পদ্মা সেতুকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ২০১৬-১৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) জন্য রেকর্ড পরিমাণ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ অর্থবছরে এডিপির আকার ধরা হয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর বাইরে স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ১২ হাজার ৬৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। এ হিসেবে এডিপির আকার দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ২৩ হাজার ৩৪৫ কোটি টাকায়। গত বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সভায় এ এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়। এদিকে সোমবারে একটি জাতীয় দৈনিকের রিপোর্ট বলা হয়, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (এডিপি) বাস্তবায়নের হার মাত্র ৫০ দশমিক ১২ শতাংশ। এডিপি বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের দুর্বলতা বা ব্যর্থতা আগেও দেখা গেছে, এখনো যাচ্ছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তার এক বক্তৃতায় এডিপি বাস্তবায়নে সরকারের হার্ডলাইনে যাওয়ার কথা বলেছেন। প্রয়োজন যাচাই করে প্রকল্প গ্রহণের কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। এডিপি বাস্তবায়নে কিছু নির্দেশনাও দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সরকারের মনিটরিং থাকলে, জবাবদিহিতার ব্যবস্থা থাকলে এডিপি বাস্তবায়নে গুণগত পরিবর্তন আসতে পারে, যা খুবই প্রত্যাশিত।
সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ এবং মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) প্রদত্ত তথ্য থেকে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে মোট এডিপি বরাদ্দ ৯৩ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা বরাদ্দ থেকে গত ১০ মাসে এডিবি বাস্তবায়ন মাত্র ৪৭ হাজার ৫৯ কোটি টাকা বা ৫০ দশমিক ১২ শতাংশ। এডিপি বাস্তবায়ন ২৫ শতাংশ ছাড়াতে পারেনি সরকারের ৮টি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ। ফলে চলতি অর্থবছরের বাকি দুই মাসে শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। এক মাস আগে চলতি অর্থবছরের বরাদ্দ থেকে ৭ হাজার কোটি টাকা কমানো হয়েছে। দেখা যাচ্ছে, বাস্তবায়ন করতে না পারলেও প্রতিবারেই অর্থবছরের শুরুতে বড় আকারের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ দেয়া হয়। আবার বছর শেষে তা কাটছাঁট করে কমানো হয়। এডিপি বাস্তবায়নে ব্যর্থতার কারণ অনেক। প্রথমত প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বহীনতা। এডিপি বরাদ্দের ঘোষণা প্রসঙ্গে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেছেন, প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) উদাসীনতার কারণে সময় মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন হয় না। ফলে ব্যয় বৃদ্ধির নামে সরকারের অর্থের অপচয় হয়। চলমান প্রকল্পে নতুন কম্পনেন্ট যোগ করে বারবার ব্যয় বাড়ানোর প্রবণতা রয়েছে। এ ছাড়া সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের মান নিয়েও রয়েছে বহু প্রশ্ন। প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের গাফিলতি শুধু নয় দুর্নীতিরও দৃষ্টান্ত রয়েছে। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গায় একটি ভবনে রডের বদলে বাঁশ ব্যবহারের ঘটনা আলোড়ন তুলেছে। এ অবস্থার পরিবর্তন দরকার।
এ দেশের সাধারণ মানুষের শ্রমে-ঘামে অর্জিত অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার হোক এটাই সবার চাওয়া। আমরা আশা করব, রাজনৈতিক বা ব্যক্তি-বিশেষের স্বার্থ বিবেচনা নয়, জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গৃহীত হবে। যথাসময়ে মানসম্মতভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টরা যেন সচেষ্ট থাকেন- এ ব্যাপারে তদারকি ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ও দুর্নীতির জন্য উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা থাকতে হবে। বিধি অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা বা হার্ড লাইনে যাওয়ার যে সিদ্ধান্ত সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে আমরা তাকে স্বাগত জানাই এবং বাস্তবে এর প্রয়োগ দেখতে চাই।