- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

গুলশানে জঙ্গিবাদী সন্ত্রাসী আক্রমণ শুভবোধসম্পন্ন সকলের সংহতি জরুরি

শুক্রবার রাতে রাজধানী ঢাকার গুলশানের একটি বেকারিতে সন্ত্রাসী আক্রমণের ঘটনা বাংলাদেশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও জঙ্গি তৎপরতার বিষয়টিকে একটি নতুন মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিল। পৃথিবীব্যাপী আইএসএ বা এ জাতীয় জঙ্গী সংগঠনের দ্বারা বড় বড় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটলেও সৌভাগ্যজনকভাবে এতদিন ধরে বাংলাদেশ এই হুমকির বাইরে অবস্থান করছিল। গত আড়াই বছর যাবৎ ক্রমাগত ব্লগার, ভিন্ন মতাবলম্বী, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ব্যাপকভাবে হত্যাকা-ের পরও কারও কাছে মনে হয়নি এ দেশটি পাকিস্তান, আফগানিস্থান কিংবা পশ্চিমা দেশগুলোর মতো সন্ত্রাসবাদী হুমকিকবলিত। শুক্রবার রাতের ঘটনাটি আমাদের বিশ্বাসের ভিত্তিমূল ধরে প্রচ-রকম ঝাঁকি দিয়েছে। এই প্রথম আমরা অনুভব করতে পারছি, বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় মৌলবাদী জঙ্গি তৎপরতার যে প্রচ- হুমকি বিরাজমান আমরাও এর বাইরে নই। শুক্রবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুসারে সন্ত্রাসীদের আক্রমণে বেকারিতে অবস্থানকারী ২০ বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ ও দুই পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। পরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে কমান্ডো হামলায় ৬ জঙ্গি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। যে ২০ বেসামরিক ব্যক্তি প্রাণ হারিয়েছেন তাদের সকলেই বিদেশি নাগরিক বলে প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে। বাংলাদেশে সংঘটিত সবচাইতে বড় এই জঙ্গি হামলার নির্মমতা প্রত্যক্ষ করে গোটা দেশবাসী হতভম্ব হয়ে পড়েছেন। এই হামলা বিশ্বব্যাপী আলোড়ন তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে। আমেরিকা, ইংল্যান্ড ও জাপানের রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর বরাত দিয়ে দেশীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম এই হামলায় আইএস জড়িত থাকার তথ্য জানিয়েছে। সুতরাং সামনের দিনগুলোতে ভূরাজনৈতিক গোলকধাঁধাঁয় বাংলাদেশকে যে একটি কঠিন পথ পারি দিতে হবে তা কিছুটা সচেতন মানুষ মাত্রই বুঝতে পারছেন।
শুক্রবার ভোরে ঝিনাইদহে এক সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যা করার পর শনিবার ভোরে একই কায়দায় সাতক্ষীরার আরেক সেবায়েতকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এর আগে পাবনা সৎসঙ্গ আশ্রমের এক সেবায়েতকে একই কায়দায় হত্যা করা হয়। কিছু দিন ধরে ধর্মীয় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের একেবারেই সাধারণ পর্যায়ের সেবায়েত বা পূজারিদের হত্যা করার ঘটনা ঘটছে। এইসব হত্যাকা-ের সাথে শুক্রবারে গুলশানের স্প্যানিশ বেকারিতে সংঘটিত সন্ত্রাসী আক্রমণের সম্পর্ক রয়েছে কিনা সেই হিসাব মিলানো এখন খুব জরুরি। চোখ বন্ধ করে যেমন প্রলয় বন্ধ করা যায় না তেমনি সত্য অস্বীকার করে কোন সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সরকার আইএসআই’র অস্তিত্ব স্বীকার করুন আর নাই করুন দেশে যেসব ঘটনা ঘটছে তা বন্ধ করাটাই এখন সবচাইতে বড় কাজ।
সারা বিশ্ব আজ ধর্মীয় জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় হিমসিম খাচ্ছে। সম্ভবত মানব সভ্যতার জন্য বর্তমান সময়টা একটি ক্রান্তিকাল। বিশ্ববাসীকে তাই এই ভয়াবহ সন্ত্রাস মোকাবিলা করতে হবে ঐক্যবদ্ধ হয়েই। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদকে বৈশ্বিক উদ্যোগ ভিন্ন নির্মূল করা বর্তমান সময়ে কঠিন কাজ হবে। অন্যদিকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব অক্ষুণœ রাখার বিষয়টিকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করতে হবে। আমরা আশা করছি সরকার এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরে জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠায় ব্রতী হবেন । এরকম সময়ে জাতির মধ্যে বড় দাগে বিভক্তি থাকলে সেটি সন্ত্রাসীদেরকেই উৎসাহিত করবে। দেশের সংকটে সকলকে যাবতীয় বিভেদ ভুলে এক কাতারে দাঁড়ানোর নজির পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে আমরা যেরকম দেখে আসছি, আজ বাংলাদেশেও এই সংহতির জাগৃতি দেখতে চান সকলে।
জঙ্গীবাদী সন্ত্রাসী আক্রমণে সভ্যতা মুখ থুবড়ে পড়–ক এ কোন শুভবোধসম্পন্ন মানুষের আকাক্সক্ষা নয়। প্রতিটি মানুষকে আজ এই জঘন্য কর্মকা-ের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানাই আমরা।  

  • [১]