বিশেষ প্রতিনিধি
করোনাকালে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ, শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বা পরীক্ষা হচ্ছে না। এরমধ্যেই সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে শিক্ষার্থীদের অ্যাসাইনমেন্ট গ্রহণ, মূল্যায়ন ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের জন্য ৬০০ টাকা ফি নির্ধারণ করায় হতবাক হয়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। গত ২৪ জুন এই ফি নির্ধারণ করে কলেজ অধ্যক্ষ নোটিশ দেওয়ায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা এই নোটিশ নিয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছেও এসেছেন। এ ধরণের ফি সুনামগঞ্জের আর কোন কলেজই নির্ধারণ করে নি। কলেজ অধ্যক্ষ অবশ্য বলেছেন, ভর্তির সময় শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অন্য কলেজের চেয়ে অপেক্ষাকৃত টাকা কম নেওয়া হয়েছে, এজন্য এখন ফি নেওয়া হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ শহরে সরকারি কলেজ দুটি। একটি সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ এবং আরেকটি সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজ। সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ এই বছর প্রায় ৮০০ শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে এবং সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজে ৬৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে।
কলেজগুলো ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সকল ধরণের ফি রাখলেও করোনার জন্য শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে পারেন নি কোন কলেজের শিক্ষার্থীরাই।
গেল ১৪ জুন সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর পরাগ কান্তি দে স্বাক্ষরিত শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষেও একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, তাদের অ্যাসাইনমেন্ট, বিতরণ, গ্রহণ, মূল্যায়ন ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রত্যেক ছাত্রীকে ৬০০/= (ছয়’শ টাকা) শিওর ক্যাশের মাধ্যমে আগামী ২৪ জুন অর্থাৎ আজ বৃহস্পতিবারের মধ্যে জমা দিতে হবে।’
এই নোটিশ পেয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকেই ক্ষুব্ধ ও হতবাক হন। একজন অভিভাবক এই প্রতিবেদকের ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে এই নোটিশ পাঠিয়ে লিখেন, ‘আমরা বিবেক বর্জিত বিচার হীনতার সমাজে বাস করছি, করোনায় ছেলে- মেয়েদের পড়াশুনার পাঠ চুকে গেছে, কম বয়সে নিজের মেয়েকে বিয়ের পিড়িতে বসাচ্ছেন অনেকে, এরমধ্যেই বিনা কারণে ফি’ নেবার বিষয়টি বড় কষ্টের, সরকারি কলেজে মেয়েকে পড়াচ্ছি, অ্যাসাইনমেন্টের কাগজ-কলম সব আমরা দেব, শিক্ষকদেরও সরকার বেতন দিচ্ছে, এরপরও অ্যাসাইনমেন্ট জমা বা মূল্যায়নের জন্য কিসের ফি চান তারা।’
সুনামগঞ্জ পৌর কলেজের অধ্যক্ষ শেরগুল আহমদ বললেন, অ্যাসাইনমেন্ট, বিতরণ, গ্রহণ, মূল্যায়ন ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কোন ফি রাখার নির্দেশনা নেই, আমরাও রাখি নি।
শাল্লা কলেজের সহযোগি অধ্যাপক মিহির রঞ্জন দাসও একই কথা বললেন।
সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ নীলিমা চন্দ জানালেন, সরকারি কলেজে পরিবহন সুবিধা দেওয়ায় পরিবহন খাতে ৩০০ টাকা এবং অত্যাবশ্যক কর্মচারী খাতে ৭০০ টাকাসহ কলেজে ভর্তির সময় মানবিক বিভাগের ছাত্রদের জন্য ২২০৩ টাকা এবং বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্রদের জন্য ২৩০৩ টাকা রাখা হয়েছে। ছাত্রীদের ক্ষেত্রে মানবিক বিভাগে ১৯৬৩ এবং বিজ্ঞান বিভাগে ২০৬৩ টাকা রাখা হয়েছে। অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমসহ সব খরচ এই ভর্তির টাকা থেকেই করা যাচ্ছে। অ্যাসাইনমেন্ট, বিতরণ, গ্রহণ, মূল্যায়ন ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য টাকা গ্রহণের কোন নির্দেশনা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক দেওয়া হয় নি। কারো রাখারও কথা নয়।
সুনামগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর পরাগ কান্তি দেব বললেন, একাদশে শিক্ষার্থী ভর্তির সময় অভিভাবকদের উপর চাপ কমাতে অন্য কলেজ থেকে কিছুটা কম ১৬৫০ টাকা রাখা হয়েছে। এজন্য অ্যাসাইনমেন্ট, বিতরণ, গ্রহণ, মূল্যায়ন ও পরবর্তী প্রয়োজনীয় কার্যক্রম পরিচালনার জন্য প্রত্যেক ছাত্রীকে ৬০০ টাকা দিতে বলা হয়েছে। ভর্তির সময় এই টাকা রাখলে এখন আর দিতে হতো না। অভিভাবক বা শিক্ষার্থীদের চাপ কমাতে আমরা আগে এটি রাখি নি। তাদের আপত্তি থাকলে পরের বছর থেকে ভর্তির সময়ই আমরা নেব। ভর্তিও সময় নিলে কলেজের জন্যও ভালোই হয়। ভর্তির সময় টাকা নিলে সকল শিক্ষার্থীর কাছ থেকেই নেওয়া যায়। পরে অনেকেই পরীক্ষা বা অ্যাসাইনমেন্ট কার্যক্রমে অংশ নেয় না, টাকাও পাওয়া য়ায় না।