সোহেল তালুকদার, শান্তিগঞ্জ
শান্তিগঞ্জ উপজেলায় হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) সময়মতো পাচ্ছেন না বিলের টাকা। তাই চরম অর্থ সংকটে পড়েছেন প্রকল্পে থাকা কৃষক পরিবারগুলো। অনেকেই ধার দেনা করে নিজেদের হাওরের ফসল রক্ষায় বাঁধের কাজ বাস্তবায়ন করাচ্ছেন। তবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অনেক লোকজন জানাচ্ছেন, সরকার ঠিকাদারী প্রথা বাতিল করে হাওরের কৃষকদের ফসল রক্ষায় কৃষকরাই প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করবেন এমন নীতিমালা করলেও পিআইসি প্রথা বাতিলের লক্ষে হয়তো কোন অদৃশ্য শক্তি কাজ করছে। তা না হলো সময় মতো কেনো টাকা দেওয়া হচ্ছে না পিআইসির লোকজনকে ? তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এখন ফেব্রুয়ারি মাসের ১০-১১ তারিখ, ২৮ ফেব্রুয়ারীর মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কৃষকরা পেয়েছেন প্রকল্পের মাত্র ২৫ শতাংশ টাকা। প্রত্যেক প্রকল্পে এখন পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে ৫০-৬০ ভাগ কাজ। বাকি কাজ হয়তো আরো সপ্তাহ ১০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তারা আরো জানান, এভাবে চলতে থাকলে হয়তো দু’এক বছরের মধ্যে এই সমস্ত প্রকল্পে আসতে চাইবেন না কৃষকরা। পরে হয়তো আবার চলে যাবে এই কাজগুলো ঠিকাদারী প্রথায়। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, প্রকল্পের টাকা পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়ে আসে। টাকা গুলো ৪ কিস্তিতে পাস হয়ে আসে, এর মধ্যে প্রকল্পের ২৫ শতাংশ টাকা এসেছিলো সেগুলো প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অনুকূলে দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয় থেকে টাকা না আসলে আমাদের কোন কিছু করার নাই।
কৃষক ও পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে ৭টি ইউনিয়নের ছোট বড় ৬টি হাওরে ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৫৬টি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির অনুকূলে মোট ৮ কোটি ১১ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ২৮ কিলোমিটার কাজ বাস্তবায়ন করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী প্রকল্প ব্যয়ের ২৫ শতাংশ টাকা প্রদান করা হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী গত ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধের কমিটি গঠন শেষ করে কাজ শুরুর কথা এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কাজ শেষ করতে হবে।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার দরগাপাশা ইউনিয়নের জামখলা হাওরের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি আবু খালেদ চৌধুরী জানান, আমাদের ইউনিয়নের প্রতিটি প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যে ৫০-৬০ শতাংশ সম্পন্ন করেছেন প্রকল্পের লোকজন। কিন্তু বিলের টাকা পেয়েছি ২৫ শতাংশ । বাকি কাজ হয়তো আরো সপ্তাহ ১০ দিনের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে। তবে সময় মতো টাকা না পাওয়ায় অনেকেই ধার দেনা করে প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করছেন।
উপজেলার খাই হাওরের ২২ নং প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ইউপি সদস্য সাইদুর রহমান জানান, হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধের টাকা সময় মতো আমরা পাই না। কাজ শেষ করেও শেষ বিল পেতে আরো এক বছর অপেক্ষা করতে হয়। এই বছর কাজ করালে পরের বছর গিয়ে টাকা পাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি। কিন্তু কেনো? এভাবে চলতে থাকলে হয়তো আগামীতে এই সব প্রকল্পে কৃষকরা সম্পৃক্ত হবেন না। তখন আবার চলে যাবে ঠিকাদারী প্রথায়। সরকারের কাছে আমাদের হাওরবাসীর নিবেদন, কৃষকরা যেনো সময় মতো টাকা পায় সেই ব্যবস্থা করে দিন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের শান্তিগঞ্জ উপজেলায় দায়িত্বরত উপ সহকারি প্রকৌশলী মো. মাহবুব আলম জানান, প্রথম কিস্তি ২৫ শতাংশ টাকা পিআইসির অনুকূলে দেওয়া হয়েছে। ২য় কিস্তির টাকা এখনো মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়ে আসেনি। টাকা যতদ্রুত চলে আসবে আমরাও টাকা গুলো ছেড়ে দেবো।
শান্তিগঞ্জ উপজেলা কাবিটা স্কীম প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার উজ জামান বলেন, সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। তারা জানিয়েছেন, আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই ২য় ও ৩য় কিস্তির টাকা চলে আসবে। টাকা মন্ত্রণালয় থেকে পাস হয়ে আসলেই পিআইসি কমিটির লোকজনদের দ্রুত সময়ের মধ্যে বিল প্রদান করা হবে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামছুদ্দোহা বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মানাধীন ফসল রক্ষা বাঁধের দ্বিতীয় কিস্তির টাকা প্রদানের জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে। আশা করছি দ্রুত দ্বিতীয় কিস্তির টাকা চলে আসবে। আসা মাত্রই পিআইসিদেরকে দ্বিতীয় কিস্তির টাকা পরিশোধ করা হবে।