- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চলাচলে বাধা, দ.সুনামগঞ্জে ঘরবন্দি ৭ পরিবার

ইয়াকুব শাহরিয়ার, দ.সুনামগঞ্জ
দক্ষিণ সুনামগঞ্জে প্রভাবশালী এক পরিবার চলাচলের সড়ক আটকে দেওয়ায় ঘরবন্দি হয়ে পড়েছেন ৭ পরিবার। বাড়ি থেকে বের হতেই সমস্যায় পড়েছেন তারা। উপজেলা পশ্চিম পাগলা ইউনিয়নের ব্রাহ্মণগাঁও পুরাতন পাড়ায় এই অসহায় পরিবারগুলোর বসবাস।
এ ঘটনায় দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, ভাইস চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছে ভূক্তভোগী পরিবারগুলো। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল হক উভয়পক্ষকে নিয়ে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলেও আলোচনায় বসতে রাজি হয়নি অভিযুক্ত প্রভাবশালী পরিবার।
জানা যায়, ৪-৫ বছর আগে শালিসী ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে ও উভয় পক্ষের সম্মতিতে চলাচলের সড়কে প্রায় ২ লাখ টাকার মাটি ভড়াটের কাজ করান জনৈক বিন্দু দাশ। বর্তমানে সড়কটি ব্যবহার অনুপযোগী হওয়ায় সংস্কার কাজের জন্য বাঁশের আড় বাঁধা সহ আরো প্রায় ৫০ হাজার টাকা খরচ করেন তিনি। সম্প্রতি মাটি ভড়াটের কাজের সময় অন্যপক্ষের প্রভাবশালী ব্রজলাল দাশ ও দুলাল দাশ তার ভাগ্না অলক দাশ ও ভাতিজা রঞ্জু দাশ সংস্কারের সকল বাঁশ উপড়ে ফেলে দেন এবং এই পথ দিয়ে তাদের চলাচলে বাধা দেন। একারণে অনিল দাশ, অখিল দাশ, সুবল দাশ, কংকন দাশ, গৌড়া দাশ, বিন্দু দাশ ও চয়ন দাশের পরিবারগুলো অনেকটা ঘরবন্দি হয়ে আছেন। ঘর থেকে বের হতে পারছেন না এসব পরিবারের ৪০-৪৫জন মানুষ।
অভিযুক্ত দ ব্রজলাল দাশের ভাগ্না অলক দাশ বলেন, আমার মামারা বাড়িতে থাকেন না। তাদের বাড়িতে আমি থাকি। তারা আমাকে ফোন করে বলেছেন সড়ক সংস্কারের জন্য যে বাঁশ পুঁতা হয়েছে তা উপড়ে ফেলতে। আমি তাদের কথা মতো কাজ করেছি। স্থানীয় শালিস ব্যক্তিত্ব ধীরেন্দ্র পাল ধীরু, আফিজুর রহমান, খোকন দাশ, রামানন্দ দাশ, ধরণী কান্ত দাশ, উমা কান্ত সূত্রধর জানান, বছর তিনেক আগে এক বৈঠকের মাধ্যমে চলাচলের জন্য উভয় পক্ষের সম্মতিতে সড়কে মাটি ভরাটের কাজ করা হয়। সে বৈঠকে আমরাও ছিলাম। এখন একপক্ষ সড়কে চলাচলে বাধা দিচ্ছে। এতে পরিবারগুলো আটকে আছে।
অভিযোগকারী বিন্দু দাশ বলেন, আমরা ব্রজলাল ও দুলাল দাশের সাথে কথা বলে পঞ্চায়েতের মাধ্যমো সড়কে মাটি ভরাট করেছি। ২ লাখ টাকা খরচ করেছি। এখন তারা আমাদের সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখন ঘরবন্দি।
ব্রজলাল দাশ বলেন, আমরা মাটি ভরাটের ব্যাপারে কোনো কথা বলি নি। আমাদের বাড়ির কিছু জায়গা বিন্দু দাশের বাড়ির ঘরে ঢুকেছে। সেটি ছাড়তে বলেছি, আমরা তার চলাচল বন্ধ করিনি। তারা আমার বাড়ির উপর দিয়ে গেলেও আমি নিষেধ করবো না।
পশ্চিম পাগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নূরুল হক বলেন, আমি চেষ্টা করেছিলাম একটি সমাধান দেওয়ার জন্য। কিন্তু ব্রজলাল দাশ ও দুলাল দাশ মানেন নি।
দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক আহমদ ও ভাইস চেয়ারম্যান নূর হোসেন বলেন, সরেজমিনে দেখে উভয়পক্ষকে নিয়ে বসে আলোচনার মাধ্যমে একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করবো।

  • [১]