জামালগঞ্জ প্রতিনিধি
সুরমা, বৌলাই, ধনু নদী বেষ্টিত জামালগঞ্জে জেগে উঠেছে বিভিন্ন চর। এসব চরে ভূট্টা, মরিচ, টমেটো পেঁয়াজ, সরিষা, সহ বিভিন্ন ফসল চাষ করা হয়। নদীর চরের ফসলের মধ্যে ভুট্টা এখন কৃষকের মাঝে সোনা হিসাবে পরিচিত। যেমন ফলন, তেমন দাম। চরের মাটি ভুট্টা চাষের উপযোগী বলেই ভাগ্যের চাকা ঘুরছে জামালগঞ্জের চাষীদের।
সরজমিনে ফেনারবাক, ভীমখালী, জামালগঞ্জ সদর ও উত্তর ইউনিয়ন ঘুরে দেখা যায়, বালি মাটিতে ভুট্টার বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষীরা ভুট্টার কলা সংগ্রহ করে ঘরে তুলছেন। কেউ সংগ্রহ করা কলা থেকে ভুট্টা বের করছেন। আবার কেউ ভূট্টার কলা থেকে মেশিনের মাধ্যমে ভূট্টা আলাদা করে রোদে শুকাচ্ছেন। গত বছর প্রতি মণ ভুট্টা ৭০০ থেকে ৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এবছর বিক্রি হচ্ছে ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায়।
জামলাবাজ গ্রামের কৃষক আব্দুস সোবহান বলেন, আমি নদীর তীরে ৪ বিঘা জমিতে ভুট্টার চাষ করেছি। ফলন বেশ ভাল হয়েছে, অন্য ফসলের তুলনায় ভুট্টা বেশ লাভজনক। এই ফসল চাষে আমরা লাভবান হয়েছি।
রামপুর গ্রামের কৃষক তাজুল ইসলাম বলেন, এই বছর ভুট্টার ফলন ভাল হয়েছে। তবে বৃষ্টি না থাকায় সেচ দিয়ে পানি দিতে একটু খরচ বেশী হয়েছে।
একই গ্রামের ফজলুল হক বলেন, ভুট্টা চাষ করে গত তিন বছর অনেক লাভবান হয়েছি। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকাররা আসে ভুট্টা কিনতে। এবছর প্রতি বিঘায় খরচ হয়েছে ১০ হাজার টাকা। বিঘা প্রতি ১০০ মণ ভুট্টা পাওয়ার আসা করছি।
গজারিয়া গ্রামের প্রবীণ কৃষক আব্দুল খলিল তালুকদার বলেন, ১৯৭১ সাল এসব নদীর চর ছিল মরুভুমি। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে চরের মাটিতে ফসলের উপযোগী করতে এই এলাকার চাষীরা নিরলস চেষ্টা করছেন। এখন এই অঞ্চলের কৃষকের মন খুশিতে ভরেছে। বিস্তীর্ণ এলাকায় ভুট্টার সোনালী রঙে মন জুড়িয়ে যায়।
জামালগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলা উদ্দিন বলেন, নদীর পাড় ও চরের জমিতে ভুট্টা চাষ দিন দিন বাড়ছে। গত বছরের তুলনায় এবছর ১০৬ হেক্টর জমিতে ভুট্টা চাষ বেশী হয়েছে। সিলেট বিভাগের মধ্যে পতিত জমিতে ভুট্টা চাষ বেশী করেছেন রামপুর গ্রামের আবুল কালাম। তিনি ১৩০ বিঘা পতিত জমিতে এই প্রথম ভুট্টা চাষ করেছেন। বিনা ঝামেলায় ভুট্টা উত্তোলন, ফলন ভালো ও লাভজনক হওয়ায় আগামীতে আরও বেশী জমিতে ভুট্টা চাষ করবেন কৃষকরা।