- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

ঘর পেয়ে আনন্দিত তারা

স্টাফ রিপোর্টার
কদ্দুস মিয়া। তেঘরিয়ায় স্ত্রী সন্তানসহ ৭ সদস্য নিয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন। পঁয়ষট্টি বছর বয়সেও প্রতিদিন ঠেলাগাড়ি চালিয়ে পরিবারের ভরণপোষণের ব্যয় নির্বাহ করতেন। বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রীর দেয়া জমিসহ ঘর পেয়েছেন তিনি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ ৩৫ বছর পর নিজের স্থায়ী ঠিকানা পেয়েছেন তিনি। কদ্দুস মিয়া বললেন, আমার ৫ ছেলে-মেয়ে। ২ জন প্রতিবন্ধী। এই বয়সেও ঠেলাগাড়ি চালিয়ে সংসারের খরচ, বাসা ভাড়ার টাকা উপার্জন করতে হয়। এখন আর পারছি না। প্রধানমন্ত্রীর ঘর পেয়ে আজ আমি খুবই আনন্দিত।
কদ্দুস মিয়ার স্ত্রী কোকিলা বেগম বললেন, আমি বাসা-বাড়িতে কাজ করি। দু’জনের উপার্জনে বাসা ভাড়া, সন্তানদের ভরনপোষন চলতো। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই দিয়েছেন। জমিসহ একটি ঘর দিয়েছেন। আমরা প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া করি, আল্লাহ যেনো তাঁকে সুস্থ রাখেন।
শুধু কদ্দুস মিয়া বা কোকিলা বেগম নন, একই দিনে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫টি ভূমি ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বৃহস্পতিবার সকালে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে সারাদেশে ২৬ হাজার ২২৯ টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর প্রদান করেন।
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মিলনায়তনে ঘর হস্তান্তর কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইমরান শাহরিয়ায়, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাড. আবুল হোসেন, কৃষি অফিসার সালাহ উদ্দিন টিপু প্রমুখ।
জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বললেন, সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫ জন ভূমি ও গৃহহীন পরিবারকে জমিসহ ঘর হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ৩৫ টি পরিবারের মাঝে ঘরের চাবি, দলিলপত্রসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমঝে দেয়া হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আজ ৫২ টি উপজেলাকে গৃহ ও ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করেছেন। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সুনামগঞ্জের প্রতিটি উপজেলাকে গৃহ ও ভূমিহীন মুক্ত ঘোষণা করতে চাই আমরা। সে লক্ষেই আমরা কাজ করছি।
প্রসঙ্গত, সুনামগঞ্জ জেলায় ৩য় পর্যায়ে (২য় ধাপ) ৪০৬টি ঘর ০২ শতাংশ খাস জমি বন্দোবস্তসহ আনুষ্ঠানিক হস্তান্তর করা হয়। এরমধ্যে সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায় ৩৫টি, দোয়ারাবাজার উপজেলায় ৯০টি, বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ৬০টি, ছাতক উপজেলায় ৫৮টি, জগন্নাথপুর উপজেলায় ৩০টি, জামালগঞ্জ উপজেলায় ২৫টি, শান্তিগঞ্জ উপজেলায় ৩৫টি, তাহিরপুর উপজেলায় ৪০টি এবং দিরাই উপজেলায় ৩৩টি ঘর হস্তান্তর করা হয়।

  • [১]