ধর্মপাশা প্রতিনিধি
শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব গ্রহণ করতে আসেননি সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা (মধ্যনগর) উপজেলার মধ্যনগর ইউনিয়ন পরিষদের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু। তবে টিটুর বিরুদ্ধে মধ্যনগর থানায় মামলা থাকায় গ্রেফতার ও আইনি ঝামেলা এড়াতে তিনি দায়িত্ব নিতে আসেননি বলে জানিয়েছেন একই পরিষদের ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আর্শাদ মিয়াসহ মামলার বাদী কামাল হোসেন। এদিকে টিটু জানিয়েছেন, তিনি নিজেই হামলার শিকার। তাই তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের সচিব তাঁর পক্ষে দায়িত্ব নিয়েছেন। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নে একযোগে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের দায়িত্ব হস্তান্তর ও দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে টিটু অনুপস্থিত ছিলেন।
গত ৫ জানুয়ারি ধর্মপাশা উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নির্বাচিত অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হন। কিন্তু গত ২৯ জানুয়ারি স্থানীয় টুকেরবাজার বণিক সমিতির সভাপতি পদে নির্বাচনে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে মধ্যনগর থানা যুবলীগের সভাপতি মোস্তাক আহমেদের ছোট ভাই আর্শাদ মিয়া ও কামাল হোসেনের সাথে টিটুর সমর্থক আব্দুল হালিমের দ্বন্দ্ব শুরু হয়। বিষয়টি নিয়ে উভয়পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়। এতে টিটুসহ মোস্তাকের ভাই রেজাউল, সুলেমান, জুয়েল আহত হয়। এ ঘটনায় পরের দিন কামাল হোসেন বাদী হয়ে টিটুর বিরুদ্ধে এবং টিটুর পক্ষে তার চাচাতে ভাই সমরেন্দ্র তালুকদার মোস্তাকসহ তার ভাইদের আসামী করে মধ্যনগর থানায় মামলা করেন। গত ৩১ জানুয়ারি অসুস্থ শরীর নিয়েই টিটু সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছে শপথ গ্রহণ করেন। এদিকে মঙ্গলবার উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের দায়িত্ব গ্রহণ করতে নির্দেশ দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। কিন্তু টিটু দায়িত্ব নিতে আসেননি।
মোস্তাকের ভাই ইউপি সদস্য আর্শাদ মিয়া বলেন, ‘আমি জামিন নিয়ে এসেছি। টিটু গ্রেফতারের ভয়ে দায়িত্ব নিতে আসেননি।’
সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটু বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যদি মামলা থাকে তাহলে অবশ্যই আদালতে যাবো। আমি নিজেই হামলার শিকার এবং কোনো অপরাধ করিনি। শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণে উপস্থিত হতে পারিনি। আমার পক্ষে ইউপি সচিব দায়িত্ব নিয়েছেন।’
মধ্যনগর থানার ওসি নির্মল দেব বলেন, ‘সঞ্জিব রঞ্জন তালুকদার টিটুর বিরুদ্ধে মধ্যনগর থানায় রেকর্ডভুক্ত মামলা রয়েছে।’
ধর্মপাশা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুনতাসির হাসান বলেন, ‘শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি (চেয়ারম্যান) দায়িত্ব নিতে আসতে পারেননি বলে জানিয়েছেন। সচিব দায়িত্ব নিয়েছে। তার কাছ থেকে পরে চেয়ারম্যান দায়িত্ব বুঝে নিতে পারবে।’