লিপসন আহমেদ
৯৯৯ বা ট্রিপল ৯, নাম্বারটি সবার জানা। এই নাম্বারে ফোন দিলে তাৎক্ষণিক যে কোন সেবা পাওয়া যায়। তবে অবাক হওয়ার বিষয় হলো এই নাম্বারেও যে গ্রামের নাম আছে তা অনেকেই জানে না। হ্যাঁ কথাগুলো রহস্যময় হলেও সত্যি।
সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার ৫২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার গ্রামের ঠিকানা হিসেবে এই নাম্বারটি ব্যবহার করা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকায় এমন ঘটনা ঘটেছে।
জানা যায়, দেশের সাধারণ মানুষ যে কোন সম্যায় পড়লে ৯৯৯ বা ট্রিপল ৯ জরুরি পরিসেবার নম্বরে কল দেন। ফ্রি কলে এই নম্বরে দেশের সর্বোচ্চ জরুরি সেবা পুলিশ থেকে শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স সার্ভিস সেবা ও পাওয়া যায়। হটলাইনের ‘৯৯৯’ এই নাম্বার এখন দেশের সচেতন মানুষদের জানা। দিনরাত ২৪ ঘণ্টাই এই নম্বরটি চালু থাকে। তবে বর্তমানে এই নাম্বারটি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সুনামগঞ্জে আলাদা একটি পরিচয় পেয়েছে। যা দেখে হতবাক জেলার মানুষ। জরুরি সেবার এই ৯৯৯ লেখা রয়েছে সুনামগঞ্জের সদর উপজেলার ৫২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার গ্রামের ঠিকানা হিসেবে। মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকায় এমন ঘটনা ঘটেছে। গত ২৫ মার্চ প্রকাশিত তালিকায় হয়েছে এমন ভুল। বীর মুক্তিযোদ্ধারা ৯৯৯-এর স্থলে নিজের গ্রামের নাম উলে¬খ করতে সংশোধনের জন্য আবেদন করেছেন। অনেকের গ্রামের নাম সংশোধনও হয়েছে। কারও কারও এখনো হয়নি। এতে হয়রানির শিকার হচ্ছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তান-সন্ততিরা।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের ইব্রাহিমপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. সৈয়দুর রহমান বলেন, মন্ত্রণালয়ে এত শিক্ষিত মানুষ থাকতে সমন্বিত তালিকায় অনেক মুক্তিযোদ্ধার ঠিকানা ভুল হয় কিভাবে।
বৃন্দাবননগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নুর মিয়া বলেন, আমার গ্রামের নামের স্থলেও ৯৯৯ লেখা ছিল। আমি অনেক কষ্ট করে এটা সংশোধন করেছি। কিন্তু অনেকের গ্রামের নাম এখনো সংশোধন হয়নি। এতে মুক্তিযোদ্ধারা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
সদর উপজেলার বিরামপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মন্তাজ আলী বলেন, এটা সত্যি দুঃখজনক। মুক্তিযুদ্ধাদের ঠিকানা ভুলভাবে প্রকাশ করা হয়েছে। তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর আমরা বিষয়টি জানতে পেরেছি। উপজেলা কমান্ডারের মাধ্যমে সংশোধনের জন্য জন্য আবেদন করেছি।
সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল মজিদ বলেন, অনেক মুক্তিযোদ্ধার গ্রামের নাম ভুল হয়েছে। সবাই সংশোধনের জন্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন। এই ভুলের জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু সুফিয়ান বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫১ বছর পরও মুক্তিযোদ্ধাদের সমস্যা দূর হচ্ছে না। সম্প্রতি নতুন সমস্যা দেখা দিয়েছে সমন্বিত তালিকা নিয়ে। সরকার মন্ত্রণালয় থেকে যে তালিকা প্রকাশ করেছে সেটাতে দেখা গেছে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বায়ী ঠিকানা গ্রামের স্থলে ৯৯৯ বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটা সত্যি খুব দুঃখজনক।
জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিটের প্রশাসক ও জেলা প্রশাসক দিদারে আলম মোহাম্মদ মাকসুদ চৌধুরী বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধারা দেশের সূর্যসন্তান। তাদের এ সমস্যাটি আমার আগে জানা ছিল না। আমি নতুন যোগদান করেছি। মুক্তিযোদ্ধাদের এই বিষয়টি মন্ত্রণালয়ে কথা বলে দ্রুত সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।