স্টাফ রিপোর্টার
‘রাত নয়টায় (রোববার) মসজিদের মাইকে কইছে সাতবিলা স্লইসগেটের পাশ দিয়ে আফর বান্দ ভাইঙ্গা পানি ঢুকের। হকলে বান্দে যাইতাম। মাঝ রাস্তায় যাইতে যাইতে আরেকজনে কইলা বান্দ ভাঙিগেছে। সারারাইত গ্রামের ৭—৮ জনরে লইয়া ১৮ কেয়ার খেতের (৬ একর জমি) মাঝে ৪ কেয়ার কাটছি (এক একর এক কেয়ার)। এরপরে আর পারছি না, ডুব সমান পানি অইগেছে। গ্রামের অন্যরাও এই লাখানি কাইট্টা আনছে। বুঝা গেছে পকেট থাকি টেকা নিছেগি ভাই। ধানটা খালি সোনালী রং ধরছিল, ইসময় নিচেগি, আগে নিলে অতো কষ্ট অইতো না। খেওয়াল না রাখায় খালি বাঁধটা ভাঙছে, ইবায়দি বাঁধ ভাঙার কথা নায়।
স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন রশিদ লাভলু বললেন, বাঁধে কমপেকশন কম হয়েছে, তদারকি ছিল না, চোখে চোখে রাখা হয় নি। এজন্য বাঁধ ভেঙেছে, হাওর ডুবেছে। এখন গালি শুনছি আমরা। কে কাকে দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি ( পিআইসি) করেছে আমি জানি না। হুরামন্দিরা হাওরের অর্ধেক ফসল পানির নীচে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমান মামুন বললেন, সাতবিলা বাঁধ দুর্বল হয় নি। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান এসব কথা বলছেন। সাতবিলা বাঁধ হঠাৎ করেই ফাটল ধরে ভেঙেছে। কৃষকরা যেতে যেতে বাঁধ ভেঙে ফসল ডুবে গেছে। আটকানোর সময় পাওয়া যায় নি। তবে এই হাওরে ৭০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ—পরিচালক বিমল চন্দ্র সোম বললেন, হুরামন্দিরা হাওরের এক হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৮০০ হেক্টর কাটা হয়েছে। সবমিলিয়ে জেলার ১৭ টি হাওর ডুবে পাঁচ হাজার ৫১০ হেক্টর ফসল ডুবেছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৯ হাজার কৃষক। তবে বেসরকারি হিসাবে ক্ষতি আরও অনেক বেশি।
জেলার ১৫০ টি ছোট বড় হাওরে এবার দুই লাখ ২২ হাজার হেক্টর জমি চাষাবাদ করা হয়েছে। ৫৩৭ কিলোমিটার ফসলরক্ষা বাঁধের জন্য একশ ২২ কোটি ৪৯ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।