- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

গ্রামের মানুষ টিকা গ্রহণে আগ্রহী নয়

বিশেষ প্রতিনিধি
‘টিকা কেমনে লইন, কার টাইন যাওয়া লাগে জানি না আমি, হাসপাতালে যে টিকা আছে, ইটাও জানি না, এর লাগি টিকা লইছি না।’
দিরাই শহরে ফেরী করে আচার বিক্রেতা দিরাই পৌর এলাকার ইসলামপুরের বাসিন্দা মকদ্দুছ মিয়া (৫০)’র মন্তব্য এটি।
এই পৌর এলাকার দোকানী মজলিশপুরের বিকাশ চন্দ্র দাশ (৩৮) জানালেন, হাসপাতালে টিকা দেওয়া হয় জানেন, কিভাবে টিকা নিতে হবে জানেন না।
মকদ্দুছ কিংবা বিকাশই কেবল নয়। জেলার গ্রামের মানুষের বেশিরভাগই টিকা কিভাবে নিতে হবে জানেন না। জানার আগ্রহও কম দেখান। অর্থাৎ টিকা নেবার আগ্রহও কম। এ কারণে হাওরের জেলা সুনামগঞ্জ থেকে প্রথম ও দ্বিতীয় দফায় আসা টিকার প্রায় ২২ হাজার ডোজ ফেরৎ গেছে। এবার অর্থাৎ তৃতীয় ও চতুর্থ দফায় আসা টিকা নিতেও আশাব্যাঞ্জক সাড়া নেই এই জেলায়।
সিভিল সার্জন অফিসের দায়িত্বশীলরা জানান, সুনামগঞ্জে প্রথম দফায় ৮৪ হাজার, দ্বিতীয় দফায় ৩৯ হাজার ডোজ টিকা এসেছিল। এরমধ্যে প্রথম দফায় টিকা নিয়েছেন ৬১ হাজার ৭৯০ জন, দ্বিতীয় দফায় নিয়েছেন ৪০ হাজার ৭৪৯ জন। টিকা নিতে আগ্রহী কম থাকায় মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার আশংকায় গত ১৬ এপ্রিলের পূর্বে ২২ হাজার টিকা এই জেলা থেকে ফেরত গেছে।
তৃতীয় দফায় এই জেলায় টিকা এসেছে ছয় হাজার ডোজ, সর্বশেষ রোববার চতুর্থ এসেছে ৩৮ হাজার ৪০০ ডোজ। সব মিলিয়ে ৪৪ হাজার ৪০০ ডোজ টিকা এসে পৌঁছেছে এই জেলায়। কিন্তু গত ১৯ জুন থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত এই জেলায় মোট ৮০৩ জন টিকা গ্রহণ করেছেন।
জেলায় করোনার সক্রমণ বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলের ঘরে ঘরে জ¦র-সর্দি আছে। কিন্তু করোনার টিকা নিতে আগ্রহী খুবই কম। গ্রামের মানুষ বুঝতেই পারছে না, করোনার সক্রমণ ঠেকাতে হলে টিকা নেওয়া জরুরি।
দোয়ারাবাজার সীমান্তের লক্ষীপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আমিরুল ইসলাম বললেন, টেলিভশনে সংবাদ দেখে তিনি সোমবারই জানতে পেরেছেন দোয়ারাবাজার উপজেলা পরিষদ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও টিকা দেওয়া যাবে। এজন্য বিকালে পরিষদের সদস্যদের সভা ডেকেছেন, এই বিষয়ে প্রচারণা কিভাবে দেওয়া যায় মতবিনিময়র করার জন্য। এই জনপ্রতিনিধি দাবি করলেন, ইউনিয়নে ইউনিয়নে টিকা দেবার ব্যবস্থা হলে মানুষের জন্য সুবিধা হতো।
দিরাই উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান কর্মকর্তা স্বাধীন কুমার দাস দাবি করলেন, ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে এলাকার মসজিদের মাইক ব্যবহার করেও টিকা দেবার প্রচারণা ও সচেতন করার কাজ করছেন তারা।
সিভিল সার্জন মো. শামছ উদ্দিন আহমেদ টিকা দিতে আগ্রহী না থাকায় প্রথম ও দ্বিতীয় দফার ২২ হাজার টিকা ফেরৎ যাবার কথা জানিয়ে বললেন, এই দফায়ও এই পর্যন্ত টিকা প্রদান বা রেজিস্টেশন আশা ব্যাঞ্জক নয়। যত দ্রুত সম্ভব সুরক্ষা অ্যাপের মাধ্যমে রেজিস্টেশন সম্পন্ন করে সকলকে টিকা গ্রহণের অনুরোধ জানান তিনি। একই সঙ্গে সকল পর্যায়ের দায়িত্বশীলরা নিজে টিকা গ্রহণ করে অন্যকে টিকা গ্রহণে উৎসাহিত করার কাজ করারও অনুরোধ জানান এই কর্মকর্তা।

  • [১]