- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ক বি তা

দুর্গাপ্রতিমা
তামান্না আহমেদ লীনা

সুরমা নদীতীরে হাঁটতে হাঁটতে আনমনে
আকাশের দিকে তাকিয়ে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে
এক সময়ের দাপুটে কিশোরী।
তার আনন্দ বিনোদন ছিল এই নদীতীর
কয়টা ছেলে মেয়ে পানি নিয়ে খেলছে
দু’জন নারী কাপড় কাচছে
লালচে আকাশ জানান দিচ্ছে সূর্যাস্তে সূর্যের শক্তি
আর আলোর বিচ্ছুরনে আছে সোনালি আভা
গোলাপি সাজগোঁজ করে আছে সময়
কেউ কাউকে দেখিয়ে বলছে না
এই হচ্ছে এক সময়ের দুর্গাপ্রতিমা
আসলে প্রতিমা নির্মাণের মানুষগুলোই ধ্বংসের নিমিত্ত
একদা পূজিত, নন্দিত, কাক্সিক্ষত হয়েও
প্রতিমা বিসর্জন দিতে হয়
কালের বিবর্তনে টিলা ঘাটের এবড়ো থেবড়ো পাথরের মতো
সময়ের দংশনে ভগ্ন দালানের মত
এক সময়ের দুর্গাপ্রতিমা
পূর্ব পুরুষেরা কেউ কোথাও নেই
উত্তর পুরুষেরা ব্যস্ত জীবিকা নির্বাহের নানান কাজে
শুধু ভগ্নপ্রতিমা একাকী ঠায়ে দাঁড়িয়ে সুরমার সূর্যাস্তে
জলে নেমে প্রতিমা তাকায় পশ্চিমে
আসলে যে গল্পের অনেক ওজন
তার কোনও স্বজন নেই
কেউ নেই, কোথাও কেউ নেই
আছে কেবল অন্তরীক্ষ, শূন্যতা ,
আর হৃদয় বিদীর্ণ করা
বোবা কান্না আর হৃদয় বিদীর্ণ ‘আহা’

সোনালী রোদ
পূর্ণা রায় ভৌমিক

ছৈ ছাওয়া নৌকায় আমার সোনালি রোদ;
ঘুরে ঘুরে ক্লান্ত, শ্রান্ত, ঢুল খায়, হাসায়, কাঁদায়।
ভোরের আবছায়া প্রেম উড়ায়;
ফিকে হয়ে যাওয়া লাল রঙের পাল।
মাঝির মাঝবয়েসী চুলেও যেন সোনালি আভা,
হয়তো;
সেও কোনোদিন ছৈ ছাওয়া নৌকার; যাত্রী ছিলো,তা ও;
হয়তো;
কোনোকালে,
ভাবতে ভাবতেই খেই হারা,
হয়তো;
খেসারত দিচ্ছে;
জ্বলে যাওয়া কোনো দুপরের,
হয়তো;
কপালে জমেছে ভাঁজ;
শুধুই লগির জোরে,
ঠাঁই খোঁজে তাই আজো,
হয়তো;
সুরমা থেকে কালনি, বৌলাই, রক্তি,
যাদুকাটার বুক চিড়ে লিখে রাখে
অগণতি কথার হিসাব,
হয়তো;
ঢেউয়ের তোরে নেচে বেড়ায় কথা; হয় কাহিনী,
সন্ধিক্ষণের টুকিটাকিতে জমে থাকে অষ্ফুট আর্তনাদ;হিসেব
জমে, জমতেই থাকে,
পলি জমে ওঠে যেমন নদী র বুকে ;
কেউ খোঁজ রাখে; কেউ রাখে না।

  • [১]