ধর্মপাশা প্রতিনিধি
ধর্মপাশায় গ্রাম্য সালিশের দেওয়া গরু চুরির অপবাদ সইতে না পেরে আজিজুল খাঁ (৩৫) নামের এক কৃষক আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গত সোমবার রাতে উপজেলার জয়শ্রী ইউনিয়নের বড়ই গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাতে বড়ই গ্রামের পার্শ্ববর্তী আমজুড়া গ্রামের বাবুল মিয়ার বাড়িতে একটি গরু চুরির ঘটনা ঘটে। আজিজুল খাঁ ও তাঁর চাচাতো ভাই আলাল খাঁর বিরুদ্ধে এ চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে। বিষয়টি সুরাহা করার জন্য গত শনিবার দুপুরে বড়ই বাজারে স্থানীয় মাতব্বরসহ অর্ধশতাধিক মানুষের উপস্থিতিতে এক সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সালিশে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি বোর্ড গঠন করা হয়। ওই বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চুরি যাওয়া গরুর মূল্য বাবদ আজিজুল খাঁ ও আলাল খাঁকে ১৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মঙ্গলবার বিকেলে জরিমানার টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। এদিকে গত সোমবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে আজিজুল খাঁ রাতের খাবার খান। পরে রাতের যে কোনো এক সময় নিজ বাড়ির পেছনে একটি গাছে গলায় রশি বেধে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে মঙ্গলবার দুপুর সোয়া একটার দিকে পুলিশ তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে।
আজিজুল খাঁর স্ত্রী সাহিনা আক্তার (২৬) জানান, তাঁর স্বামী গরু চুরি করেননি। তবে জমি নিয়ে এলাকার কয়েকজনের সাথে বিবাদ ছিল তাঁর। সালিশে মিথ্যে গরু চুরির অপবাদ সইতে না পেরে তাঁর স্বামী আত্যহত্মা করেছেন বলে দাবি করেন তিনি।
বড়ই বাজার বণিক সমিতির সভাপতি শহীদুল ইসলাম জানান, গ্রামবাসীর স্বার্থে গরু চুরির ঘটনায় সালিশ বৈঠক হয়েছে। সালিশে স্থানীয় ইউপি সদস্য শাহাব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। এর সাথে আত্মহত্যার কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানান তিনি।
তবে ইউপি সদস্য শাহাব উদ্দিনের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করে কথা না বলে ফোন রেখে দেন।
ধর্মপাশা থানার ওসি মো. গোলাম কিবরিয়া জানান, চুরির ঘটনায় গ্রাম্য সালিশের বিধান নেই। এই সালিশের সঙ্গে আত্মহত্যার কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।