আকরাম উদ্দিন
ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট, লোডশেডিং, সংযোগ প্রদান ও ট্রান্সফরমার বদলে দুর্নীতি’র প্রতিবাদে বুধবার সন্ধ্যায় বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুলের আহ্বানে এই ঘেরাও কর্মসূচি পালিত হয়। এর আগে সুনামগঞ্জ পৌরসভা চত্বর থেকে মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুলের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ অফিস পর্যন্ত মিছিল করে যান বিক্ষুব্ধ গ্রাহকরা। বিদ্যুৎ অফিসের সামনে বিক্ষুব্ধ গ্রাহকদের মিছিল পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। পুলিশের বাধা ডিঙিয়েই পৌর মেয়রসহ বিক্ষুব্ধ গ্রাহক নেতৃবৃন্দ বিদ্যুৎ অফিসে প্রবেশ করেন।
নেতৃবৃন্দ অফিসে প্রবেশ করে বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামানের কাছে ক্ষুব্ধ কন্ঠে বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও দুর্নীতির জবাব চান।
পৌর মেয়র আয়ুব বখ্ত জগলুল নির্বাহী প্রকৌশলীকে উদ্দেশ্য করে বলেন,‘আপনি মাসে ৩ দিন সুনামগঞ্জে এসে অফিস করেন এবং ঘুষের টাকা নিয়ে চলে যান। আপনাকে ফোন করলেই বলেন সিলেট-ঢাকায় আছি। শহরের পূর্ব নতুনপাড়ায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার বিকল হবার পর আপনি ৭০ হাজার টাকা নিয়ে নতুন আরেকটি ট্রান্সফরমার লাগিয়েছেন। এখন থেকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দিতে হবে। ২৪ ঘণ্টা আপনাকে সুনামগঞ্জে থাকতে হবে। এক পর্যায়ে প্রকৌশলী বিষয়টিকে জাতীয় সমস্যা বললে, মেয়রসহ উপস্থিত গ্রাহকরা ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন,‘আপনি প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কথা বলছেন। আপনি জামায়াত। আপনি অন্তর্ঘাতমূলক কাজ করছেন। আপনাকে এই জেলা থেকে বিদায় নিতে হবে’।
শেষে মেয়র জগলুল বিদ্যুৎ অফিসের সামনে অপেক্ষামাণ গ্রাহকদের উদ্দেশ্যে বলেন,‘আমরা প্রকৌশলীকে বলেছি, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া না হলে যেখানে বিদ্যুতের কর্মচারী পাওয়া যাবে, সেখানেই আটকানো হবে। কারণ তারা দুর্নীতিতে জড়িত আছে।’ মেয়র বলেন, ‘আজ বুধবার রাত থেকে বিদ্যুৎ গেলে হুকুমের অপেক্ষা না করে, যে যেখানে থাকবেন সেখান থেকে এসেই বিদ্যুৎ অফিস ঘেরাও করবেন। ট্রান্সফরমার নষ্ট হলে ঘুষের টাকা দেবেন না, আমাকে বলবেন।’ তিনি বলেন,‘এই প্রকৌশলী সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চক্রান্তে লিপ্ত রয়েছেন।’
ঘেরাও কর্মসূচি চলাকালে মুক্তিযোদ্ধা শহীদ জগৎজ্যোতি পাঠাগারের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. সৈয়দ শামছুল ইসলাম, রাজনীতিবিদ রমেন্দ্র কুমার দে মিন্টু, সাংবাদিক অ্যাড. আইনুল ইসলাম বাবলু, জেলা বারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, অ্যাড. চান মিয়া, লেখক মুর্শেদ আলমসহ পৌরসভার কাউন্সিলারবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।