- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

গলায় রশি পেঁচিয়ে মারধর

স্টাফ রিপোর্টার
তাহিরপুর উপজেলায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভুয়া হিজরারা গলায় রশি পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে হিজরা নেতা মহুয়া আক্তার স্বর্ণালীকে (৩০) নির্যাতন করেছে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় স্বর্ণালীকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে স্বর্ণালী সদর হাসপাতালের ৬ তলায় মহিলা সার্জারী ৬০৪ নম্বরের ৩০ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন আছেন।
শনিবার রাত ৮টায় তাহিরপুর উপজেলার লাউড়েরগড় হয়রত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানার পাশে এই ঘটনাটি ঘটে। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে স্বর্ণালীর স্বজনেরা জানান।
স্বর্ণালী তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া এলাকার বাসিন্দা মৃত হাজী আলী আহমদের মেয়ে। মহুয়া আক্তার স্বর্ণালী হিজরা হওয়ায় নিজ ইচ্ছায় পরিবার থেকে আলাদা হয়ে একই উপজেলার লাউড়েরগড় হয়রত শাহ আরেফিন (রহ.) আস্তানার পাশে নিজস্ব বাড়ি তৈরি করে বসবাস করে আসছিলেন। এক পর্যায়ে হিজরাদের নিয়ে একটি সংগঠনও তৈরি করেন তিনি। ওই সংগঠনে সদস্য হতে না পেরে স্থানীয় হারিছ উল্লাহ গংরা ক্ষুব্ধু হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত আট টায় হারিছ গংরা যাদুকাটা নদী থেকে অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলন করতে কোম্পানী কমান্ডারের কাছে সুপারিশ করতে স্বর্ণালীকে বলেন। তখন স্বর্ণালী সুপারিশ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। এ সময় ১০-১৫ জন উত্তেজিত হয় স্বর্ণালীর উপর। এক পর্যায়ে শারীরিক মারপিটের পাশাপাশি স্বর্ণালীর গলায় রশি বেঁধে টেনে হিঁচড়ে নিয়ে দুরে ফেলে দেয়। এই ঘটনায় স্থানীয়রা দৌঁড়ে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করেন। পরে সুনামগঞ্জে সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন এবং দ্রুত চিকিৎসার জন্য ভর্তি করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা আরও জানান, যারা স্বর্ণালীকে মারধর করেছে তাদের মধ্যে হারিছ উল্লাহ, মনির হোসেন, জমাতুল, ইকবাল, বিল্লাল, হাবিবুর, জলিল, রব মিয়াসহ অনেক ভুয়া হিজরা রয়েছে। গলায় রশি পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে মারধর করেছে ১৫-২০ জনে।
সদর হাসপাতালে ভর্তি স্বর্ণালীর গলায় রশি পেঁচিয়ে টেনে হিঁচড়ে নেয়ার দাগ দৃশ্যমান রয়েছে। তাঁর স্বজনেরা জানান, কোমরে, হাতে এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে মারাত্মক আঘাতের দাগ রয়েছে।
উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রামেশ্বরপুর গ্রামের বাসিন্দা নবী নুর জানান, আমিও ছিলাম ঘটনাস্থলে। স্বর্ণালীকে গলায় রশি পেঁচিয়ে বেদড়ক মারপিট করায় আমি প্রতিবাদ করি। এ সময় হারিছ উল্লাহ গংরা ক্ষুদ্ধ হয়ে একটি ঘরে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখে আমাকে। পরে স্থানীয়রা গিয়ে উদ্ধার করেন।
হিজরা মাসুক বলেন, হারিছ গংরা শাড়ি, ব্লাউজ ও কানে দুল পরে যাদুকাটা নদী থেকে বালু-পাথর উত্তোলন করে। এদের প্রায় সবাই ভুয়া হিজরা। অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনে আমরা সব সময় প্রতিবাদ করি। ওইদিনও এসব নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়েছে। পরে স্বর্ণালীকে বেদড়ক মারপিট করে তারা। একই কথা বলেন সাথে থাকা হিজরা পারভেজ আহমদও।
স্থানীয় ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া জানান, হারিছ উল্লাহ, মনির হোসেন, জমাতুল, ইকবাল, বিল্লালসহ আরও কয়েকজন স্বর্ণালীকে বেদড়ক মারধর করে। স্বর্ণালীকে মারধর করার পর আমরা সবাই বসে চিকিৎসার জন্য বলি এবং পরে সালিশে বিষয়টি দেখার জন্য উভয় পক্ষকে বলেছি।
তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ আব্দুল লতিফ তরফদার বলেন, ঘটনা শুনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এখন পর্যন্ত লিখিত কোনো অভিযোগ হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

  • [১]