স্টাফ রিপোর্টার
কোনো একদেশে একজনের কথায় সেদেশের সবাই চলাচল করে। সে একজন যখন বলেন ঘুমাও তখন সবাই ঘুমায়। যখন বলে এখন খাওয়ার সময় হয়ে গেছে, সবাই খাও, তখন সবাই খাওয়া শুরু করে। যখন বলে এখন আনন্দ করতে হবে তখন সবাই আনন্দ করে। এমনকি সেই একজন ব্যক্তির কথায় সবাই কাজে যায়। সবকিছু নির্ধারণ করে
দেয় সেই মাত্র একজন ব্যক্তি। হঠাৎ সে দেশে একজন বিদেশীর আগমন। সে কোন দেশে যাচ্ছে ভুলে গেছে। আগুন্তুকের মনে হলো ‘কোথায় যেনো যাচ্ছি’ দেশে যাচ্ছিলেন
তিনি। সে দেশটিই বা কোন দিকে? সবাইকে প্রশড়ব করছে। কিন্তু কেউ কোনো কথা বলছে না। সবাই একজনের কথায়, ঘুমাচ্ছে, খাচ্ছে, বসছে, খেলছে ও কাজ করছে।
শনিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সুনামগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিকাল ৫টায় প্রসেনিয়াম থিয়েটারের প্রদর্শিত নাটক মিউট- এ এমনি এক দৃশ্যের ছবি ফুটিয়ে তুলা হয়েছে।
নাটকের শেষে সবাই কেনো কথা বলছে না সেটি বলে আগুন্তুককে। একজন বলে সে সাংবাদিক ছিলো। লেখার জন্য তাকে জেলে যেতে হয়েছে। এরকম লেখক, শিল্পীসহ
সবাই চুপ থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে নাটকের শেষের দিকে।
নাটকটিতে অভিনয় করেছেন দেবাশীষ তালুকদার, শুভ তালুকদার, মাজফুজ, মাহদী, মোতালেব, নদী, রাজীব, আফতর, অর্চি, ফাতেমা, নাসির, অন্তর, অদ্রী, আলাউর, মেহেদী, হৃদয় ও নোবেল।
নাটকটি রচনা ও নির্দেশনায় ছিলেন প্রসেনিয়াম থিয়েটারের নাটকের দলনেতা দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র। নাটকের সম্পর্কে জানতে চাইলে দেবাশীষ তালুকদার শুভ্র বলেন,
নাটক মিউট আমরা ৩য় বার প্রদর্শন করেছি। আমরা মনে করি বর্তমান অবস্থার সঙ্গে আমাদের নাটকের মুল বিষয়বস্তু একইরকম। এখন কেউ চাইলেই তার কথা বলতে পারেনা। বললেই জেল। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মাধ্যমে এই রাষ্ট্র ভিনড়বমতকে দমন করছে। কোনো সুনির্দিষ্ট অপরাধ নেই তবু লেখক মুশতাক আহমেদ কে মরতে হলো জেলে থেকে। অথচ এই রাষ্ট্রে হাজার কোটি টাকা পাচারকারী, সন্ত্রাসীরা জামিন পেয়ে যায়। তাদের কিছু হয়না।
এসময় তিনি কার্টুনিস্ট কিশোরের নিঃশর্ত মুক্তি, ডিজিটাল আইন বাতিল ও লেখক মুশতাক হত্যাকারীদের বিচার দাবি করেন।