- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কোন ক্লো-ই উদ্ধার হয়নি

বিশেষ প্রতিনিধি
বাউল সম্রাট শাহ্ আব্দুল করিমের শিষ্য বাউল রণেশ ঠাকুরের গানের ঘর পুরানোর ঘটনায় কোন ক্লো-ই উদ্ধার করতে পারে নি পুলিশ। এই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় ৩ মাস আগে ফাইনাল রিপোর্ট (চূড়ান্ত প্রতিবেদন) দিয়েছেন দিরাই থানার সাব ইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম। ঘটনার এক বছর পার হলেও রনেশ ঠাকুরের পুড়ে যাওয়া ঘরের নির্মাণ কাজ এখনো শেষ হয় নি। যারা গৃহ নির্মাণের আশ্বাস দিয়েছিলেন, তাদের কেউ কেউ টাকা দিয়েছেন। অনেকে পরে আর যোগাযোগই করেন নি।
২০২০ সালের ১৭ মে দিন শেষে রাত দুইটার দিকে দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামে শাহ্ আব্দুল করিমের বাড়ির পাশে রনেশ ঠাকুরের গানের আসর ঘর পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘরে বাউল ভক্তদের নিয়ে মাঝ মাঝেই গানের আসর বসাতেন রণেশ ঠাকুর। আগুনে ঘর পুড়ার সঙ্গে সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবহৃত বাদ্যযন্ত্রও পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দেশব্যাপি সাংস্কৃতিক সংগঠকরা এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। দায়ীদের খোঁজে বের করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ গণ্যমান্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘটনাকারীদের খুঁজে বের করে শাস্তি দেবার আশ্বাস দেন। সাংস্কৃতিক সংগঠকরা দাবি করেন, যারা বিভিন্ন সময় শাহ্ আব্দুল করিমকে বাউল আসর বসাতে বাধা দিয়েছে, শাহ্ আব্দুল করিমকে হেনস্তা করার চেষ্টা করেছে। তারাই এই ঘটনা ঘটিয়েছে। দাবি দাওয়া, বিবৃতি, প্রতিবাদী কর্মসূচিতেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এই ঘটনার বিচার কাজ। দুস্কৃতিকারী বা দুবৃত্তদের হয় নি কিছুই। রণেশ ঠাকুরের মনের বেদনাও দূর হয় নি।
একবছর পর বুধবার রণেশ ঠাকুর বললেন, ঘটনাটি এখনো ভুলতে পারছি না আমরা। দাউ দাউ করে জ¦লেছিল, আগুন দেখেই মনে হয়েছিল কেউ পরিকল্পিতভাবে এই কাজ করেছে। ঘটনার পর অনেকেই নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন। আমি সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপারসহ সরকারি কর্মকর্তারা এসে সহায়তা দিয়েছেন।
তিনি জানালেন, প্রবাসী শিল্পী রবি শঙ্কর মৈত্রি, গৌরী চৌধুরী, উজ্জ্বল দাস এবং তরুণ শিল্পী আসিকসহ শুভানুধ্যায়ীদের দেওয়া অর্থে পুড়ে যাওয়া ঘরের স্থলে ৮ হাত ২২ হাতের একটি আধাপাকা ঘরের কাজ ৩ মাস আগে শুরু করেছিলেন। কিন্তু সকলের দেওয়া ৫ লাখ টাকায় ঘরের কাজ শেষ করা যায় নি। তিনি নিজেও গানের আসর থেকে পাওয়া কিছু টাকা খরচ করেছিলেন। কিন্তু কাজ শেষ হয়নি। অর্ধেক করে কাজ বন্ধ রেখেছেন। এখন করোনাকাল থাকায় গানের আসরও হচ্ছে না। নিজের খেয়ে বেঁচে চলাই দায়, ঘরের কাজ করাবেন কি দিয়ে। ওই সময়ে (ঘটনার পর) আরও কিছু হৃদয়বান বাউল ভক্ত টাকা দেবার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। পরে আর তারা আর যোগাযোগ করেন নি।
প্রসঙ্গত. রণেশ ঠাকুরের গানের আসর পুড়িয়ে দেবার পর উজানধল গ্রামের এনাম উদ্দিনের ছেলে ফরহাদ হোসেনকে পুলিশ গ্রেপ্তার করলেও সপ্তাহ্ খানেক পরেই সে জামিনে মুক্তি পায়। এই মামলায় আর কিছুই হয় নি। তিন মাস আগে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন (ফাইনাল রিপোর্ট) আদালতে জমা দেন দিরাই থানার সাবইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জহিরুল ইসলাম। গেল ২৬ মার্চ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আদালতের অনাপত্তি পত্রের চিঠি রনেশ ঠাকুরকে দিয়ে বললেন, তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে এই ঘটনার কোন ক্লো উদ্ধার করতে পারেন নি। এজন্য আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তার কোন আপত্তি থাকলে ২ দিনের মধ্যে জানানোর জন্য।
রণেশ ঠাকুর এ প্রসঙ্গে বলেন, আমার আপত্তি আছে কি-না জানতে চেয়েছেন তারা। আমি কি আপত্তি দেব। আমি কাউকে সন্দেহ করি না আগেই বলেছি, আমার কোনো শত্রু নাই সেটিও বলেছি, মামলা করেছি পুলিশ যাতে খুঁজে বের করতে পারে। আমি বলেছি আপনারা যা খুশি করেন, আমার কোন আপত্তি নাই।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা দিরাই থানার সাবইন্সপেক্টর জহিরুল ইসলাম বললেন, আমরা অনেক সময় নিয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মামলাটি তদন্ত করেছি। সন্দেহজনক ভাবে গ্রামের এক তরুণকে আটকও করা হয়েছিল। ঘর পুড়িয়ে দেবার ঘটনা সত্য, কিন্তু কারা জড়িত খুঁজে পাওয়া যায় নি, এজন্য ৩ মাস আগে আদালতে ফাইনাল রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে।

  • [১]