স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচনে প্রত্যেকটি ভোট কেন্দ্রে মেয়র প্রার্থীদের চেয়ে কাউন্সিলর প্রার্থীরা সক্রিয় ছিলেন। মেয়রের ভোট নিয়ে আলোচনাও ছিল কম। যত চেষ্টা কাউন্সিলারদেরই। কেন্দ্রে ভোট আনতে মেয়র প্রার্থীদের কোন পরিবহনও কোথাও চোখে পড়ে নি। সকল পরিবহনই ছিল কাউন্সিলর প্রার্থীদের। শহরের নবীনগরের আবিদ উল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোটার নুরুন নহার জানালেন, মেয়র প্রার্থী নিয়ে মহল্লায় বা পরিবারে ভোটের কোন আলোচনা নেই। ভোট আদায়ের চেষ্টা কাউন্সিলর প্রার্থীদের। কাউন্সিলর প্রার্থীর পিড়াপিড়িতেই কেন্দ্রে এসেছেন তিনি।
শহরের মহিলা কলেজ কেন্দ্রের পূর্ব নতুনপাড়ার ভোটার জয়া দে বললেন, মেয়র প্রার্থীর পক্ষে কেউ ভোট চাইতে আসে নি। তবে তিনি বিজয়ী হবার মতো প্রার্থীকেই ভোট দেবেন। মূলত কাউন্সিলর প্রার্থীর জন্যই কেন্দ্রে আসা তার। বাসায় চারজন
কাউন্সিলর প্রার্থীর অটো রিক্সা গেছে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য। কাকে রেখে কাকে ভোট দেবেন এই নিয়ে সমস্যায় পড়েছেন তিনি।
শহরের কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে একজন কাউন্সিলরের সমর্থককে ভোটারদের ভোট কেন্দ্রে প্রবেশের সময় মাস্ক তুলে দিতে দেখা গেছে। এই কেন্দ্রে একজন কাউন্সিল প্রার্থীর সমর্থকরা ছাড়া অন্য কাউকে ভোটার স্লিপ তুলে দিতেও দেখা যায় নি।
শহরের ১১ টি কেন্দ্র ঘুরে দেখা গেছে কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরাই ভোটারদের কেন্দ্রে নিয়ে আসছেন, স্লিপ তুলে দিচ্ছেন। মেয়র প্রার্থীদের কোন কর্মী সমর্থকদের এই তৎপরতা চোখে পড়ে নি।
সকাল ৯ টায় আওয়ামী লীগের মনোনীত মেয়র প্রার্থী নাদের বখ্ত কেবি মিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভোট দিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দেশব্যাপি যে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ চালাচ্ছেন, পরিকল্পনা মন্ত্রী এমএ মান্নানের মাধ্যমে সুনামগঞ্জে সেই ঢেউ লেগেছে। ভোটাররা এই ঢেউকে কোনভাবেই থামতে দেবেন না। বিজয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী আমি।
বিএনপির দলীয় প্রার্থী মুর্শেদ আলম দুপুর ১২ টায় বললেন, তাঁকে কেন্দ্রে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সরকার দলীয়দের প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে না। ভোট চুরি না হলে ধানের শীষ জয় ঠেকানো যাবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সুনামগঞ্জ পৌরসভায় মেয়র পদে ৩, কাউন্সিলর পদে ৪৮ এবং নারী কাউন্সিলর পদে ১৩ প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বীতায় ছিলেন। পৌরসভার ভোটার ছিলেন ৪৭ হাজার ১৫ জন।