আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর পৌর শহরের আনন্দ ফটো স্টুডিও’র মালিক আনন্দ সরকার (২৩) হত্যাকান্ডের তিন মাস অতিবাহিত হলেও হত্যার রহস্য উদঘাটন হয়নি। এমনকি এ ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তারও করতে পারেনি।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনরা জানান, ২০১৯ সালের ৫ ডিসেম্বর জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদের পাশে পৌর শহরের কামাল কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় আনন্দ ডিজিটাল স্টুডিও’র মালিক আনন্দ সরকারের জবাইকৃত মরদেহ তাঁর দোকানঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। দুর্বৃত্তরা তাকে জবাই করে হত্যার পর দোকানঘর তালাবদ্ধ করে পালিয়ে যায়। আনন্দ সরকারের ক্যামেরা ও মুঠোফোনটি খোয়া যায়। ঘটনার পর খবর পেয়ে সুনামগঞ্জের পুলিশের ক্রাইন সিন ইউনিট এর একটি দল ঘটনাস্থল পরির্দশন করে লাশ উদ্ধার করে পুলিশে হস্তান্তর করে। পুলিশ ময়না তদন্তের পর লাশ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করে।
মামলার বাদি নিহতের বড় ভাই জীবন সরকার জানান, কারা আমার ভাইকে হত্যা করল। কেন করল কিছুই তিন মাস ধরে জানতে পারলাম না। নির্মম এ হত্যাকান্ডের ঘটনায় পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আমরা কখনো ভাই হত্যার বিচার পাব কিনা বুঝতে পারছি না। তিনি বলেন, গরিব মানুষ হওয়ায় বিচার পাচ্ছি না।
জগন্নাথপুর উপজেলা আইন শৃঙ্খলা বিষয়ক কমিটির সদস্য জগন্নাথপুর প্রেসক্লাব সভাপতি শংকর রায় বলেন, ব্যবসায়ী আনন্দ সরকার হত্যাকান্ড নিয়ে উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় একাধিকবার আলোচনা হয়েছে। পুলিশ কে গুরুত্ব সহকারে মামলার রহস্য উদঘাটন করে প্রকৃত আসামি গ্রেফতার করতে বলা হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জগন্নাথপুর থানার ওসি (তদন্ত) নব গোপাল দাস জানান, ব্যবসায়ী হত্যাকা-ের ঘটনার রহস্য উদঘাটনে আমরা গুরুত্ব দিয়ে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। আশা করছি হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটনের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীরা গ্রেফতার হবে।
প্রসঙ্গত, প্রায় দুই বছর পূর্বে নেত্রকোণা জেলার মোহনগঞ্জ থানার বটতলা গ্রামের সুনিল সরকারের ছেলে আনন্দ সরকার জগন্নাথপুর পৌরশহরে কাজের সন্ধানে আসে। এক বছর শহরের একটি স্টুডিও দোকানে কর্মচারির হিসেবে কাজ করে। পরে আনন্দ সরকার জগন্নাথপুর উপজেলার পরিষদের পাশে শহরের কামাল কমিউনিটি সেন্টার এলাকায় ভাড়া দোকান নিয়ে ‘আনন্দ ডিজিটাল স্টুডিও নামে দোকান খোলে পরিচালনা করে আসছিল। টানা তিন দিন আনন্দ সরকারের মোবাইল ফোন বন্ধ পেয়ে ৫ ডিসেম্বর দুপুরে তার মা ও বড় ভাই জগন্নাথপুরে খোঁজতে এসে স্টুডিওতে গিয়ে দেখেন তালাবদ্ধ। পরে স্থানীয়রা তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় আনন্দ সরকারের লাশ পড়ে আছে।