লিপসন আহমেদ
ওএমএস এর চাল না পেয়ে খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে বহু লোকজনকে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে চাল না পাওয়ায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওএমএস ডিলারদের সঙ্গে বাগবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটছে। এজন অপ্রতুল সরবরাহকে দায়ী করছেন ডিলাররা।
সুনামগঞ্জ পৌর শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ডে ফজরের আযানের আগে ওএমএসসের চাল নিতে আসেন সাজেদা খাতুন (৩২)। তিনি বলেন, বাজারে চাউলের অনেক দাম, বাজার থেকে চাউল কিনে খাওয়ার মত ক্ষমতা আমাদের নেই। তাই ফজরের আযানের আগে বাড়ি থেকে বের হয়ে চাউলের দোকানের সামনে বসে থাকি, কখনও চাউল পাই, আবার কখনও পাই না। যে দিন চাউল পাই না সেদিন আটা নিয়ে যাই।
জলিলপুর গ্রাম থেকে আসা ফজলু মিয়া জানান, সরকার প্রতিদিন যে চাউল দেয় তা কেউ পায় আর কেউ পায় না। ডিলারের দোকানের চাল কেনার জন্য কাড়াকাড়ি শুরু হয়ে যায়। গরীব মানুষের সংখ্যা বেশি তাই চাউল আটার বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন। প্রত্যেক ব্যক্তি এক সঙ্গে ৫ কেজি চাল বা আটা কিনতে পারেন। ৫ কেজি চালের দাম ১৫০ টাকা টাকা আটার দাম ৯০ টাকা।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের বাসিন্দা জামাল মিয়া জানান, বাজার থাকি চাউল কেনার সামর্থ্য নাই। বাজারের এক কেজি মোটা চাউলের দাম ৪৫ টাকা। এতো টাকা দিয়া চাউল কিনমু ক্যামনে। ইতার লায় সরকারি চাউলের লাগি তিন মাইল পথ পাড়ি দিয়া টাউনে আই।
করিম মিয়া বলেন, কোন সময় চাউলের এতো দাম ছিলো না। এবার চাউল ৩০ টাকার চাউল ৪৫ টেকা দিয়ে কিনতে হচ্ছে। এবার রোজি-রোজগার কম কিন্তু চাউলের দাম বেশি। চাউল কিনলে বাজারের পয়সা থাকে না।
শামসুজামান জানান, সারা দিন রিক্সা চালিয়ে তিনশ থেকে চারশো টাকা রোজগার করে রিস্কা ভাড়া টাকা জমা দেয়ার পর হাতে দুই আড়াইশো টাকা থাকে। এ টাকা দিয়ে বাজার থেকে চাল কিনলে অন্যবাজারের কোন কিছু করা যাইতো না। তাই ভোর থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে চাল কিনি। অনেক দিন কিনতে পারি আবার অনেকদিন পারি না। তখন খালি হাতে বাড়ি ফিরে যেতে হয়।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের অফিস সূত্রে জানা যায়, গত ৪ জানুয়ারি থেকে সুনামগঞ্জ জেলা শহরের ৫ জন ডিলারের মাধ্যমে প্রতিদিন এক হাজার মানুষের জন্য সরকারি ভাবে ওএমএস’র চাল ও আটা বিক্রি করা হচ্ছে। পৌর এলাকার নতুনপাড়া, হাছননগর, পুরাতন বাসস্ট্যান্ড, তেঘরিয়াসহ ৫টি পয়েন্টে ডিলারা চাল বিক্রি করছেন। প্রত্যেক ডিলার প্রতিদিন একটন করে চাউল ও আটা বিক্রি করতে পারেন। জেলা শহর ছাড়া অন্য কোন উপজেলায় ওএমএস এর চাল বিক্রি হচ্ছে না।
চাউলের বাজারে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, স্থানীয় ভাবে চাউল কিনতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। দিনাজপুর থেকে মোটা বালাম চাল এনে বিক্রি করছেন। স্থানীয় ভাবে উৎপাদিত চালের দাম অনেক বেশি অন্যদিকে আড়তগুলোতে সে পরিমাণ চাল মজুদ নেই। তাই চালের দাম আগের চেয়ে অনেক বেড়ে গেছে। আমদানী করা চাল এখনো সুনামগঞ্জের বাজার গুলোতে আসেনি। এভাবে চলতে থাকলে চাউলের দাম আরও বাড়বে।
নতুনপাড়া এলাকার ওএসএস ডিলার রতন লাল ধর বলেন, গেল ১৫ দিনে চাউলের চাহিদা দ্বিগুণ হয়েছে। প্রতিদিন ভোর থেকে দুপুর পর্যন্ত চাল নিতে আসেন অসংখ্য গরীব অসহায় মানুষ। সবাইকে চাল বা আটা দেয়া যায় না। ১ টন চাল বা ১ টন আটা নিমিষেই শেষ হয়ে যায়। তাই বরাদ্দ বাড়ানো প্রয়োজন।
জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা মো. নকিব সাদ সাইফুল ইসলাম বলেন, চালের বরাদ্দ স্থানীয় ভাবে বাড়ানোর কোন সুযোগ নেই। আমরা বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বলেছি। বরাদ্দ বাড়ানো হলে ডিলারদের চালের পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়া হবে।