স্টাফ রিপোর্টার
সদর উপজেলা লক্ষণশ্রী ইউনিয়নের গোবিন্দপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের উন্নয়নের জন্যে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অনুদানের টাকা আত্মসাৎ এর অভিযোগ পাওয়া গেছে। সোমবার সন্ধ্যায় দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরের কার্যালয়ে গোবিন্দপুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য ও গ্রামের ২৭ জন ব্যক্তির স্বাক্ষরিত অভিযোগ পত্রে বলা হয়েছে, গোবিন্দ পুর নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে ১ বছর আগে। পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমান নতুন কমিটি গঠন না করে বিদ্যালয় উন্নয়নের জন্যে বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অনুদানের বরাদ্দকৃত টাকা আত্মসাৎ করছেন। বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটি কর্তৃক বরাদ্দের টাকার হিসাব চাওয়ার পরও তিনি হিসাব দিতে গড়িমসি করছেন। অভিযোগপত্রে আরো উল্লেখ করা হয়, সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কর্তৃক ২ লাখ টাকা, সাবেক এমপি মতিউর রহমান কর্তৃক ৪ টন চাল, বর্তমান এমপি পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ কর্র্তৃক দেয়া ২ টন চাল, জেলা পরিষদ প্রশাসক কর্তৃক প্রদত্ত ১লাখ টাকা ও গোবিন্দপুর গ্রামের প্রবাসিদের কাছ থেকে সংগৃহিত অনুদানের টাকা বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মতিউর রহমানের কাছে গচ্ছিত ছিল। এই টাকা বিদ্যালয়ের কোন উন্নয়ন কাজে ব্যয় করা হয়েছে তার কোন হিসাব কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়নি। অভিযোগকারীরা উল্লেখ করেছেন যে, এই অব্যবস্থাপনা ও আর্থিক অস্বচ্ছতার কারণেই বিদ্যালয়ের অবস্থা খারাপ হয়েছে শিক্ষকদের বেতন ভাতা বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগ পত্রে স্বাক্ষরকারী গোবিন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা সাদিকুর রহমান বলেন, সভাপতি মতিউর রহমানের বিদ্যালয়ের টাকা পয়সার কোন হিসাব দিচ্ছেন না। টাকা আত্মসাৎ করায় আজ বিদ্যালয়ের বেহাল দশা।
বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সদস্য শাহীনুর রহমান বলেন, দুর্নীতি আর অনিয়মের কারণে বিদ্যালয়টি জরাজীর্ণ অবস্থায় পতিত হয়েছে। বিদ্যালটি রক্ষায় সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।
লক্ষণশ্রী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও সদর থানা যুবলীগের আহবায়ক কমিটির সদস্য মহিনুর রহমান বলেন, বিগত ২৭ বছর বিদ্যালয়ের দায়িত্বশীল ব্যাক্তিরা উন্নয়নের টাকা লুটপাট করেছেন। যার জন্যে বিদ্যালয়ের অবস্থা করুণ। এর সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। গোবিন্দপুর নিম্ন মাধ্যমিক
বিদ্যালয়ের সদস্য সচিব প্রধান শিক্ষক মাকসুদুর রহমান পীর বলেন,বিদ্যালয় উন্নয়নে বিভিন্ন খাত থেকে বরাদ্দের টাকা এসেছে কিন্তু কোথায় কত টাকা খরচ হয়েছে আমি তা জানি না। সকল বিষয় সভাপতি জানেন। সভাপতি নিজ উদ্যোগে এই বরাদ্দগুলো এনেছেন আবার খরচও তিনিই করেছেন।
পরিচালনা কমিটির সভাপতি,মতিউর রহমান বলেন, ‘আমি হিসাব দেয়ার জন্যে বার বার পরিচালনা কমিটি ও গ্রামবাসীকে আহবান করেছি। কিন্তু তারা হিসাব গ্রহণ করছেন না। অভিযোগ প্রসঙ্গে বলেন, অভিযোগ মিথ্যে ও ভিত্তিহীন। অযথা আমার বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করা হচ্ছে।’
উল্লেখ্য ‘গোবিন্দপুর নি¤œ মাধ্যমিক বিদ্যালয়/যেকোন সময় বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা’ শিরোনামে গত ১৬ অক্টোবর দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।