- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে মর্যাদার প্রতীকে পরিণত করুন

সুনামগঞ্জের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারকে ঘিরে এবারের শহীদ দিবসে জনমনে যেসব প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে সেগুলো নতুন কিছু নয়। গত কয়েক বছর যাবৎ এই প্রশ্নগুলো ঘুরে ফিরে আসছে। হতাশার বিষয় হলো সর্বস্তরের নাগরিকবৃন্দ এই সব প্রশ্ন উত্থাপন করে আসলেও কারও কোন কর্ণপাত হচ্ছে বলে মনে হয় না। অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয় হলো গত কয়েক বছরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের শ্রমে-ঘামে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই নির্মিত এই শহীদ মিনারের গুরুত্ব ও মর্যাদা হ্রাস করা হচ্ছে। নাগরিকবৃন্দ মনে করছেন এই অবহেলা ও গুরুত্বহীনতা ইচ্ছাকুত। সুতরাং এমন অবস্থায় শহীদ মিনার জলমগ্ন হবে এ আর বিচিত্র কি?
শহীদ মিনার নিয়ে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন মোটামোটি এরকম: ১। এই শহীদ মিনারের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব কার? ২। শহরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার কোনটি ? ৩। স্বাধীনতা দিবস ও বিজয় দিবসে এই শহীদ মিনারে সরকার আয়োজিত শ্রদ্ধার্ঘ অর্পন করা হয় না কেন? ৪। কেন কোন প্রতিষ্ঠান শহীদ মিনারটি নিয়মিত সংস্কারের দায়িত্ব গ্রহণ করছেন না ? ৫। শহীদ মিনারের সামনের দোকান দুইটি থেকে নিয়মিত আদায় করা ভাড়ার টাকা যায় কোথায়? এবার মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যখন শ্রদ্ধা জানাতে আসা অসংখ্য নারী পুরুষ জলাবদ্ধতার কারণে চরম ভোগান্তির শিকার হলেন তখন শহরের পত্রিকাগুলো গতকাল মোটামোটি এইসব প্রশ্নের উত্তর সন্ধান করার চেষ্টা করেছে। এই অনুসন্ধানে শহীদ মিনারের কোন অভিভাবকের খোঁজ পাওয়া যায় নি। দায়িত্ব না থাকলেও পৌরসভা নিজ উদ্যোগে বিভিন্ন দিবসে আলোর ব্যবস্থা করে থাকেন, এছাড়া গত বছর পৌরসভা শহীদ মিনারের কিছু সংস্কারও করেছেন। সংগত কারণেই দায়িত্ব না থাকা সত্বেও পৌরসভা যতটুকু করেছে ততটুকুর জন্য ধন্যবাদ দিতে হয় পৌর মেয়রকে। তিনি এও জানিয়েছেন, শহীদ মিনারের জায়গাসহ পার্শ্বস্থ কিছু জায়গা দেয়া হলে এখানে দৃষ্টিনন্দন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার স্থাপনে তিনি সমর্থন ও সহযোগিতা দিবেন। কিন্তু আমরা আশ্চর্য হই এই শহীদ মিনারকে নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের ভূমিকা দেখে। শহীদ মিনারের সামনের দোকানের ভাড়া গ্রহণ করেন তারা। কিন্তু সংবাদপত্রের তথ্য অনুযায়ী শহীদ মিনারের কোন সংস্কার কাজ করান নি কখনও তারা। ভাড়া গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত হয়ে যায় শহীদ মিনারের অভিভাবকত্ব আসলে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের উপরই বর্তায়। কিন্তু সেটি তারা পালন করছেন না। আমরা আশা করছি এবার তারা শহীদ মিনার রক্ষণাবেক্ষণের সকল দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
শহরের মানুষের দাবি হলো এই শহীদ মিনারের জায়গায়ই আরও কিছু জায়গা নিয়ে দৃষ্টিনন্দন শহীদ মিনার প্রতিষ্ঠার। মোটামোটি এই বিষয়ে ঐকমত্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়ে পড়েছে। এখন দরকার উদ্যোগের। জেলা পরিষদ ও পৌরসভা যৌথভাবে এই উদ্যোগ গ্রহণ করলে সফলতার বিষয়ে নাগরিকবৃন্দ আশাবাদী হতে পারেন। কারণ জেলা পরিষদ ও পৌরসভার নেতৃত্বে রয়েছেন নির্বাচিত দুই জনপ্রতিনিধি এবং তাঁরা উভয়েই মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রসারে অঙ্গিকারবদ্ধ। তাঁরা উদ্যোগ নিলে জায়গার বন্দোবস্ত প্রাপ্তি কোন সমস্যা তৈরি করবে না বলে বিশ্বাস করেন সকলে।
এবারের শহীদ দিবসে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে আসা মানুষের ঢল নেমেছিলো। বৃষ্টিপাতজনিত জলাবদ্ধতা উপেক্ষা করেই মানুষ ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা আর ভালবাসার অর্ঘ নিবেদন করেছেন। এই জনসমাগম প্রমাণ করে দিল আত্মোৎসর্গকারী বীর শহীদানদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সকলের স্মৃতির মিনার এটি।  সামনের মার্চ বা ডিসেম্বরেও এখানে জনতার ঢল নামবে। তখন যাতে এই শহীদ মিনারটি ভাবগাম্ভীর্য আর মর্যাদার প্রতীকরূপে সকলের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে সেটি নিশ্চিত করতে আমরা সংশ্লিষ্টদের অনুরোধ জানাই।

  • [১]