পুলক রাজ
পৌর শহরের জগন্নাথবাড়ী বাজারের পাশের গাজীর ঘাট পাকাকরণের দাবি জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। এই ঘাটের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গা থেকে পণ্য আনা নেয়া করা হয়। ঘাট পাকা হলে পণ্য ওঠানো-নামাতে সুবিধা হবে তাদের। এছাড়াও আশপাশের গ্রামের মানুষ নদী পারাপারে এই ঘাট ব্যবহার করেন।
ব্যবসায়ীরা জানান, ঘাটের দুরবস্থার কারণে বিভিন্ন হাটগুলোতে পণ্য সামগ্রী বা গৃহপালিত পশু নিয়ে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। ঘাট থেকে পণ্য ওঠানো-নামানোর সময় দুর্ঘটনাও ঘটে। শীতের মৌসুমে নদীর পানি অনেক নিচে চলে যায় আর বর্ষায় কাদায় পিচ্ছিল হয়ে পড়ে ঘাট। তাই জনগুরুত্বপূর্ণ ঘাটটি পাকা করার দাবিতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, গাজীর ঘাট দিয়ে হালুয়ারঘাট, মঙ্গলকাটা, চৌমুহনী, বালাকান্দি, জিনারপুর, কায়ারগাঁও, ঝরঝরিয়া এলাকায় ভুষি মাল ও পশু নিয়ে প্রতিনিয়ত নৌকা চলাচল করে। ঘাটের দুরবস্থার কারণে নৌকায় উঠতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। এছাড়াও বাজারের ময়লা আবর্জনা ফেলা হয় নদীর পাড়ে। ল্যাম্পপোস্ট না থাকায় সন্ধ্যার পর ঘাট বিপদজনক হয়ে পড়ে।
শ্রমিক পংকজ সরকার বলেন, আমি প্রতিদিন নিত্যপণ্য সামগ্রী নৌকায় উঠানো কাচা ঘাট হওয়ায় অনেক দিন পিছলে পড়ে গেছি। হাত-পায়ের খাল বাখল গিয়েছে। আমাদের জন্য খুব ভালো হবে যদি ঘাট পাকাকরণ করা হয়। মানুষ ঘাটের পাশে বর্জ্য ফেলে যায়, দুগর্ন্ধে টেকা যায় না।
নৌকার মাঝি মোহাম্মদ হযরত আলী বলেন, বিভিন্ন গ্রামের মানুষ এই ঘাট দিয়ে আসা যাওয়া করেন। ভয়ের মধ্যে থাকি, কখন সময় দুর্ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির দিনে মাটি কাদা হয়ে মাখামাখি হয়ে খুব বাজে অবস্থার সৃষ্টি হয়।
ব্যবসায়ী মোশারফ আল মাহাদী বলেন, গাজীর ঘাট পাকাকরণ খুব জরুরী। এই ঘাটে প্রতিদিন একটা না একটা দুর্ঘটনা ঘটে থাকে। শীতের দিনে নদীর পানি নিচে চলে যাওয়ায় নৌকায় উঠতে গিয়ে অনেকেরই হাত পা ভেঙেছে। দ্রুত গাজীরঘাট পাকাকরণ হলে আমাদের সবার সমস্যার সমাধান হবে।
৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর চঞ্চর কুমার লোহ বলেন, যেহেতু জগন্নাথবাড়ী গাজীর ঘাট পাকাকরণের দাবি উঠেছে সেহেতু আমি পৌরসভার মেয়র মহোদয়ের সাথে কথা বলে ঘাট পাকাকরণের জন্য ব্যবস্থা নেব। ময়লা আবর্জনার ফেলার জন্য আমরা পৌরসভা থেকে ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করবো। এছাড়াও গাজীর ঘাটে ল্যাম্প পোস্টের ব্যবস্থা করা হবে।