সিলেট অফিস
সিলেটের কলেজছাত্রী খাদিজা বেগম হত্যাচেষ্টার আলোচিত মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে। গত রবিবার সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলার যুক্তিতর্ক শেষে বিচারক আকবর হোসেন মৃধা রায়ের তারিখ ধার্য করেন।
সিলেটের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মিসবাহউদ্দিন সিরাজ জানান, আজ বেলা সাড়ে ১১টায় রায় ঘোষণা করার কথা রয়েছে। যুক্তিতর্ক শেষে এক আদেশে বিচারক আলোচিত এ মামলার রায় বাংলায় লিখে বাংলায় ঘোষণা করার কথা জানিয়েছেন।
গত ১ মার্চ
সিলেটের মুখ্য মহানগর বিচারিক হাকিম আদালত মো. সাইফুজ্জামান হিরোর আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে মামলাটি স্থানান্তর হলে যুক্তিতর্ক সম্পন্ন হয়। গত ২৬ ফেব্রুয়ারির এ আদালতে মামলার ৩৭ জন সাক্ষীর মধ্যে সর্বশেষ সাক্ষী হিসেবে খাদিজার সাক্ষ্য গ্রহণ হয়।
গত বছরের ৩ অক্টোবর এমসি কলেজের পুকুরপাড়ে সিলেট সরকারি মহিলা কলেজের ডিগ্রি (পাস) কোর্সের শিক্ষার্থী খাদিজা বেগমকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনিয়মিত ছাত্র ও ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুল আলম। খাদিজার চাচা সিলেট সদর উপজেলার আউশা গ্রামের বাসিন্দা আবদুল কুদ্দুস বাদী হয়ে মহানগর পুলিশের শাহপরান থানায় বদরুলকে একমাত্র আসামি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে মামলা করেন।
৫ অক্টোবর বদরুল আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। ঘটনার এক মাস পাঁচ দিনের মাথায় শাহপরান থানার উপপরিদর্শক হারুনুর রশিদ গত বছরের ৮ নভেম্বর একমাত্র বদরুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করলে ২৯ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।
সিলেট সদর উপজেলার হাউসা গ্রামে খাদিজার বাড়ি। তাঁর বাবা মাসুক মিয়া সৌদিআরবপ্রবাসী। খাদিজাকে বদরুলের কোপানোর ভিডিওচিত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে দেশজুড়ে চাঞ্চল্য দেখা দেয়। বদরুলের দ্রুত বিচারের দাবিতে সিলেটসহ সারা দেশে প্রতিবাদী নানা কর্মসূচি পালিত হয়।
মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত বদরুলের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার মুনিরজ্ঞাতি গ্রামে। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী (অনিয়মিত) ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক বদরুলকে এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্থায়ীভাবে বহিস্কার করা হয়।