স্টাফ রিপোর্টার
মধ্যনগরের চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতি ও ইউপি সদস্যদের সাথে অসদাচরণের অভিযোগ এনে অনাস্থার দাবি জানিয়েছেন পরিষদের ৯ ইউপি সদস্য। তবে এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান মান্না।
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন। এর আগে গত মঙ্গলবার পরিষদের ৯ জন ইউপি সদস্য সভা করে চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্নাকে অনাস্থা জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।
পরিষদের ৩ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আব্দল মোতালিবের সভাপতি অনাস্থা প্রস্তাবের সভায় উপস্থিত ছিলেন ১,২ ও ৩ নং সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য বেগম মোছা. খোদেজা, ৭,৮ ও ৯ নং সংরক্ষিত আসনের ইউপি সদস্য সেজনা বেগম, ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আনিসুজ্জামান, ২ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জীবন কৃষ্ণ তালুকদার, ৪ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রতন কুমার সরকার, ৫ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম, ৬ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য বকুল সরকার, ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ওয়াসিল আহমদ ও ৯ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য দুলাল মিয়া।
জেলা প্রশাসকের কাছে দাখিল করা অভিযোগে ইউপি সদস্যরা উল্লেখ করেছেন, চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না শুরু থেকে বিনা নোটিশে সভা ডাকেন। তাঁর ইচ্ছেমত রাত ৮/৯ টায় পরিষদের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ইউপি সদস্যরা নানা প্রকার লাঞ্ছনার শিকার হন। চেয়ারম্যান মান্না প্রায়ই মদ্যপ অবস্থায় থাকেন। তিনি পরিষদের কোন কার্যবিবরণী ইউপি সদস্যদের দেন না। ইচ্ছেমত কার্যবিবরণী লিখে গোপনে কাজ করেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, চেয়ারম্যান ভিজিডি কার্ড প্রদানে ২২৬ জন মানুষের কাছ থেকে ২ হাজার করে সাড়ে ৪ লাখ টাকা আদায় করেন। টাকা আদায়ে পরিষদের সদস্যরা বাধা প্রদান করলে নানাভাবে ভয়-ভীতি দেখান তিনি। পরিষদের নামে আসা কম্বল ও দুম্বার মাংস বিতরণ না করে আত্মসাত করেন। ইউনিয়ন পরিষদের ইউপিজিপি ও এলজিএসপি প্রকল্পের কাজ না করে টাকা আত্মসাত করেন। মাটির রাস্তার উন্নয়ন কাজ ও রিং স্লাব বিতরণ না করে প্রায় ৩ লাখ টাকা আত্মসাত করেন। প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত বিশেষ ভিজিএফ-এর চাল ও নগদ টাকা বিতরণে অনিয়ম-দুর্নীতি করে তা আত্মসাত করেন। এবিষয়ে ইউপি সদস্য ওয়াশিদ আহমদ অভিযোগ করলে ৩১০ জন মৎস্যজীবীর ভিজিএফের চাল ও টাকা দেড়মাস পর বণ্ঠন করেন তিনি।
ইউনিয়নের সারাকোনা গ্রামের নদীতে অবৈধ খেয়াঘাট সৃজন করে অর্থ আদায় করে তা আত্মসাত করেন ওই চেয়ারম্যান। কাজ না করে নানাভাবে জাল-জালিয়াতি করে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসৃজন প্রকল্পের বরাদ্দ আত্মসাত করেন। গত বছর হাওরের বোরো ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে পাউবোর প্রকল্প বাস্তবায়নে ইউপি সদস্যদের লিখিত দায়িত্ব প্রদান করে কৌশলে তিনি সকল প্রকল্পের অর্থ আত্মসাত করেছেন।
বিভিন্ন দিবসের নামে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করে কর্মসূচি পালন না করে অর্থ আত্মসাত করেন। গত ১৭ অক্টোবর চেয়ারম্যান উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সাথে অসদাচরণ করেন। এ ঘটনায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে চেয়ারম্যান মান্নাকে কারাদ- দেন। পরে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সুপারিশে ও শর্তসাপেক্ষ মুচলেখায় মুক্তি পান।
অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না সারাক্ষণ নানা প্রকারের নেশাদ্রব্য গ্রহণ করে বিভোর অবস্থায় থাকেন। কারো সাথেই তিনি ভাল আচরণ করেন না।
অভিযোগের ব্যাপারে চামরদানী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকিরুল আজাদ মান্না বলেন,‘ ইউপি সদস্যদের এসব অভিযোগ সঠিক নয়। আমাকে হয়রানীর জন্য তারা এসব মিথ্যা অভিযোগ করছেন। পরিষদের সকল কর্মকান্ড সভা করে রেজুলেশনের মাধ্যমেই করা হচ্ছে এবং রেজুলেশনের কপি অফিসে সংরক্ষিত আছে। আমাকে কারাদ- দেয়ার যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা। ইউপি সদস্যদের এসব কর্মকান্ডে বিষয়ে আমি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও জেলা প্রশাসক মহোদয়কে লিখিতভাবে জানাব। ’