- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

‘গ্রামীণ সড়ক সংকুচিত করেও ৫ সেতু নির্মাণ জরুরি’

বিশেষ প্রতিনিধি
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র একজন দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা বললেন,‘‘সুনামগঞ্জ জেলায় বছরে আমরা প্রায় দেড়’শ কোটি টাকার গ্রামীণ সড়ক যোগাযোগ নেটওয়ার্ক বর্ধিতকরণ ও সংস্কারে ব্যয় করি। অথচ. এই দেড়’শ কোটি টাকা বছরে ব্যয় না করেও যদি জেলার গুরুত্বপূর্ণ ৫ টি সেতু’র কাজ শেষ করা যায়  এই অঞ্চলের আর্থিক ‘আউটপুট’ বেশি হবে’’। এই মন্তব্য করে দায়িত্বশীল ঐ কর্মকর্তা বললেন,‘সড়ক নেটওয়ার্ক যা আমরা করেছি, আরও ৩-৪ বছর না করলেও বড় কোন সমস্যা হবে না। কিন্তু সেতুগুলো হলে সংশ্লিষ্ট জনপদের চেহারা পাল্টে যাবে। আমি এই কথা বললে সংসদ সদস্যগণ বিরক্ত হবেন, তারা বলবেন- অনেক সড়কেরই তো কাজ বাকি রয়েছে। আমি মনে করি এই সড়কগুলো পরে করলেও জন চলাচলে খুব বেশি কষ্ট হবে না, বা জীবন-যাত্রাও থমকে যাবে না। কিন্তু সেতুগুলো হলে জীবন-যাত্রার গতি বেড়ে যাবে, জনপদ উন্নত হবে’। ঐ প্রকৌশলী জানালেন, সুনামগঞ্জের এই ৫ সেতু হচ্ছে ছাতকে সুরমা নদীতে সেতু, সাচনা-জামালগঞ্জ সেতু, মার্কুলি সেতু, হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু, দোয়ারাবাজারের সুরমা নদীতে এলাকাবাসীর দাবিকৃত মুক্তিযোদ্ধা সেতু।
সুনামগঞ্জের শিক্ষাবিদ পরিমল কান্তি দে বলেন,‘সুনামগঞ্জের গ্রামীণ সড়কগুলোর ব্যয় সংকুচন করে হলেও জরুরি ৫ সেতুগুলোর মধ্যে বছরে কমপক্ষে ১ টি করে সেতু নির্মাণ প্রয়োজন। সেতুগুলোর নির্মাণ কাজ শেষ হলে সুনামগঞ্জের উন্নয়ন যাত্রা ত্বরান্বিত হবে’।
দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ  চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন,‘আমি যে ফোরামেই সুযোগ পাই সেতু’র কথা বলি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বড় সেতুগুলো করা প্রয়োজন’।
শাল্লা কলেজের সহকারী অধ্যাপক তরুণ কান্তি দাস বলেন,‘‘কুশিয়ারা নদীর উপর ‘মার্কুলি সেতু’ হলে দিরাই থেকে ধল হয়ে মার্কুলি-বানিয়াচং-হবিগঞ্জ হয়ে ঢাকায় যেতে ৩ ঘণ্টা সময় কম লাগবে। শাল্লা থেকে পাহাড়পুর হয়ে মার্কুলি পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এই সড়ক হলে এবং মার্কুলি  সেতু হলে শাল্লাবাসীরও ঢাকা যেতে অনেক কম সময় লাগবে। এমনকি জামালগঞ্জ-সুনামগঞ্জ থেকেও মার্কুলি হয়ে ঢাকা যেতে কম সময়ে বিকল্প সড়ক হবে’।
জামালগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. হাবিবুর রহমান চৌধুরী বলেন,‘যোগাযোগের ক্ষেত্রে এই মুহূর্তে জামালগঞ্জে সবচেয়ে জরুরি সাচনা-জামালগঞ্জ সেতু। যোগাযোগের ক্ষেত্রে অন্য কোন কাজ না করে হলেও জামালগঞ্জ-সাচনাবাজার সেতু হওয়া প্রয়োজন। এই সড়ক হলে পুরো জামালগঞ্জ উপজেলা এমনকি ধর্মপাশা উপজেলারও একটি অংশের সঙ্গে সুনামগঞ্জ জেলা সদরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপন হবে’।
পিএসসি’র চেয়ারম্যান সাবেক শিক্ষা সচিব সুনামগঞ্জের সন্তান ড. মোহাম্মদ সাদিক বলেন,‘হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু হলে বদলে যাবে সুনামগঞ্জের সীমান্তবর্তী ৬ ইউনিয়নের মানুষের জীবনচিত্র। এই সেতু হলে ডলুরায় এখন যেখানে বর্ডারহাট রয়েছে, এর পাশেই শুল্কবন্দর করার বিষয়টিও সহজ হয়ে উঠবে। আমি সুনামগঞ্জের দুটি বড় কাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলাম, একটি জেলা শিল্পকলা একাডেমী, অন্যটি ঐতিহ্য যাদুঘর। সুনামগঞ্জের সন্তান হিসাবে আমি মনে করছি আরও দুটি বড় কাজের সঙ্গে আমার যুক্ত থাকা জরুরি। এই দুটি কাজের একটি হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু, অপরটি সুনামগঞ্জ পর্যন্ত রেললাইন বাস্তবায়ন। আমার আবেগ-অনুভূতি সবকিছুই সুনামগঞ্জকে ঘিরে। আমি এই দুটি কাজ করতে যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই অনুরোধ জানাব’।
সুনামগঞ্জ এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী ইকবাল আহমদ বলেন,‘সুনামগঞ্জের সাচনা-জামালগঞ্জ সেতু, হালুয়ারঘাট-ধারারগাঁও সেতু, মার্কুলি সেতু, ছাতকে সুরমা নদীর উপর সেতু এবং দোয়ারাবাজারে সুরমা নদীর উপর সেতু হওয়া জরুরি। অন্য কাজ কম করে এই কাজগুলো করলে যে অর্থনৈতিক সুফল আসবে- সেটি সড়ক করার চেয়ে অনেকগুণ বেশি হবে’।

  • [১]