- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

কয়লা আমদানি সাময়িক শুরু স্থায়ী সমাধানের দিকে এগোনো জরুরি

বড়ছড়া, বাগলি ও চারাগাঁও শুল্কস্টেশন দিয়ে পুনরায় কয়লা আমদানির খবর এতদঞ্চলের অর্থনীতির জন্য একটি সুখবর নিঃসন্দেহে। উভয় দেশের আমদানি-রফতানিকারক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে বর্ণাঢ্য আনুষ্ঠানিকতায় বুধবার কয়লা আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন। মেঘালয় রাজ্যের পরিবেশ আদালতে ওই রাজ্যের একটি ছাত্র সংগঠনের দায়ের করা মামলায় নিষেধাজ্ঞা জারি করায় গত দুই বছর ধরে এই শুল্কস্টেশনগুলো দিয়ে কয়লা আমদানি-রপ্তানি একটি কঠিন সংকটের মধ্যে পড়ে গিয়েছে। উভয় দেশের ব্যবসায়ীরা আদালতের সাময়িক আদেশ নিয়ে মজুদকৃত কয়লা রপ্তানি করার আদেশ পান মাঝে-মধ্যে, মেয়াদ শেষে পুনরায় কয়লা নামা বন্ধ হয়ে পড়ে। এই হয়ে আসছে গত দুই বছর ধরে। এবারও সমস্যাটির স্থায়ী সমাধান হয়নি। এবারও আদালত মজুদ কয়লা রপ্তানির অনুমতি দিয়েছেন আগামী ৩১ মে পর্যন্ত। অর্থাৎ সামনের ১ জুন থেকে আবারও এই ব্যবসায় ধস নেমে আসবে। সুতরাং বুধবার থেকে শুরু হওয়া কয়লা আমদানি শুরু আমাদেরকে সাময়িকভাবে স্বস্তি দিলেও এটির স্থায়িত্ব পাচ্ছে না। বিষয়টির স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আদালত কোন দিক নির্দেশনাও দিচ্ছেন বলে জানা যায় না। মেঘালয় রাজ্যের রপ্তানিকারকরাও স্থায়ী সমাধানের পথে হাঁটছেন এমন আভাস পাওয়া যায় না।
কয়লা একটি প্রাকৃতিক সম্পদ যা আহরণের মাধ্যমে বিক্রয়যোগ্য পণ্যে পরিণত করলেই কেবল এটি সম্পদরূপে বিবেচিত হতে পারে। তবে আহরণের কাজটি হতে হবে পরিবেশসম্মত উপায়ে। মেঘালয়ের পরিবেশ আদালত পরিবেশ সুরক্ষা করে কয়লা আহরণের কথা বলেছেন নাকি এই বিষয়ে আদৌ কোন নির্দেশনা নেই, সেসব বিষয়ে আমরা অন্ধকারেই রয়েছি। কোন দেশের ব্যবসায়ীরাই আদালতের মূল আদেশটি প্রকাশ করছেন না। অন্যদিকে এই বিষয়টিকে কোন দেশের সরকারই জাতীয়ভাবে গ্রহণ করেননি। ফলে স্থানীয় উদ্যোগ ভিন্ন এখানে আর কোন তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে না। আমরা বরাবরই বলে আসছিলাম উভয় দেশের ব্যবসায়ীদের উচিৎ কয়লা আহরণ বিষয়ে সরকারকে সংশ্লিষ্ট করা এবং পরিবেশ সুরক্ষা নিশ্চিত করে উত্তোলনের ব্যবস্থা করা। এটি না হওয়া পর্যন্ত মেঘালয়ের কয়লা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটবে না।
সুনামগঞ্জের তিন শুল্ক স্টেশনে প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে প্রায় ৫০ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হচ্ছে। কয়লা ব্যবসায়ের মাধ্যমে সুনামগঞ্জে নতুন একটি বিত্তশালী শ্রেণির জন্ম হয়েছে যারা নানাভাবে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। যারা প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন তারা ভিন্ন শ্রম নির্ভর কাজ করে যারা জীবিকা নির্বাহ করছিলেন সেই বৃহৎ অংশটি কয়লা আমদানি বন্ধ হলে কর্মহীন হয়ে পড়েন। তাদের জীবনে তখন নেমে আসে দুর্বিসহ কষ্ট। এদের জীবিকার সুরক্ষা প্রদান করা রাষ্ট্রের অপরিহার্য দায়িত্ব। ঠিক এ কারণেই সরকারি দায়িত্বশীলদের আন্তঃরাষ্ট্রিক সমন্বয় সাধন এখন জরুরি হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত সংলগ্ন এবং মান ভাল হওয়ার কারণে মেঘালয়ের কয়লার বাজার বেশ ভাল ছিলো। কিন্তু চলমান সংকটের কারণে এখন ব্যবসায়ীরা অন্য দেশের কয়লা আমদানি করছেন। ওইসব কয়লা মেঘালয়ের কয়লার চেয়ে মানে খারাপ। অন্য দেশের কয়লা আমদানিতে জড়িয়ে পড়ছে দেশের মধ্যম সারির ব্যবসায়ী গ্রুপ। বড় পূঁজির আগ্রাসনে সুনামগঞ্জের ছোট ছোট পূঁজিওয়ালারা জাতীয় পর্যায়ের নীতিনির্ধারকদের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হচ্ছেন বলেই আমাদের কাছে মনে হচ্ছে।
বরাবরের মতো এখনও আমরা সুনামগঞ্জের সংসদ সদস্যবৃন্দ ও চেম্বার নেতৃবৃন্দকে কয়লা ব্যবসার স্থায়ী সমাধানের দিকে প্রচেষ্টা নিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানাই। সুনামগঞ্জের অর্থনীতির অন্যতম একটি চালিকাশক্তি কিছু পদ্ধতিগত জটিলতায় বন্ধ হয়ে গেলে তা হবে পীড়াদায়ক। মূল কাজ হলো মেঘালয়ের পরিবেশ আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা লাভ করা যেখানে পরিবেশসম্মত উপায়ে কয়লা আহরণের পদ্ধতি বর্ণিত থাকবে।

  • [১]