পটকাবাজরা মওকা পেয়ে গেছে। এরা ঝুপ বুঝে কুপ মারা শুরু করেছে। এদের বৈশিষ্ট্যই এরকম। এরা কতিপয় ব্যবসায়ী। এবার জেলার হাওর ডুবির সুযোগ লুফে নিয়েছে কিছু চাল-আটা ব্যবসায়ী। জেলার বিভিন্ন বাজারে এরা চাল ও আটার দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। কোন কারণ ছাড়াই। বাজারে মজুদের কোন ঘাটতি নেই। সরবরাহ লাইন বিঘিœত হয় নি। দাম বাড়ার বাস্তব কোন কারণ নেই। কিন্তু তারপরেও তারা দাম বাড়িয়েছে। ৫০ কেজির বস্তায় ৩ থেকে ৫ শ’ টাকা। নানাস্থানে প্রশাসন নিজেদের সীমিত ক্ষমতা নিয়েই এই দাম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেছেন। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে কয়েকজনকে আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। মাইকিং করা হচ্ছে অতিরিক্ত দাম না বাড়ানোর। কিন্তু চোরা না শুনে ধর্মের কাহিনি। প্রশাসনিক তৎপরতার পর এরা বাজার থেকে চাল গায়েব করে দিয়েছে। এটাই এদের কৌশল। কৃত্রিম সংকট তৈরি করে বাজার থেকে নিংড়ে নেয় সর্বোচ্চ মুনাফা। ফসলহারা কৃষক যখন এমনিতেই চোখে শর্সে ফুল দেখছেন তখন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে এসেছে এই চাল-আটার মূল্য বৃদ্ধি। আমাদের কাছে মনে হয় বাজারের এই লুটেরা মনোভাব পরিবর্তন করা যাবে না প্রচলিত প্রশাসনিক তদারকি দ্বারা। এজন্য বিকল্প সরবরাহ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। বাড়াতে হবে ওএমএস ও ফেয়ারপ্রাইস কার্ডে খাদ্য বিক্রির পরিমাণ। অন্যদিকে কাবিখা, কর্মসৃজন এমন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীগুলোর ব্যাপকতা অনেক বাড়াতে হবে। মূলত ফসলহারা মানুষকে সামনের একটি বছর অন্ন জুগিয়ে যেতে হবে সরকারকেই। নতুবা লুটেরা বাজার অর্থনীতি এদের বাঁচতে দিবে না।
ফসলহারা কৃষকদের অবস্থা এমন হবে সামনের দিনগুলোতে যখন হাতের নাগালে চাল-আটাসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস পর্যাপ্ত থাকলেও তারা টাকার অভাবে সেগুলো কিনতে পারছে না। এমনকি দাম যদি কম থাকে তাহলেও না। কাজ খুঁজে খুঁজে হয়রাণ হবে কৃষক। কিন্তু কোথাও কাজ পাবে না। কাজের খুঁজে এলাকা ছাড়বে তারা। সস্তায় বিকোতে চাইবে শ্রম। কিন্তু এত ক্ষেত্র কোথায়? আর আমাদের কৃষকদের বেশিরভাগই কৃষিকাজ ছাড়া আর কোন কাজ শিখেন নি। এই কৃষিকর্ম ছাড়া আর কোন কাজ না জানা হতভাগ্য মানুষগুলো যাবে কই? এরা তাকিয়ে থাকবে সরকারের মুখের দিকে। সরকার নিশ্চয়ই এই মহাসংকটে মুখ ফিরিয়ে রাখবে না, এই তাদের একমাত্র ভরসা। সরকার তার কোন একটি এলাকার মানুষকে দলে দলে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিবে না। সরকার নানাভাবে নিশ্চয়ই এই ভাগ্যবিড়ম্বিত ব্যক্তিগুলোকে বাঁচাতে যথাসাধ্য করবে। সরকারের এই মানুষ বাঁচানোর কাজ শুরু করতে হবে এখনই-কোন ধরনের বিলম্ব না করে।
আগামী ফসল উঠা পর্যন্ত সরকারি সহায়তা চালু রাখতে হবে। কৃষকদের ঋণ আসলসমেত মওকুফ করে দিতে হবে। এক্ষেত্রে এনজিও ঋণকেও অন্তর্ভূক্ত করা একান্ত প্রয়োজন। কারণ সুনামগঞ্জের কৃষি ব্যবস্থার উপরই যাবতীয় পেশা প্রত্যক্ষ-পরোক্ষভাবে নির্ভরশীল। কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হলে অপরাপর পেশাও প্রচ-ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ন্যুনতম খাদ্যসহায়তা বিনা পয়সায় এবং ক্ষেত্রবিশেষে স্বল্পমূল্যে চালিয়ে যেতে হবে। সামনের ফসল মৌসুমে বীজ, সারসহ সবধরনের উপকরণাদি দিতে হবে যথেষ্ট পরিমাণে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতি এখন যথেষ্ট শক্তিশালী। পরিসংখ্যান এর স্বাক্ষ্য দেয়। তাই একটি বা কয়েকটি জেলার মানুষ সহায়তার অভাবে বিপন্ন হবে এমনটি আমরা মনে করছি না।
যারা বাজারে অহেতুক অরাজক অবস্থা তৈরি করেছে ওইসব ব্যবসায়ী নামক লুটেরাদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে। বাজার মনিটরিং অনেক শক্তিশালী করে বর্তমান প্রশাসনিক তদারকি জোরদার রাখতে হবে। ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দকে দায়িত্ব নিতে হবে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার।