স্টাফ রিপোর্টার, তাহিরপুর
যৌতুকের জন্য এক গর্ভবতী গৃহবধূ কে পিটিয়ে আহত করেছে পাষন্ড স্বামী। সেই সাথে তাকে ভয় ভীতি দেখিয়ে ডিভোর্স পেপারে সই রেখে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। এমনই অভিযোগ করেছেন নির্যাতিতা গৃহবধূ শেফালি আক্তার।
নির্যাতিতা গৃহবধূ উপজেলার উত্তর শ্রীপুর ইউনিয়নের বীরেন্দ্র নগর গ্রামের বাসিন্দা প্রয়াত নুরুজ্জামান’র কন্যা শেফালি আক্তার (৩১)। সে বর্তমানে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
শেফালী আক্তার জানায়, ৭ বছর পূর্বে তার বিয়ে হয়েছিল পাশর্^বর্তী মধ্যনগর থানার উত্তর বংশিকুন্ডা ইউনিয়নের রামপুর গ্রামের মোহাম্মদ আলীর পুত্র সোহরাব মিয়ার সাথে। বিয়ের সময় তার প্রয়াত বাবা নুরুজ্জামান লক্ষাধিক টাকা দিয়েছিলেন তার স্বামী সোহরাবকে যৌতুক হিসেবে। একটি সন্তান নিয়ে তাদের সংসার ভালোই চলছিলো। সম্প্রতি তিনি গর্ভবতী হয়েছেন। এরই মধ্যে স্বামী সোহরাব তাকে টাকার জন্য বিভিন্ন সময় চাপ দিতে থাকে। এ নিয়ে প্রায়ই তাদের ঝগড়াঝাটি হতো। এমনকি প্রায় সময় তার স্বামী তাকে মারধর করতেন।
গত ৬ জানুয়ারি বুধবার রাতে এ নিয়ে আবার কথা কাটাকাটি হয় তাদের মধ্যে। কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সোহরাব হোসেন তাকে বেধরক মারপিট করে, ভয় ভীতি দেখিয়ে ডিভোর্স পেপারে সই রেখে ঘর থেকে তাড়িয়ে দেয়। রাতে তিনি পাশর্^বর্তী লোকমান মিয়ার বাড়িতে কোন রকম আশ্রয় নেন। ঘটনার সংবাদ পেয়ে শেফালী আক্তার’র বড় ভাই সেলিম মিয়া বৃহস্পতিবার সকালে এসে তাকে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করান।
বংশিকুন্ডা উত্তর ইউনিয়ন রামপুর গ্রামের ইউপি সদস্য নুরুজ্জামন বলেন, ঝগড়াঝাটির বিষয়টি আমরা শুনেছি। তবে জোর করে ডিভোর্স নেয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।
উত্তর বংশিকুন্ডা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, সোহরাব মিয়া তার স্ত্রীর স্বেচ্ছায় চলে যাওয়ার বিষয়টি আমাকে বলেছে। জোর করে তাকে বিদায় করে দেয়া হয়েছে কিনা তা আমার জানা নেই।
এ বিষয়ে সোহরাব হোসেন জানায়, তার স্ত্রী তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলে নিজেই বাড়ি থেকে চলে গেছে।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানা অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) নব গোপাল দাস বলেন, এ বিষয়ে আমরা কোন অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।