আকরাম উদ্দিন, সরেজমিন
নিজ বাড়ির আঙিনায় পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন করে লাভবান হয়েছেন কৃষক আব্দুল আউয়াল। গত বছরের জুলাই মাসে এই বাগান প্রতিষ্ঠা করেন তিনি। সবজি, ফল ছাড়াও আছে ওষুধি গাছ ছাড়াও তাঁর বাগানে রয়েছে বিভিন্ন ধরনের লতাপাতা। গাছ গ্রাফটিং করে একই গাছে কয়েক রকমের সবজি চাষ করায় একটি দৃষ্টিনন্দন ও ব্যতিক্রমধমীর্ কৃষি বাগানে পরিণত হয়েছে। এই বাগানে কীটনাশকমুক্ত ফসল উৎপাদন হয়।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ধনপুর ইউনিয়নের স্বরূপগঞ্জ বাজারের পাশে কৃষক আব্দুল আউয়ালের বাড়ি। তিনি পেশায় একজন কৃষক হলেও মেইকার আওয়াল নামে পরিচিত এলাকায়। কিন্তু এ বছর থেকে আবার কৃষক আব্দুল আওয়াল নাম প্রচার হয়ে আসছে।
মঙ্গলবার দুপুরে তাঁর বাড়িতে গেলে কৃষক আব্দুল আওয়াল জানান, গত বছরের জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে অনাবাদি পতিত জমি ও বসতবাড়ির আঙিনায় ‘পারিবারিক পুষ্টি বাগান স্থাপন’ প্রকল্প বিষয়ে প্রশিক্ষণে অংশ নেন। এই প্রশিক্ষণ পেয়ে তিনি উদ্বুদ্ধ হন পুষ্টি বাগান প্রতিষ্ঠা করতে। তখন থেকে বাড়ির আঙিনায় দেড় শতক জায়গায় তিনি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ ও লতা পাতা কিনে পুষ্টি বাগান প্রতিষ্ঠা করেন। এতে খরচ হয় মাত্র ১৪শ’ টাকা। ৬ মাসেই তিনি প্রতিষ্ঠা করেন একটি দৃষ্টিনন্দন পুষ্টি বাগান। এতে নানা পরামর্শে সহযোগিতা পান উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের।
এই পারিবারিক পুষ্টি বাগানে নতুন চমক সৃষ্টি করতে ভাবতে থাকেন কৃষক আব্দুল আওয়াল। এক সময় তাঁর চিন্তায় আসে গাছে গ্রাফটিং করার বিষয়। তখন তিনি ভাবলেন একই গাছে গ্রাফটিং করে একাধিক গাছের ফসল উৎপাদন করবেন। এই চিন্তা থেকে তিনি টমেটো গাছে গ্রাফটিং করে আলু উৎপাদন করলেন। বিভিন্ন প্রজাতির টমেটো গাছ গ্রাফটিং করে বিভিন্ন রঙের ‘চেরি টমেটো’ উৎপাদন করলেন তিনি। বাগানে লাল, হলুদ, কালো টমেটোর ফলন হওয়ায় এবং লাল ‘লম্বা মরিচ’ ও সবুজ ‘সবজি মরিচের’ সহ নানা জাতের সবজি ও ফলের উৎপাদন করেন।
তিনি জানান, এ পর্যন্ত প্রায় ৯ মাসে বাগানের সবজি ফল বিক্রি করে লাভবান হয়েছেন প্রায় ৩৫ হাজার টাকা। বর্ষা মওসুমের আগেই পুরাতন গাছ কেটে বাগান মেরামত করছেন তিনি। আবার নতুনভাবে বাগানে গাছ রোপন করেছেন। আগামী এক মাসে ঢেলে সাজাবেন এই পারিবারিক পুষ্টি বাগান।
আব্দুল আওয়ালের পারিবারিক পুষ্টি বাগানজুড়ে রয়েছে ড্রাগন, স্ট্রবেরী, গ্রীণ মাল্টা, লিচু, নাগা মরিচ, গোল মরিচ, লাল মরিচ, কাল বেগুন, পুদিনা, বিলেতি ধনেপাতা, তুলশী, পটল, পুঁইশাখ, ঘৃথকাঞ্চন, ওলটকম্বল, গাছ গ্রাফটিং করে কাল, লাল, হলুদ রঙের ‘চেরি টমেটো’ এবং গোড়ায় ‘টম আলু’র ফলন।
স্থানীয় বাসিন্দা আবিদ আলী বলেন, কৃষক আব্দুল আওয়ালের পুষ্টি বাগানে কীটনাশকমুক্ত ফলন হয়। এই বাগানে গ্রাফটিংয়ের মাধ্যমে একই গাছে নানা রকম সবজির ফলন হয়। দেখতেও খুব সুন্দর। আমরা ভাল সবজি আনন্দে খাওয়ার জন্য কিনে নিয়ে আসি। খুবই সুস্বাদু বাগানের সবজি ও ফল।
কৃষক আব্দুল আওয়াল বলেন, আমার পারিবারিক পুষ্টি বাগানে কোনো প্রকার কীটনাশক ব্যবহার করেনি। আমি নিজের বুদ্ধিতে সাবানের গুড়া ও মরিচের গুড়া পানিতে মিশিয়ে ছিটিয়ে দেই। এছাড়াও আছে যাদুর ফাঁদ। যাদুর ফাঁদে রয়েছে সাবানের গুড়া ও মরিচের গুড়া মিশানো পানি। এই পানিতে পড়েও পোকা মাকড় মরে। আমার বাগানে কীটনাশক মুক্ত ফলন হয়।
মাছিমপুর ব্লকের উপ—সহকারী কৃষি অফিসার সামছুল আলম বিধু বলেন, কৃষক আব্দুল আওয়ালের পারিবারিক পুষ্টি বাগান ঢেলে সাজানো হয়েছে। তাঁর আন্তরিকতায় ও অক্লান্ত পরিশ্রমে এটি এলাকার সেরা বাগান প্রতিষ্ঠা পেয়েছে। বর্ষার শেষে এবং শুকনা মওসুমে এই পুষ্টি বাগান খুব সুন্দর দেখায়। এই বাগানের মাধ্যমে পুষ্টিসমৃদ্ধ ও কীটনাশকমুক্ত সবজি খাওয়ার সুযোগ হয়েছে।