সাইদুর রহমান আসাদ
সুনামগঞ্জে খামারিদের মাঝে হাটে গরু নিয়ে যাওয়ার আনন্দ যেমন আছে, তেমনি লোকসানের আশংকাও করছেন তারা। খামারিরা বলছেন, অনেক টাকা খরচ করে গরুর লালন পালন করেছেন, লক্ষ্য ছিলো খামারে পালন করা পশুর ভালো দাম পাবেন, কিন্তু মহামারি করোনায় সব মানুষই বেকায়দায় পড়েছেন, টাকা পঁয়সা নেই মানুষের হাতে, তাই কোরবানির পরিমাণও অন্য বছরের তুলনায় কম হবে। এজন্য বাজারে ক্রেতাও কম।
সুনামগঞ্জ প্রাণীসম্পদ অফিস সূত্রে জানা যায়, জেলায় মোট ৪৮ হাজার ৮০৩ টি কোরবানির যোগ্য পশু রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ গরু। এই পশুগুলো কেনাবেঁচা করবার জন্য পুরো জেলায় স্থায়ী ও অস্থায়ী ৫০ টি কোরবানির হাট বসেছে।
এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৬ টি, বিশ^ম্ভরপুরে ৫ টি, তাহিরপুরে ২ টি, ধর্মপাশায় ৪ টি, দিরাইয়ে ২ টি, জগন্নাথপুরে ৯ টি, দোয়ারাবাজারে ১০ টি, ছাতকে ৫ টি, জামালগঞ্জে ১ টি, শাল্লায় ৩ টি ও দক্ষিণ সুনামগঞ্জে ৩ টি পশুর হাট বসেছে। এছাড়াও অনলাইন প্লাটফর্মে কোরবানীর যোগ্য পশু বিক্রয়ের জন্য উদ্যোগ নিয়েছেন তারা। এই পর্যন্ত (১৮ জুলাই পর্যন্ত) অনলাইনে ১ কোটি ৫৭ লাখ টাকা মূল্যে ৩০১ টি কোরবানীর পশু বেঁচাকেনা হয়েছে।
শহরতলীর পূর্ব ধোপাকালীর গরুর খামারি জাহির উদ্দিন বললেন, করোনার প্রভাব বাজারে পড়েছে, পরিবহণের অসুবিধার জন্য বাজারে ইচ্ছে করলেও গরু নেয়া যাচ্ছে না, আগের মতো মানুষেরও চাহিদা নেই, এতে লোকসানের আশংকা রয়েছে, এই লোকসানের প্রভাব সব খামারিদের উপর পড়েছে।
দোয়ারাবাজার উপজেলার দোহালিয়া ইউনিয়নের উলুরা গ্রামের প্রান্তিক খামারি রাজিব কান্তি দাস জানালেন, এবার কোরবানির বাজারে ছোট গরুর চাহিদা থাকলেও বড় গরুর চাহিদা নেই। সর্বোচ্চ ৭০ থেকে ৭৫ হাজার টাকার গরু কিনছেন ক্রেতারা। এতে বড় গরুর খামারিরা লোকসানে পড়বেন। তিনি খামারিদের রক্ষা করবার জন্য সরকারের বড় প্রণোদনার পাশাপাশি সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার দাবি জানান ।
সুনামগঞ্জ ডেইরী ফার্মারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ নুরুল আলম বললেন, এবার গুরুর দাম খুব কম মনে হচ্ছে। গ্রামের গরুর খামারিরা এতোদিন চিন্তায় ছিলো। এখন লকডাউন শিথিলের গাইডলাইন দেয়ায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। আশা করা যায় কোরবানির বাজার এবার ভালো যাবে। কারণ সীমান্ত বন্ধ হওয়ায় বাইরের গরু দেশে আসে নি। তাতে কোরবানির বাজার ভালো যাবে আশা করি। করোনা মহামারির কারণে মানুষের অবস্থা ভালো নয়। মানুষের হাতে টাকা না থাকলে কোরবানি দেবে কিভাবে? এছাড়াও গরু বিক্রির সবচেয়ে বড় বাজার হলো ঢাকা ও চট্টগ্রামে। সেখানে গরুর হাটে বেঁচাকেনা শুরু হয়েছে কেবল, শেষ হলে পরিস্থিতি বুঝা যাবে।
জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান বললেন, সুনামগঞ্জের খামারিদের বেশিরভাগ গরু ছোট সাইজের। বাজারে ছোট সাইজের গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তাই সুনামগঞ্জের গরুর খামারিদের লোকসানের কোনো আশংকা নেই।