জাহাঙ্গীর আলম
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪০ সালের মধ্যে দেশকে তামাক মুক্ত করার ঘোষণা করেছেন। দেশে তামাক কোম্পানীগুলোকে বিজ্ঞাপন, তামাক প্রদর্শন এবং সেবনে নিরুৎসাহিত করতে সরকারী ও বেসরকারী নানান উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। কিন্তু তামাক কোম্পানীগুলো নানা কৌশলে তাদের বিজ্ঞাপনী প্রচার- প্রচারনা অব্যাহত রেখেছে। তামাকজাতদ্রব্য যেমন-বিড়ি,সিগারেট,গুল,জর্দা,সাদাপাতা ইত্যাদি ব্যবহারের ক্ষতিকর দিক প্রায় সকলেরই জানা। তামাকজাতদ্রব্য ব্যবহার ক্যানসারের অন্যতম প্রধান কারন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে যা মানবদেহের ফুঁসফুসে মারাতœক রকমের ক্ষতি সাধন করে। বিশ্বব্যাপী বৈশ্বিক মহামারী কোভিড-১৯ শুরু হওয়ার পর বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে দেখা গেছে ধুমপানের কারণে ১৪ শতাংশ মানুষের করোনায় মৃত্যু ঝুঁকি বেড়েছে। করোনাকালীন কোন কোন দেশ প্রজ্ঞাপন জারি করে ধুমপান নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ধুমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার ( নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩) এবং ২০১৫ খ্রিস্টাব্দে এ সংক্রান্ত বিধিমালা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সকল প্রকার তামাকজাতদ্রব্য এর বিজ্ঞাপন বন্ধের নির্দেশনা প্রদান করেন। কিন্তু বিভিন্ন মুদিখানা,পানের দোকান,চায়ের দোকানের সামনে তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে দেখা যায়। এমনকি বিভিন্ন বিদ্যালয়ের পাশে দোকানগুলোতে বিজ্ঞাপন প্রদর্শন করতে দেখা যায় যা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ। আদালত চত্বরে, লঞ্চঘাট, হাসপাতালের আশপাশে,নৌকা ঘাট,ফেরী ঘাট, গ্রাম্য হাট-বাজার,বাসস্ট্যান্ডের মতো পাবলিক প্লেসে ভাসমান তামাকদ্রব্য বিক্রেতাদের প্রচারণা এবং ধুমপায়ীদের প্রকাশ্যে ধুমপান করা এ যেনো নিত্তনৈমত্তিক ব্যাপার। বিড়ি,সিগারেট কোম্পানীগুলো নতুন নতুন কৌশলে তাদের প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। অধিকাংশ দোকানগুলোর ক্ষেত্রে লাল রংয়ের মধ্যে সিলভার বর্ডার দেয়া দোকানের ক্যাশ বাক্্র /সিগারেটের প্যাকেট প্রদর্শনের জন্য দিচ্ছে তামাক কোম্পানীগুলো। এতে সহজেই তাদের প্রচার হয়ে যাচ্ছে। ভাসমান দোকানগুলোর জন্য কোম্পানীর লগো এবং বিজ্ঞাপন সংবলিত বিশাল আকৃতির ছাতা দিচ্ছে আবার কোথাও কোথাও বিজ্ঞাপনী বিল বোর্ড চোখে পড়ে। বিড়ি সিগারেট বহণকারী ভ্যান গাড়ি/কাভারভ্যানে বিজ্ঞাপনে সুসজ্জি¦ত থাকে। যা সহজে মানুষের দৃষ্টি আকর্ষন করে। কোন কোন কোম্পানী সিগারেট ব্যবহারকারী ও বিক্রেতাদের জন্য পুরস্কার প্রদান করে থাকে। অথচ ২০০৫ সালে প্রণীত তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের ৫ নং ধারায় বলা আছে,স্বল্পমূল্যে জনসাধারণকে দেয়া বা এর প্রস্তাব করা,তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপণ প্রচার বা তা ব্যবহার, উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে কোনো পুরস্কার, বৃত্তি প্রদান বা কোনো অনুষ্ঠানের ব্যয়ভার বহন করা আইন বহিভূত এবং দন্ডনীয়। এই কাজের জন্য তিন মাসের জেল ও একলাখ টাকা জরিমানার কথা বলা হয়েছে আইনে। আমার জানা মতে, এই আইন বাস্তবায়নে ডব্লিউবিবি ট্রাষ্ট ও তামাক বিরোধী জোটের সহযোগী সংগঠনগুলো বিভিন্ন জেলায় কাজ করে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে সংগঠন এবং সচেতন তামাক বিরোধী ব্যক্তিগণ ই-কোর্টের মাধ্যমেও অভিযোগ দায়ের করছেন। এ ক্ষেত্রে প্রশাসন এবং জেলা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটিগুলো যথাযথভাবে আইনী প্রয়োগ নিশ্চিত করে তামাকজাতদ্রব্যের বিজ্ঞাপন বন্ধে জোড়ালো পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছি।