- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

খসড়া আইনে মন্ত্রী পরিষদের অনুমোদন

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন সোমবার মন্ত্রী পরিষদের সভায় অনুমোদন পেয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রী পরিষদের বৈঠকে সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের আইনের খসড়া অনুমোদন হয়। জাতীয় সংসদের আগামী অধিবেশনে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পেশ করা হবে। সংসদে অনুমোদনের পরই বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের কার্যক্রম শুরু হবে।
সুনামগঞ্জ জেলাবাসীর বহুদিনের দাবি সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের খসড়া আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাভ করার সংবাদে সুনামগঞ্জ জেলাবাসী আনন্দিত। আগামী ৫ জানুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়ে জেলা শহরে শোভাযাত্রা বের হবে। সোমবার তাৎক্ষণিক দক্ষিণ সুনামগঞ্জ ও জগন্নাথপুর উপজেলা সদরে আনন্দ মিছিল হয়েছে।
সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে প্রতিক্রিয়ায় জানালেন, আমরা আবেগে আপ্লুত, সুনামগঞ্জের মানুষের আরেকটি স্বপ্ন বাস্তবায়ন হতে চলেছে,
অভিনন্দন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও পরিকল্পনামন্ত্রীকে। হাওরবাসী কৃতজ্ঞ তাঁদের কাছে।
সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি, সুনামগঞ্জ সরকারী কলেজের ৭৫ বছর পূর্তি উৎসব উদ্যাপন কমিটির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হুমায়ুন মঞ্জুর চৌধুরী বলেন, মন্ত্রী পরিষদ সভায় সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের খসড়া আইন অনুমোদনের সংবাদটি পুরো জেলাবাসীর জন্য আনন্দের। আকাঙ্খিত এই প্রতিষ্ঠানটি হলে এই অঞ্চল আলোকিত হবে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। জনপদের ব্যাপক উন্নয়ন ঘটবে। শিক্ষা-দীক্ষার প্রতি আগ্রহ বাড়বে প্রজন্মের।
সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল আহাদ বলেন, আমি এই জেলার জেলা প্রশাসক হিসাবে অত্যস্ত খুশী। আমি যোগদান করার পরই বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল’এর প্রকল্প একনেক সভায় অনুমোদন লাভ করেছিল। ওই সময় সুনামগঞ্জবাসীর আনন্দের সঙ্গে আমরা যুক্ত হয়েছি আনন্দ শোভাযাত্রার মাধ্যমে। এবার বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় হবার পথও সুগম হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও মাননীয় পরিকল্পনা মন্ত্রী’র প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আগামী ৫ জানুয়ারি আনন্দ শোভাযাত্রা করার তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নিয়েছি আমরা। আশা করি সকলের অংশগ্রহণ থাকবে এই আনন্দ শোভাযাত্রায়।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি বলেন, আমি নি¤œবিত্ত পরিবারের মানুষ। অতিকষ্টে পড়াশুনা করেছি। আমার অঞ্চল অর্থাৎ অপেক্ষাকৃত অবহেলিত হাওরাঞ্চলবাসীর স্বপ্ন এই অঞ্চলে একটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয় হওয়ার। একটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল হবে। মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে। কাজ শুরু হয়েছে বঙ্গবন্ধু মেডিকেল কলেজ সুনামগঞ্জ’এর। সোমবার মন্ত্রী পরিষদের সভা শুরুর আগে আমি অন্য মন্ত্রীগণকে অনুরোধ করেছি, তাঁরা যাতে আমার এলাকার মানুষের আখাক্সক্ষা পূরণে সহানুভূতিশীল থাকেন। মন্ত্রী পরিষদের সভায় প্রস্তাবটি শিক্ষা সচিব উপস্থাপনের পর শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি অকুণ্ঠ সমর্থন জ্ঞাপন করেন। পরে অন্য মন্ত্রীগণও সমর্থন জানান। আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে বক্তব্য দেই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেছেন, আমি জানি হাওরাঞ্চলের মানুষ বঞ্চনা ও অবহেলার শিকার। এমএ মান্নান তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করছেন। তিনি (মাননীয় প্রধানমন্ত্রী) বলেন, আমরা সুনামগঞ্জ তথা হাওরাঞ্চলবাসীর বঞ্চনা ঘুচানোর চেষ্টা করছি। তাঁদের দীর্ঘ দিনের দাবি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ও বাস্তবায়ন হবে। আমি আবেগে আপ্লুত হয়ে তাৎক্ষণিক কয়েক লাইনের কবিতায় বঙ্গবন্ধু’র জ্যেষ্ঠ কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে সালাম জানাই।
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৪ অক্টোবর একনেক সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে তৎকালীন অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী এম এ মান্নান তাঁর নিজ জেলা সুনামগঞ্জে একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবি তুলেন। সভায় উপস্থিত ওই সময়ের শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ এতে সমর্থন জানান। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনে সম্মতি প্রকাশ করেন। পরে অর্থ ও পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী একটি বেসরকারি চাহিদাপত্র (ডিও লেটার) দেন শিক্ষামন্ত্রীর কাছে। ডিও লেটারে প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকার দেশের শিক্ষাখাতে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জন করেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সারা দেশে নতুন স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনসহ শিক্ষার মানোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সুনামগঞ্জ জেলা বাংলাদেশের একটি পশ্চাৎপদ এলাকা। শিক্ষায় তুলনামূলক ভাবে পিছিয়ে পড়া এই অঞ্চলে উচ্চশিক্ষা গ্রহণে কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় নেই। পিছিয়ে থাকা সুনামগঞ্জ জেলার শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষার মানোন্নয়নে একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন জরুরি।
পরে সরকারের উচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন সুনামগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের খসড়া আইন প্রস্তুত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ডেপুটি ডিরেক্টর মৌলি আজাদের নেতৃত্বে কমিটি করে দেয়। গেল বছরের (২০১৮ সালে) জানুয়ারি মাসেই এই খসড়া আইন প্রস্তুত হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন আইনটি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেয়।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব সৈয়দ আলী রেজা এই খসড়া আইনটি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করেন।
যেহেতু এটি একটি স্বতন্ত্র আইন। অন্য কোন মন্ত্রণালয়ের বা অন্য কোন আইনের ধারা উপধারা অনুচ্ছেদ বা উপ-অনুচ্ছেদের বক্তব্য বা মতামতের সাথে সাংঘর্ষিকতা আছে কী-না, তা যাচাই-বাছাই করার জন্যই বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে এই খসড়া আইন পাঠানো হয় এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোর অভিমত নেওয়া হয়।
পরে বাংলাদেশ ভাষা কোর্স (বাভাকো)’ থেকে এ আইনের প্রমিত শব্দ চয়নের ব্যাপারে সুপারিশ নেওয়া হয়। সুপারিশের প্রেক্ষিতে আইনটি’র শব্দ’র পরিবর্তন-পরিমার্জন করে গত সপ্তাহে মন্ত্রী পরিষদ বিভাগে পাঠালে আজ সোমবার মন্ত্রী পরিষদের সভায় আইনের খসড়া অনুমোদন লাভ করে।
পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান এমপি জানান, নতুন বছরের প্রথম সংসদ অধিবেশনে আইনটি পাস করার জন্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করা হবে।

  • [১]