাসিন্দা মো. আক্তার হোসেন বললেন, ৫শ’ টাকা নিয়ে বাজারে আসছি প্যান্ট কিনতে। যে দোকানেই যাই একেক’টি প্যান্টের দাম ১৫শ’ থেকে দু’হাজার টাকা বলে। এখন প্যান্ট না কিনেই বাড়ি চলে যাচ্ছি।
সুনামগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক জিএম তাশহিজ বললেন, আমাদের চেম্বার অব কমার্সের পক্ষ থেকে বাজার মনিটরিং করেছি। বাজার স্থীতিশীল রয়েছে। তবে যেহেতু ফসলের কিছু ক্ষতি হয়েছে তাই কিছুটা প্রভাব পড়েছে।

  • [১]