- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চলছে ক্ষণগননা

আলী আহমদ, জগন্নাথপুর
জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণা শেষ। আজ সোমবার ভোটগ্রহণ। অবাধ, সুষ্ঠু ও একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের সকল প্রস্তুুতি সম্পন্ন হয়েছে। শনিবার রাত ১২টায় নির্বাচনী প্রচার প্রচারণার নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে গেছে। ভোটাররা এখন হিসাব কষছেন কে হচ্ছেন পরিষদের নতুন চেয়ারম্যান।  
একটি পৌরসভা ও ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ উপজেলায় মোট ভোটার সংখ্যা এক লাখ ৬৭ হাজার ৪৯৯ জন। ৮৭ কেন্দ্রে ভোট দেবেন তারা। এর মধ্যে পুুরুষ ভোটার ৮৩ হাজার ৬শ ৯২ ও মহিলা ভোটার ৮৩ হাজার ৮শ ৭জন। মোট ৮৭টি ভোট কেন্দ্রের মধ্যে ৫১টি কেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। রবিবার প্রতিটি কেন্দ্রে ভোট গ্রহনের সকল সরঞ্জাম পাঠানো হয়েছে।  
নির্বাচনের রিটার্নিং অফিসার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) কামরুজ্জামান জানান, নির্বাচনে ১৬জন এক্্িরকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হয়েছে। আইন শৃংখলা রক্ষায় পুলিশ ৮শ ১৩জন, বিজিবি-৬০জন, র‌্যাব-৩২ জন, আনসার ও ভিডিপির ১ হাজার ৪৪ জন লোক নিয়োজিত থাকবেন। এছাড়াও পুলিশ ও র‌্যাবের সদস্যরা সাদা পোশাকে মোতয়েন থাকবেন। ৯টি স্ট্রাইকিং ফোর্স ৩১ টি মোবাইল টিম নির্বাচনী এলাকায় নিয়োজিত থাকবে।  
প্রবাসী অধ্যুষিত জগন্নাথপুর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে    
এই প্রথমবারের মতো দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে নির্বাচন। চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রয়েছেন ৩ জন প্রার্থী। ভাইস চেয়ারম্যান পদে রয়েছেন ৫ জন ও নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ৩জন প্রার্থী।  চেয়ারম্যান পদে যারা লড়ছেন তারা হলেন, আওয়ামীলীগ মনোনিত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও বর্তমান পরিষদের চেয়ারম্যান আকমল হোসেন (নৌকা), স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বর্তমান পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা ( আনারস) ও বিএনপির দলীয় প্রার্থী জেলা বিএনপি নেতা সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আতাউর রহমান (ধানের শীষ)।  
শেষ মুহূর্ত চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ প্রার্থী আকমল হোসেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তাদীর আহমদ মুক্তা ও বিএনপি প্রার্থী আতাউর রহমানের মধ্যে ত্রিমুখি লড়াইয়ের সম্ভাবনার আভাস দিয়েছেন ভোটাররা।
দীর্ঘ এক মাসব্যাপি প্রচার প্রচারণা শেষে এখন চলছে প্রার্থীদের জয়ের ব্যাপারে ক্ষণগননা। সব চেয়ে বেশি আলোচনা চলছে আজিজুস সামাদ ডন সমর্থকদের নিয়ে। এ নির্বাচনে তাদের পছন্দের প্রার্থী মনোনয়ন না পাওয়ায় তারা নির্বাচনের প্রচারণায় অংশ নেয়নি । এখন পর্যন্ত একদম নিরব ভূমিকা পালন করছেন তারা।
এই বলয়ের ভোট কার বাক্সে যাবে বিশ্লেষকরা সে বিষয়ে নানা হিসাব কষছেন। ইতিমধ্যে তাদের বলয়ের কর্মীরা বিভক্ত হয়ে তিন চেয়ারম্যান প্রার্থীর দিকেই ঝুঁকে গেছেন নিরবে। ডন বলয়ের অধিকাংশ কর্মী সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থী আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মুক্তাদীর আহমদ মুক্তার আনারস প্রতীক ভোট দিতে পারেন।  আবার কিছু কর্মী সমর্থক আওয়ামীলীগ প্রার্থী উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি আকমল হোসেনের পক্ষে নৌকায় ভোট প্রদান করতে পারেন। একটি অংশ রয়েছে  নীরব।
তবে নির্বাচন বিশ্লেষকদের মতে আওয়ামীলীগ যারা করে তারা শেষ অবধি ধানের শীষে ভোট দিবে না। যতই ক্ষোভে নৌকার বিপক্ষে কথা বলুক। শেষ দিকে ওই বলয়ের ভোট নৌকা কিংবা আনারসেই পড়বে। এদিকে জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মতিউর রহমান গতকাল শনিবার আওয়ামীলীগের নির্বাচনী সভায় এলেও ডন সমর্থকদের কাউকে তার সাথে দেখা যায়নি। নির্বাচনী মাঠে তাদের নিরবতা রহস্যের সৃষ্টি করছে। ডন বলয়ের ভোট নির্বাচনে প্রার্থী জয়ে একটি ফ্যাক্টর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই গ্রুপের ভোটের ওপর এখন সবার দৃষ্টি।  
ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী বিজন কুমার দেব, স্বতন্ত্র প্রার্থী কামাল উদ্দিন ও বিএনপি প্রার্থী হাজী সোহেল খান টুটুর মধ্যে ত্রিমুখি ভোটযুদ্ধ হতে পারে। এছাড়া নারী ভাইস চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগের প্রার্থী হাজেরা বারী ও বিএনপি প্রার্থী ফারজানা বেগমের মধ্যে দ্বিমুখি লড়াই জমে উঠতে পারে বলে মনে করছেন ভোটাররা।  

  • [১]