ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ
কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে জামালগঞ্জের সাচনা বাজারে দম ফেলার সময় নেই দা, বটি, চাকু, চাপাতি, কুড়ালসহ লোহার যন্ত্র তৈরির কারিগরদের। মুসলিম সম্প্রদায়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব ঈদ-উল-আযহা দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই ব্যস্ততা বাড়ছে কামারপল্লীতে।
এই উৎসবের মূল হচ্ছে কোরবানী। পশু কোরবানীর মধ্য দিয়ে ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় শেষ মুহুর্তের প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছেন। আর কোরবানীর এসব পশু কাটাকাটির জন্য প্রয়োজন ধারালো দা, বটি, ছুড়ি, চাপাতি। এজন্য ঈদকে কেন্দ্র করে সাচনা বাজারের কামার দোকানে ভিড় করেছেন মানুষজন। কয়লার চুলোয় আগুনের ফুলকির মধ্যে ওস্তাদ সাগরেদের লোহার উপর ছন্দময় পিটাপিটিতে মুখর হয়ে উটছে কামারের দোকানগুলো। বিরামহীন পরিশ্রম করে কারিগররা তৈরি করছেন দা, বটি, চাকু, ছুড়ি, চাপাতি, কুড়াল। অধিকাংশ দোকানীই তাদের নিজেদের তৈরি জিনিষপত্র বিক্রি করছেন। আবার অনেকে কোরবানীর পশুর চামড়া ছেঁড়ার কাজটি সহজ ও স্বাচ্ছন্দের সাথে সম্পন্ন করতে অনেকে পুরাতনগুলোকে সংস্কারের জন্য নিয়ে আসছেন কর্মকারদের কাছে।
সাচনা বাজারের কামারী কাজের সাথে জড়িত ফতেপুর ইউনিয়নের শালমারা গ্রামের সুকেশ দে, সোহেল দে, ঠাকুর দাস, শ্যামাচরন দে, প্রদীপ দে জানান, কিছু খুচরা ব্যবসায়ী তাদের তৈরিকৃত যন্ত্রপাতি পাইকারী কিনে নিয়ে উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে বিক্রি করেন। তবে কিছু মৌসুমী ব্যবসায়ী রয়েছে যারা শুধু ঈদের সময় এ ব্যবসা করেন। পশু জবাই থেকে শুরু করে রান্নার চূড়ান্ত প্রস্তুতি পর্যন্ত দা, বটি, চাকু, ছুড়ি, চাপাতি ইত্যাদি ধাতব হাতিয়ারের প্রয়োজন হয়। সেজন্য ঈদের বিপুল চাহিদার জোগান দিতে একমাস আগ থেকেই এসব যন্ত্রপাতি তৈরির কাজ শুরু হলেও শেষ মুহুর্তে এসে কাজের চাপ বেড়ে যাওয়ায় দিন রাত সমান তালে কাজ করতে হচ্ছে।
প্রায় ৩ যুগ লোহার যন্ত্রপাতি তৈরি করছেন সাচনা বাজারের রাখাল দাস কর্মকার। পূর্ব পুরুষদের পেশা হিসাবে তিনিও যুক্ত হন এ পেশায়। তিনি জানান, ঈদকে সামনে রেখে প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ হাজার টাকার যন্ত্র পাতি বিক্রি হচ্ছে। তাই অন্যান্য সময়ের তুলনায় এখন কর্মব্যস্ততা বেড়ে গেছে। পশু কোরবানির যন্ত্রপাতি তৈরীতে অনেকের ব্যস্ততা অনেকগুণ বেড়ে যায়। এদিকে কাজের চাপ বেশী থাকলেও বিদ্যুতের লুকোচুরিতে সঠিক সময়ে মালামাল ডেলিভারী দেওয়া যাচ্ছে না। এছাড়াও কয়লা সহ অন্যান্য কাঁচামালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু সে অনুযায়ী বাড়েনি জিনিসপত্রের দাম। তিনি জানান, এই পেশায় পরিশ্রমিক কম। তাই সময়ের বিবর্তনে অনেক কর্মকার জীবিকার তাগিদে পূর্ব পুরুষের পেশা ছেড়ে অন্য পেশায় চলে গেছে। সারাদিন আগুনের ফুলকির পাশে বসে কাজ করতে হয়, তবুও পূর্ব পুরুষদের রেখে যাওয়া এই পেশায় উৎসাহের কমতি নেই তাদের।
এ ব্যাপারে সাচনা বাজার বনিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আসাদ আল আজাদ বলেন, কোরবানীর ঈদ আসলেই কামারীদের টুং টাং শব্দ বেড়ে যায়। অন্য সময়ের চেয়ে এই সময়ে তাদের ব্যস্ততা বাড়ে। প্রতিদিন দোকানের সামনে অসংখ্য মানুষের ভিড় থাকে।