স্টাফ রিপোর্টার
গত বুধবার সকালে সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার দরগাহপুর মাদ্রাসার কাছে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের স্টিলের তৈরি বেইলী সেতু ভেঙে পড়ে । মাঝ সড়কের সেতু ভেঙে পড়ায় সোমবার বেলা ১১ টা পর্যন্ত গত ৬ দিন ধরে সৃষ্টি হয়েছিল চরম দুর্ভোগ।
সেতু ভেঙে খালে পড়ায় বাস, ট্রাক, লেগুনাসহ বড় যানবাহন চলাচল ছিল বন্ধ। সেতুর দুইদিকে আটকা পড়েছিল ঢাকা-সিলেট ও সুনামগঞ্জগামী বাস, লেগুনা,সিএনজি ও বিভিন্ন মালামাল পরিবহনকারী যানবাহন। সেতুর নিচের পার্শ্ববর্তী
বাঁধ দিয়ে কষ্ট করে হলেও সিএনজি, মোটরসাইকেল ও ইজি বাইকের চলাচল ছিল।
সেতুর পূর্ব দিকে খালের উপর দেয়া বাঁধের উপর দিয়ে ছোট ছোট যানবাহন চলাচল ও খালের পানি প্রবাহ বন্ধ থাকার পর এই সেতু রাখার কি প্রয়োজন ? এনিয়ে জোরালোভাবে প্রশ্ন উঠছে।
বিভিন্ন যানবাহন চালকের দাবি যেসব সেতুর নিচের খালে বাঁধ দিয়ে স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে সেগুলোর সেতু উঠিয়ে নিয়ে ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করা হোক। তাহলে জরাজীর্ণ স্টিলের সেতু ভেঙে পড়ে দুর্ভোগ সৃষ্টি হবে না।
তবে সুনামগঞ্জ সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী সফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, কোনভাবেই খাল ভরাট করে সড়ক নির্মাণ করা যাবে না। পানি প্রবাহের ধারা সচল রাখতে খালের উপর সেতু নির্মাণ করা হয়েছে, এবং সেতু থাকবে।
রবিবার বিকাল বিকাল ৩ টায় সরেজমিনে দরগাপুর সেতু এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিরাই থেকে সুনামগঞ্জ-সিলেটগামী ও সিলেট-সুনামগঞ্জ থেকে দিরাই-শাল্লাগামী শত শত যাত্রী সেতুর দুই পাশে নেমে পায়ে হেঁটে পারাপার হচ্ছেন। দ্বিগুন ভাড়া গুনে যানবাহন চড়ছেন তারা।
এসময় দেখা যায় স্থানীয় কিছু মানুষের সহযোগিতায় সেতুর পূর্ব দিকের বাঁধের উপর দিয়ে সিএনজি চলাচল করছে। সরাসরি যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকার কারণে কৃত্রিম সংকট দেখিয়ে সেতুর দক্ষিণ দিকের সকল যানবাহনেই দ্বিগুন ভাড়া আদায় করা হয়েছে। চালকদের দাবি তেলের দাম বেড়েছিল তাই ভাড়া বেশী রাখতে বাধ্য হয়েছেন।
সেতুর পাশের বাঁধের উপর দিয়ে পায়ে হেঁটে খাল পারাপার হওয়া যাত্রীদের অনেকেই দুর্ভোগে পড়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর নিচের খালে পানি প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। বাঁধের উপর দিয়ে পায়ে হেঁটে আসা-যাওয়া করা যায়। এমনকি সিএনজি গাড়ি পর্যন্ত যেতে পারছে, তাহলে কেন এই সেতু রাখা হচ্ছে।
সুনামগঞ্জ-দিরাই রাস্তায় চলাচলকারী একাধিক যাত্রী ও যানবাহন চালক জানিয়েছেন, এই সড়কের দরগাপুর, নোয়াখালী ও বগলাখাড়া খাল দিয়ে পানি প্রবাহ বন্ধ রয়েছে। নোয়াখালী খাল ভরাট হয়ে গেছে।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জের ঝইদ গ্রামের বৃদ্ধ সামু আলী বলেন,‘ দরগাপুর সেতুর নিচের খাল বাঁধ দিয়ে বন্ধ রাখা হয়েছে অনেক দিন ধরেই। এই খাল দিয়ে বর্ষায়ও পানি চলাচল হয় না। তাহলে কেন এই সেতু রাখা হচ্ছে?’
দিরাই বাজারের ব্যবসায়ী বাবুল মিয়া বলেন,‘ গভীর খাল থাকলে সেতু বা কালভার্ট তৈরি করা হয়। যেহেতু এখন দরগাপুর খালের একপাশে স্থায়ী বাঁধ দেয়া হয়েছে তাহলে কেন পুরো খালটা ভরাট করে সেতু তুলে দেয়া হচ্ছে না।’
সুনামগঞ্জের সিএনজি চালক আলী হোসেন বলেন,‘ দরগাপুর খালের সেতু ভেঙে পড়ায় আমাদের দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল। যদিও মানুষের সহায়তায় কেউ কেউ নিচের বাঁধ দিয়ে গাড়ি নিয়ে আসা-যাওয়া করছে। তবে সহায়তাকারীদের টাকাও দিতে হয়েছে। ’
আলী হোসেন আরো বলেন,‘ যদি বাঁধের উপর দিয়ে সিএনজি নিয়ে আসা-যাওয়া করা যায় তাহলে পুরো খালটাই কেন ভরাট করে সেতুটি তুলে নেয়া হয় না?’
রফিক মিয়া নামের এক লেগুনা চালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,‘ শুধু দরগাপুরই নয় সুনামগঞ্জ-দিরাই সড়কে বেশ কয়েকটি খাল স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে পড়েছে। খালের উপর বা কোন না কোন পাশে বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে। তারপরও কেন এসব খাল ভরাট না করে সেতু রাখা হয়েছে। এসব সেতু ভেঙেই প্রতি বছর দুর্ভোগ সৃষ্টি করে। গত বছর একইভাবে বগলাকাড়া গ্রামের কাছের সেতু ভেঙে দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছিল।’
সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘রাস্তার দুই পাশের হাওর, নদী-নালা, খাল-বিলের পানি প্রবাহের জন্যই খালের উপর সেতু নির্মাণ করা হয়। কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে বাঁধ দেয়া হয়েছে। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট পানি প্রবাহের ধারা চলমান রাখতে খাল ও নালা সচল রাখতে হবে। পানি প্রবাহের জন্য বা জরুরি প্রয়োজনে যে কোন সময় এসব খালের প্রয়োজন হতে পারে। তাই কোন খালই স্থায়ীভাবে ভরাট করে সড়ক করা যাবে না। আমরা স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে কথা বলে বন্ধ খালগুলো উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেব। ’