- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

খাবারের খবরে অভাবীদের ভিড়

জগন্নাথপুর অফিস
বন্যার্তদের মধ্যে খাবার বিতরণ করা হবে এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সকাল থেকে বৃদ্ধা, বনিতা, শিশু কিশোর, নারী পুরুষসহ সহ¯্রাধিক অভাবী মানুষের ঢল নামে জগন্নাথপুর পৌরশহরে। স্বাধীন বাংলার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রয়াত জাতীয় নেতা জগন্নাথপুরের কৃতিসন্তান আবদুস সামাদ আজাদের ১২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথপুর পৌরবাসীর ব্যানারে বন্যার্তদের মধ্যে বৃহস্পতিবার দুপুরে খাবার বিতরণের আয়োজন করা হয়। আয়োজকরা গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় এ বিষয়টি প্রচার করেন।   
এ খবর চারিদিকে ছড়িয়ে পড়লে ভোর রাত থেকেই অভাবপীড়িত লোকজন পৌরসভার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।  
খাবার নিতে আসা উপজেলা সদরের করিমপুর গ্রামের   হতদরিদ্র আলেয়া বেগম বেলা দুই ঘটিকার সময় এ প্রতিবেদককে জানান, খাবার বিতরণ করা হবে শুনে সকালে এসেছি। এখনো অপেক্ষা করছি। কিছুক্ষণের মধ্যে দেয়া হবে বলে শুনেছি। তিনি জানান, এবার ফসলডুবির কারণে ধান গোলায় তুলতে পারেনি। আমরা খুবই অভাব অনটনের মধ্যে আছি।  
আরেক নারী সুরত বিবি জানান, পরিবারের ৫ সদস্য নিয়ে খুবই কষ্টের মধ্যে আছি। ওএমএস’র চাল কেন্দ্রে ৮ দিন গিয়েও চাল পাইনি। শুধু শুধু লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট ও দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। এখন আর চাল কেন্দ্রে যাই না। খাবার দেয়া হবে শুনে সকালে এসেছি।
এরকম শত শত.লোকজন জানিয়েছেন তাদের দুঃখ কষ্টের কথা।  
জগন্নাথপুর পৌরসভার মেয়র হাজি আবদুল মনাফ জানান, অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে হাওরের ফসলডুবির পর, মাছ ও  হাঁসে মড়ক দেখা দেয়ায়  হাওরপাড়ের লোকজনের মধ্যে হাহাকার চলছে। এর মধ্যে কাল বৈখাশী ঝড়ের তান্ডব। ভাল নেই এখানকার মানুষজন। আমরা জাতীয় নেতা মরহুম আবদুস সামাদ আজাদের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জগন্নাথপুরের ৩ হাজার বন্যার্তকে আখনি প্যাকেট বিতরণ করেছি।  
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ হাওর জগন্নাথপুরের নলুয়ার হাওরসহ ছোট বড় সব’কটি হাওরের কাঁচা ফসলহানির পর মরে গেল হাওরের মাছ। হাঁসেও দেখা দেয় মড়ক। এরপর হাওরের ঘাস খেয়ে শু গরু মরারও খবর পাওয়া যায়।  
স্থানীয় কৃষি অফিস সুত্র জানা গেছে এ বছর ২৫ হাজার হেক্টর বোরো ফসলের আবাদ করা হয়। আকস্মিক বন্যায় পাউবোর দুর্বল বেড়িবাঁধ ভেঙ্গে সব’কটি হাওরের ফসল তলিয়ে যায়।

  • [১]