- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

খাসিয়ামারা নদীর বেড়িবাঁধ পাকাকরণের দাবি

আকরাম উদ্দিন
দোয়ারা উপজেলার লক্ষীপুর ইউনিয়নের খাসিয়ামারা নদীতে বর্ষায় নেমে আসে পাহাড়ি ঢল। ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি রক্ষায় প্রতিবছর নির্মাণ হয় বেড়িবাঁধ। বেড়িবাঁধ নিচু হওয়ায় ঢলের পানিতে ডুবে বিভিন্ন অংশ ভেঙে যায়। শুঁকনা মওসুমে একাধিক গ্রামের মানুষ বেড়িবাঁধকে চলাচল সড়ক হিসাবে ব্যবহার করে থাকেন। সারাবছর মানুষ ও যান চলাচলের সুবিধার্থে বেড়িবাঁধ পাকাকরণের দাবি এলাকাবাসীর।
প্রতিবছর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের লিয়াকতগঞ্জ বাংলাবাজারের পূর্বপাশে এই খাসিয়ামারা নদীরপাড়ে নির্মাণ হয় বেড়িবাঁধ। এই বেড়িবাঁধ নিচু থাকায় বর্ষায় পানি উপচে উঠে প্রবাহিত হয়। এতে বেড়িবাঁধসহ ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি মারাত্মক ক্ষতি হয়। শুঁকনা মওসুমে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে বিভিন্ন গ্রামের মানুষ ও যান চলাচল করে থাকে। কিন্তু বর্ষায় বেড়িবাঁধ যখন বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যায়, তখন শুঁকনায় মানুষজন চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তিতে পড়েন। এলাকার বাংলাবাজার, আলীপুর বাজার, চকবাজার, বোগলাবাজার, পূর্ব বাংলাবাজার, টেংরা বাজার, দোয়ারা বাজার এলাকার মানুষ, একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ এই বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করে থাকেন।
লক্ষীপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল খালেক, আব্দুল হামিদ, আব্দুল মতিন বলেন, খাসিয়ামারা নদীপাড়ে ফসলরক্ষা বাঁধ নির্মাণ হয়ে আসছে বছর বছর। বর্ষায় ভেঙে গেলে বেড়িবাঁধ সড়ক প্রতিবছর সংস্কার করা হয়। যেসব স্থান বর্ষায় ভেঙে যায়, শুধুমাত্র সেটি মেরামত করা হয়। কোনো বছর পুরো বেড়িবাঁধের উপর মাটি ভরাট করা হয়নি। এই কারণে বেড়িবাঁধ নিচু হয়ে পড়েছে। বেড়িবাঁধ উঁচুকরণের দাবি আমাদের।
একই গ্রামের ফজর আলী, জহির আহমদ, মবশ্বির আলী বলেন, খাসিয়ামারা নদীর বেড়িবাঁধ দীর্ঘদিন ধরে জন চলাচল সড়ক হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। বেড়িবাঁধ মাটির সড়ক থাকায় বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন স্থান ভেঙে যায়। যদি পাকাকরণ হয়, তবে বেড়িবাঁধ সড়ক ভেঙে যাবে না। এই বেড়িবাঁধ পাকাকরণের দাবি আমাদের।
বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মনাফ বলেন, শুঁকনা মওসুমে খাসিয়ামারা নদীর বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে এই অঞ্চলের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ চলাচল করে থাকেন। এই বেড়িবাঁধ যদি স্থায়ী চলাচল সড়কে পরিণত হবে, তবে এই এলাকার মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন হবে।
জিরারগাঁও সিরাজ মিয়া বলেন, প্রতি বছর এই বেড়িবাঁধের একাধিক স্থান ভেঙে পানি প্রবেশ করে ঘর-বাড়ি ও ফসলি জমি ক্ষতি করে। এই বেড়িবাঁধকে স্থায়ী সড়কে পরিণত করার দাবি আমাদের।
শিক্ষার্থী রুবেল মিয়া বলেন, আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আসা-যাওয়া করতে মারাত্মক সমস্যা হয়। সড়ক উন্নয়নের দাবি আমাদের।
শিক্ষক তুহিনুর বেগম বলেন, প্রতিদিন শতাধিক শিক্ষার্থী লক্ষ্মীপুর গ্রামের পাশে খাসিয়ামারা নদীরপাড়ে বেড়িবাঁধ নির্মাণ হওয়ায় বাঁধের উপর দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে আসছেন। এই বেড়িবাঁধ সড়ক এলাকার মানুষের সহজ যোগাযোগ মাধ্যম। বেড়িবাঁধ স্থায়ীভাবে জন চলাচল সড়কে পরিণত করলে প্রতি বছর সরকারী বরাদ্দ প্রয়োজন হবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা ও উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন আহমদ বলেন, প্রতিবছর এই বেড়িবাঁধ সড়কের কাজ হয়, শুধু মেরামত কাজ। পুরো বেড়িবাঁধে মাটি ভরাট হয়নি। এই কারণে দিনে দিনে বৃষ্টির ও ঢলের পানিতে মাটি গলে গিয়ে নিচু হয়েছে। সংকীর্ণও হয়েছে। বেড়িবাঁধকে স্থায়ী সড়কের রূপান্তরের দাবি আমাদের।
লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আমিরুল হক বলেন, এই খাসিয়ামারা নদীর পাড়ের বেড়িবাঁধ প্রতিবছর ভেঙে যাওয়ায় মানুষের ভোগান্তি হয় চরমে। লক্ষীপুর, সুরমা ও বোগলা ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের মানুষ শুঁকনা মওসুমে বেড়িবাঁধের উপর দিয়ে চলাচল করেন। সড়কের যথাযথ উন্নয়নে মানুষ ও যানবাহন চলাচল অনেকটা সহজ হবে। এই বেড়িবাঁধের সড়ক দিয়ে সারাবছর মানুষ বিভিন্ন হাট-বাজারে, স্কুল-কলেজে আসা-যাওয়া করতে পারবে। এই বেড়িবাঁধ সড়ক মাটি ভরাটের মাধ্যমে উঁচু করে প্রশস্তকরণ এবং পাকাকরণ জরুরি প্রয়োজন।

  • [১]