আমিনুল ইসলাম, তাহিরপুর
তাহিরপুর উপজেলার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের নোয়ানগর গ্রামের সংঘর্ষের ঘটনায় হাফিজ উদ্দিন গ্রুপের ৫০ পরিবার গ্রাম ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে। সোমবার সকাল থেকেই তাদের বসতভিটার স্থাপনা ছেড়ে নৌকা যোগে অন্যত্র চলে গেছে।
জানা যায়, গত শনিবার নোয়ানগর গ্রামের আলী আকবর ও হাফিজ উদ্দিন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের পর আলী আকবর গ্রুপের লোকজন রবিবার রাতে নোয়ানগর গ্রামজুড়ে প্রচারণা চালায়, সোমবার সকাল ৮টার মধ্যে হাফিজ উদ্দিন গ্রুপের লোকজন নোয়ানগর গ্রাম না ছাড়লে তাদের ওপর হামলা করা হবে। এমন ঘোষণা ছড়িয়ে পড়লে হাফিজ উদ্দিন পক্ষের ৫০ পরিবার সোমবার সকাল থেকেই নোয়ানগর গ্রাম ছেড়ে পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।
নোয়ানগর গ্রামের আলী আকবর বলেন, ‘হাফিজ উদ্দিন পক্ষের সাথে আমাদের সংঘর্ষ হয়েছে। কিন্তু তাদেরকে গ্রাম ছেড়ে যেতে আমরা কোন ঘোষণা দেইনি।’
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মিয়া হোসেন বলেন, ‘সোমবার সকাল থেকেই আমি দেখেছি নোয়ানগর গ্রামের হাফিজ উদ্দিন গ্রুপের লোকজন তাদের নিজ গ্রাম ছেড়ে পাশ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আশ্রয় নিয়েছে।’ তিনি আরো জানান, ১২০ পরিবারের গ্রাম নোয়ানগর। এ গ্রামের ৫০টি পরিবার তাদের ছেলেমেয়ে সহ নোয়ানগর গ্রাম ছেড়ে পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলোতে আশ্রয় নেওয়ার ঘটনায় এ প্রভাব নোয়ানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়বে। বিদ্যালয়টি এখন ছাত্রশূন্য হওয়ার আশঙ্কায় পড়েছে।
গ্রাম ছেড়ে যাওয়া পরিবারগুলো হলো, আজগর আলী, খুরশিদ আলী, হাফিজ উদ্দিন, লোকমান মিয়া, দুলাল মিয়া, ফখর উদ্দিন, রিয়াজ উদ্দিন, কপিল উদ্দিন, সামছুল হক, গিয়াস উদ্দিন, ফারুক মিয়া, রতন মিয়া, নাঈম আহমদ, আবুল কাশেম, মিস্টু মিয়া, মতি মিয়া, কামাল হোসেন, আছিম উদ্দিন, ওয়াসিম মিয়া, স্বপন মিয়া, সাজিকুল মিয়া, আলীনূর, সিরাজুল হক, সাজিকুল হক, আলখাছ উদ্দিন, হারিছ উদ্দিন, ময়না মিয়া, আশরাকুল মিয়া, গিয়াস উদ্দিন, নিজাম উদ্দিন, হবিকুল, হাবিদ আলী, বাবলু মিয়া, শাহিন মিয়া, জয়নাল আবেদীনের পরিবার সহ ৫০ পরিবার নিজ গ্রাম নোয়ানগর ছেড়ে বাড়িঘর ফেলে রেখে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও গরুবাছুর নিয়ে পাশ্ববর্তী মারালা, কান্ডবপুর ও সাহেবনগর গ্রামে নতুন করে বসতি স্থাপনের জন্য চলে গেছে। আবার অনেকেই তাদের শ্বশুরবাড়িতে চলে যাচ্ছেন। বাড়ী ছেড়ে চলে যাওয়ার সময় নোয়নগর গ্রামে তাদের কান্নার মাতম উঠেছে বলে এলাকাবাসী জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার নোয়ানগর গ্রামের আকবর আলী ও হাফিজ উদ্দিন পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ৪০ আহত হয়েছিল।
নোয়ানগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মুবাশ্বির আলম বলেন, ‘বিদ্যালয় স্ক্যাচম্যাপ এলাকার পরিবারগুলো অন্যত্র চলে যাওয়ার কারণে বিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা কমে যাবে।’
শ্রীপুর দক্ষিণ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান বিশ্বজিত সরকার বলেন, ‘বিষয়টি আমি ৮নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্যের নিকট থেকে শুনেছি। তারা যদি এভাবে বসতবাড়ি থেকে চলে যায়, বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে চেষ্টা করা হবে।’
তাহিরপুর থানা অফিসার ইনচার্জ নন্দন কান্তি ধর বলেন, ‘বিষয়টি আমাকে কেই জানায়নি। আপনার নিকট থেকে আমি প্রথম শুনেছি। নিরাপত্তার বিষয়ে কেউ বাড়ি থেকে চলে গেলে তাদের ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেয়া হবে।’