- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

গ্রামের নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টা, এলাকায় উত্তেজনা

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুর উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের শত বছরের পুরাতন একটি গ্রামের নাম পরিবর্তন করার চেষ্টাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে গ্রামের দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় গ্রামবাসীর পক্ষে বুধবার নাম পরিবর্তনের প্রচেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করে গ্রামের শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত আবেদন করা হয়।
গ্রামবাসী ও তাদের লিখিত অভিযোগ থেকে জানা যায়, উপজেলার পাইলগাঁও ইউনিয়নের ঐয়ারদাশ গ্রামটি শত বছরের পুরাতন একটি গ্রাম। হিন্দু সম্প্রদায় অধ্যুষিত হলেও যুগ যুগ ধরে গ্রামে হিন্দু মুসলমান সম্প্রদায়ের লোকজন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে বসবাস করে আসছেন। সম্প্রতি গ্রামের যুক্তরাজ্য প্রবাসী নুর উদ্দিন দেশে এসে গ্রামের নাম পরিবর্তন করে তার বাড়ির গেইটে মোহাম্মদপুর লিখে গ্রামের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা চালান। গ্রামবাসী এতে প্রতিবাদ করলেও তিনি গ্রামের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আগামী ১ ফেব্রুয়ারি তার অনুসারী কয়েক তরুণদেরকে দিয়ে মোহাম্মদপর (ঐয়ারদাশ) আদর্শ ইসলামি যুব সংঘের নাম দিয়ে ১ম ইসলামী সুন্নী মহাসন্মেলনের আয়োজন করেছেন। এতে গ্রামের নাম মোহাম্মদপুর উল্লেখ করে পোস্টার ও মাইকিং চালিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।
ঐয়ারদাচ গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দা সমাজসেবী ইসলাম উদ্দিন বলেন, শত বছরের পুরাতন সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এ গ্রাম। আমাদের সকল কাগজপত্রে মৌজায় গ্রামের নাম ঐয়ারদাশ লেখা থাকলেও হঠাৎ করে নুর উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি গ্রামের নাম পরিবর্তনের চেষ্টা করায় আমরা বিব্রত।
তিনি বলেন, গ্রামের অধিকাংশ বাসিন্দারা নাম পরিবর্তনের বিপক্ষে রয়েছেন। এলাকাবাসী তাকে নিষেধ করলেও তিনি তা অমান্য করে এনিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির পায়তারা করছেন।
একই গ্রামের আরেক প্রবীণ রানা দাস বলেন, শত বছরের পুরাতন এ গ্রামে বর্তমানে ৫০ পরিবারের মধ্যে ৩৫ পরিবার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বসবাস। মাত্র ১৫ পরিবার রয়েছে মুসলিম সম্প্রদায়ের। দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছেন নুর উদ্দিন।
গ্রামের তরুণ সমাজকর্মী কবির মিয়ার অভিযোগ নুর উদ্দিন একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী। বর্তমানে নিষিদ্ধ জামায়াত ইসলামীর সাথে জড়িত। তিনি একটি মসজিদ তৈরি করেছেন। ওই মসজিদ থেকে শুক্রবার জুম্মার নামাজের দিনে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কটুক্তিমূলক বক্তব্য প্রদান করা হয়।
পাইলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের আবু বক্কর মধু বলেন, ঐয়ারদাশ গ্রামের নাম পরিবর্তন করে মোহাম্মদপুর লেখা নিয়ে উত্তেজনার বিষয়টি অবহিত হয়ে আমি ঘটনাটি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি কে জানাতে বলেছি। কারণ ওই ব্যক্তি আমাদের কথা শুনেন না।
নুর উদ্দিন বলেন, গ্রামের নাম পরিবর্তনের কোন প্রশ্ন হতে পারে না। ঐয়ারদাশ একটি হিন্দু গ্রাম। এ গ্রামে এখন মুসলমানদের বসতি বেশি। তাই হিন্দু গ্রামের নামে তো মসজিদ হতে পারে না। তাই গ্রামবাসীর সন্মতিতে ১৩ বছর আগে মসজিদ তৈরি করে আমরা মোহাম্মদপুর ঐয়ারদাশ জামে মসজিদ নামকরণ করেছি। এখন আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, কোন ব্যক্তির ইচ্ছে গ্রামের নাম পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কে পদক্ষেপ নিতে বলেছি।
জগন্নাথপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, শান্তি শৃঙ্খলা রক্ষায় এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

  • [১]