স্টাফ রিপোর্টার
সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের বেরিগাঁও মাঠে দুই দিনব্যাপী গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন তাদের ঘোড়া নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশ নেন।
এলাকার বিপুল সংখ্যক মানুষ উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে দুইদিনের এই ঘোড়দৌঁড় প্রতিযোগিতা উপভোগ করেন। সুরমা ইউনিয়নের পার্বতীপুর, তেরাপুর, বেরিগাঁও, ষোলঘর ও মইনপুর গ্রামবাসীর যৌথ আয়োজনে এই প্রতিযোগিতা হয়। গতকাল রোববার বিকেলে এই প্রতিযোগিতা শেষ হয়েছে। আয়োজক কমিটির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানান, শুক্রবার বিকেলেই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সিলেট বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে নিজেদের ঘোড়া নিয়ে আসেন লোকজন। প্রতিযোগিতা হয় শনিবার ও রোববার। একেকটি ঘোড়ার সঙ্গে দুই থেকে পাঁচজন লোক আসেন। এসব লোকের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করেন আয়োজক গ্রামের লোকজন। দুই দিনের প্রতিযোগিতায় ১০৪টি ঘোড়া অংশ নেয়। এসব ঘোড়ার বাহারি নাম ছিল। প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার একটি ২১ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন পায় সুনামগঞ্জের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলার ‘নিউ স্টার’, দ্বিতীয় পুরস্কার ১৪ ইঞ্চি রঙিন টেলিভিশন পায় সিলেটের রাজবাড়ী এলাকার ‘সোনার বাংলা’, তৃতীয় পুরস্কার হিসেবে একটি ছাগল পায় জেলার বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ‘সোনার ময়না’। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ৬৪টি ঘোড়াকে পুরস্কৃত করা হয়। অন্যদের দেওয়া হয়েছে কলসি, বালতি, ছাতাসহ বিভিন্ন উপহার সামগ্রী।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুনামগঞ্জ-৪ আসনের (সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ। তিনি পুরস্কার বিতরণ করেন। এ ছাড়া সমাপনী অনুষ্ঠানে আয়োজক সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, জেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম আহবায়ক রশিদ আহমদ, সুরমা ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য আবুল হোসেন, ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য ওয়াসকুরুনি, স্থানীয় বাসিন্দা নুরুল হক, আনোয়ার হোসেন, ইকবাল হোসেন প্রমুখ বক্তব্য দেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সাংসদ পীর ফজলুর রহমান মিসবাহ বলেন, ঘোড়দৌঁড়, কুস্তি, হা-ডু-ডু নৌকাবাইচ ইত্যাদি আমাদের ঐতিহ্যের অংশ। এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে গ্রামে-গ্রামে, মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যরে বন্ধন সুদৃঢ় হয়। কিন্ত নানা কারণে গ্রামে এসব আয়োজন এখন কমে যাচ্ছে। এসব ধরে রাখতে হবে। সুনামগঞ্জে যারাই এসব আয়োজন করবেন আমরা তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেব।