- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

খাদ্য সহায়তার নানা ব্যবস্থাগুলোর ব্যাপক সম্প্রসারণ প্রয়োজন

খোলা বাজারে চাল বিক্রয় কেন্দ্রে (ওএমএস) প্রতিদিনই চাল ক্রেতা নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন এবং দিনশেষে অনেকের চাল কিনতে না পারার খবর প্রতিটি বিক্রয়কেন্দ্র থেকে পাওয়া যাচ্ছে। অনেকে এমনও বলছেন, তিন/চার দিন লাইনে দাঁড়িয়েও তারা চাল কিনতে পারেন নি। বিক্রয়কেন্দ্রগুলো খোলা হয় সাধারণত সকাল ৯ টায়। কিন্তু সেখানে লাইন লেগে যায় রাত তিন টা/চার টা থেকেই। এ হলো ওএমএস কেন্দ্রগুলোর আশপাশের মানুষের অবস্থা। কিন্তু প্রত্যন্ত জায়গা যেখানে কোন বিক্রয়কেন্দ্র নেই সেখানকার মানুষরা সরকারের এই স্বল্পমূল্যের চাল ক্রয়ের কোন সুবিধাই পাচ্ছেন না। এরকম অবস্থায় সকলে দাবি করছেন ওএমএস’র কেন্দ্র ও বরাদ্দকৃত চালের পরিমাণ বাড়ানোর জন্য। জেলা প্রশাসক অবশ্য জানিয়েছেন বিদ্যমান সংখ্যার সমপরিমাণ অতিরিক্ত বিক্রয়কেন্দ্র চালু করা হবে। এখন সারা জেলায় ৪৫টি কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৪৫ টন চাল ও ৪৫ টন আটা বিক্রয় করা হয়। আটার চাহিদা কম থাকায় সাধারণত: চাল কিনতেই কেন্দ্রগুলোতে লোকজন আসছেন। ৪৫টি কেন্দ্র থেকে জনপ্রতি ৫ কেজি করে মোট ৯ হাজার লোককে চাল সরবরাহ করা সম্ভব হয়। ওএমএস’র সংখ্যা দ্বিগুণ হলে এখানে ১৮ হাজার লোককে চাল দেয়া সম্ভব হবে। কিন্তু আমাদের জেলায় বোরো ফসল হারানোয় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রকৃত পরিসংখ্যান কি? একটি সরকারি হিসাব পাওয়া যায় গতকালকের দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে। সেখানে কৃষি বিভাগের উপ পরিচালক বলছেন জেলায় ক্ষতিগ্রস্ত বোরো চাষী পরিবারের সংখ্যা ২ লাখ ৭৭ হাজার ১৮৮ টি। অন্যদিকে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার দেয়া তথ্য মোতাবেক ক্ষতিগ্রস্ত জেলে পরিবারের সংখ্যা ৪৪ হাজার ৪৪৫ টি। এই উভয় ক্যাটাগরিতে মিলিয়ে মোট ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সংখ্যা হয় ৩ লাখ ২১ হাজার ৬৩৩ টি। সরকারি এই হিসাবটি আমলে নিলে প্রতিদিন (পরিবার পিছু ৫ কেজি চাল হিসাব করে) প্রায় ১৪৬২ টন চাল প্রয়োজন হয়। জেলা প্রশাসকের কথা মত ও¥এমএস কেন্দ্র দ্বিগুণ করলেও দেয়া সম্ভব হবে প্রতিদিন ৯০ টন। অর্থাৎ চাহিদার ১০ শতাংশও এই সরবরাহ ব্যবস্থার মাধ্যমে পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এই পরিসংখ্যান থেকেই বাস্তবতার ভয়াবহতা সম্পর্কে কিছুটা আঁচ করা যায়।
ফসল হারানোর প্রেক্ষিতে সরকার দেড় লাখ পরিবারকে ভিজিএফ কর্মসূচীর ন্যায় খাদ্য সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন। কিন্তু প্রচলিত ভিজিএফ তালিকার নীতিমালার আওতায় এই ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার নির্ধারণের ফলে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের একটি বড় অংশ এর বাইরে থেকে যাবেন। সরকারের দায়িত্বশীলরা বলছেন, হাওরের কেউ খাদ্যের অভাবে ভুগবেন না। সরকারের এই মনোভাব বাস্তবায়ন করতে হলে সহায়তা ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। সরকার গতানুগতিকভাবে সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীর আওতায় এখন যে সহায়তা দিচ্ছেন সেই হিসাবের বাইরে রাখতে হবে ফসল হারানো কৃষকদের। ফসল হারানো কৃষকদের খাদ্য সহায়তা ও অন্যান্য সহযোগিতার পৃথক হিসাব করে চাহিদা নিরূপণ করতে হবে। সরকারের প্রতিটি সংস্থাকে এখন গা ঝাড়া দিয়ে আন্তরিকতার সাথে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে তালিকাভূক্ত করতে হবে। ইউনিয়ন পরিষদের দেয়া তালিকাকে চূড়ান্ত বিবেচনা না করে তাদের সহায়তায় সরকারি কর্মকর্তাদের মাধ্যমে গ্রামে গ্রামে গিয়ে এই তালিকা তৈরি করতে হবে। ওএমএস’র চাল বিক্রয়কে উপজেলা সদরের পরিবর্তে প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যেতে হবে যাতে একজন কৃষককে ৭৫ টাকার চাল কিনতে যাতায়াত খরচ আরও ৭৫ টাকা পকেট থেকে না খুয়াতে হয়। প্রয়োজনবোধে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের মাঠ কর্মচারী ও শিক্ষকদের মাধ্যমে সরাসরি জনগণের মধ্যে চাল বিক্রির ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।    

  • [১]