- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

গাছ কাটার সংবাদের প্রেক্ষিতে জাস্টিস অব পিসের উদ্যোগ প্রশংসিত

মাসিক পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সুনামগঞ্জ জেলার চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এ.জি.এম আল মাসুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মাসিক পুলিশ ম্যাজিস্ট্রেসী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সম্মেলনে জানানো হয়, ২০১৯ সালের শুরুতে বিচারাধীন মামলা ছিল ২,৯৩৬টি দায়ের হয় ২,৫৫৪ টি এবং নিষ্পত্তি হয় ২৭২৯ টি। ২০১৯ সালে দায়েরের তুলনায় নিষ্পত্তির হার ছিল ১০৭%। নিষ্পত্তিকৃত মামলার মধ্যে ১০ বছরের অধিককাল (১৯৯৮, ১৯৯৯ ইং সালে দায়েরকৃত মামলা সহ) বিচারাধীন ৬৪টি মামলা নিষ্পত্তি করা হয়।
সম্প্রতি ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে চারজনকে গ্রেফতার করা হয় তন্মধ্যে একজন অনার্স ২য় বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষার্থী ছিল যাকে পরীক্ষার আগের দিন গ্রেফতার করা হয়। চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পুলিশ বিভাগকে ভুয়া ওয়ারেন্ট ইস্যুকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণকল্পে ভুয়া ওয়ারেন্টমূলে গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করার জন্য কোর্ট ইন্সপেক্টর, সুনামগঞ্জকে নির্দেশ দেন। এরই অংশ হিসেবে সুনামগঞ্জ জেলা ব্যতিরেকে ভিন্ন কোন জেলা হতে প্রাপ্ত জি.আর মামলায় আসামীর ওয়ারেন্ট বিষয়ে কোর্ট ইন্সপেক্টর, সুনামগঞ্জ এবং সি.আর মামলায় আসামীর ওয়ারেন্ট বিষয়ে আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তার নিকট যোগাযোগ করে সত্যতা যাচাই করার জন্য সুনামগঞ্জ জেলার সকল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়। এই নির্দেশনা অনুসরণ করলে সুনামগঞ্জ জেলার কোন ব্যক্তি ভুয়া ওয়ারেন্টের মাধ্যমে গ্রেফতার হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে না মর্মে আদালত সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।
জেলা আইনগত সহায়তা কমিটির বিগত সভায় বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, সুনামগঞ্জ জেলা শাখা ভুয়া কাজীর বিষয়ে অবহিত করলে বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আমলে নিয়ে প্রত্যেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে কঠোরভাবে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য এবং ভুয়া কাজীর তালিকা প্র¯ু‘তক্রমে আদালতকে অবহিত করার জন্য নির্দেশ দেন। এর প্রেক্ষিতে সদর থানার পুলিশ একজন ভূয়া কাজীকে গ্রেফতার করে সদর থানার মামলা নং-১০; তারিখ-১০/২০/২০২০ দায়ের করেছেন মর্মে জানা যায়।
সভায় আরো আলোচনা হয় যে, স্থানীয় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে রাস্তার পাশের ২০০ গাছ কাটার সংবাদ প্রকাশের প্রেক্ষিতে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জেলার জাস্টিস অব পিস হিসেবে ফৌজদারী কার্যবিধির ২৫ ধারার ক্ষমতাবলে নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গাছ কর্তনের ফলে পরিবেশ বিপর্যয় রোধে সওজ, বনবিভাগ ও সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সমন্বিতভাবে উক্ত সড়কে কদম-২৫০টি, মেহগনি-১০০টি, কৃষ্ণচূড়া-৫০টি (প্রায় ৫ফুট উচ্চতার) মোট ৪০০ চারাগাছ বাঁশের খাচাসহ রোপন ও রোপনের পরবর্তী ৬ মাস পর্যন্ত পরিচর্যা করিবেন শর্তে আদালতে অঙ্গীকারনামা প্রদান করেন। পরিবেশ সংশ্লিষ্টরা আদালতের এ ধরনের উদ্যোগ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হবে উল্লেখে সাধুবাদ জানিয়েছেন।
এছাড়া, বিদেশে কর্মসংস্থানের প্রলোভন দিয়ে অনেক ব্যক্তি সাধারণ মানুষকে প্রতারিত করার কারণে গতানুগতিক দন্ডবিধির অধীনে মামলা না করে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন, ২০১৩ এর আলোকে মামলা নেয়ার জন্য ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।
সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শ্যাম কান্ত সিন্হার সঞ্চালনায় কনফারেন্সে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ডেপুটি সিভিল সার্জন, অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্যান্য বিচারক বৃন্দ, বিজিবি’র সহকারী পরিচালক, রেঞ্জ বন কর্মকর্তা, সুনামগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ সুনামগঞ্জ জেলার সকল থানার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ। প্রেস বিজ্ঞপ্তি

  • [১]