- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চালক শহিদ আটক, ঢাকায় নিয়ে গেছে সিআইডি পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার
চলন্ত বাসে শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় চালক শহিদ মিয়াকে আটক করে ঢাকায় নিয়ে গেছে সিআইডি পুলিশ। শনিবার দুপুর ১টায় তাকে ঢাকায় নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় পুলিশ। এর আগে নানা কৌশলে শুক্রবার রাতে ঢাকা থেকে আসা নাইট কোচে শহিদকে সুনামগঞ্জে নিয়ে আসে সিআইডি পুলিশ। শনিবার ভোর ৬ টায় সিআইডির জালে আটকা পড়ে সে। তাকে নিয়ে সিআইডির হাজী পাড়ার কার্যালয়ে। পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে দুপুর ১ টায় শহিদকে ঢাকায় নিয়ে যাবার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেয় সিআইডি পুলিশের একটি দল। চালক শহিদ সিলেটের জালালাবাদ থানার মোল্লারগাঁও গ্রামের মাইন্না মিয়ার ছেলে। সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের কুমারগাঁও শাখা কমিটির সদস্য ছিল সে। এ ঘটনার পর সিলেট জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন বহিস্কার করা হয়েছে তাকে।
সিআইডির এস আই সুমন মালাকার জানান, শহিদ মিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদে জন্য সিআইডির হেডকোয়ার্টারে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।
জানা যায়, দিরাইয়ে চলন্ত বাসে কলেজ ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় চালক শহিদ মিয়াকে গ্রেপ্তারে ফাঁদ পাতে সিআইডি পুলিশ।
সিআইডি পুলিশ শহিদের পরিবারের সদস্য, আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু বান্ধবকে তাকে গ্রেপ্তারের জন্য কাজে লাগায়।
সুনামগঞ্জ জেলা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মুকিত মুকুল জানান, শহিদের বন্ধু তুহিনের মাধ্যমে তারা জানতে পারেন শহিদ ঢাকায় আছে। পরে সিআইডি পুলিশকে বৃহস্পতিবার তারা এই তথ্য জানান। এক পর্যায়ে জানা যায় ঢাকায় সে তার মামার কাছে রয়েছে। কিন্তু মামার মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় সে কোথায় আছে জানা যায় নি। সিআইডি পুলিশ শেষে শহিদের পরিবারের সদস্যদের তাদের অফিসে নিয়ে যায়। শনিবার সকালে শহিদের বোনের ফোন দিয়েই শহিদ তার (আব্দুল মুকিত মুকুল) সঙ্গে কথা বলে। এসময় সে জানায় পুরাতন বাসস্টেশনে বাস থেকে নামার পর পরই তাকে সিআইডির লোকজন আটক করেছেন। তাদের অফিসেই আছে সে।
সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান সকালেই নিশ্চিত করেন সিআইডি পুলিশ চালক শহিদকে আটক করেছে।
এঘটনায় এর আগে ২৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে রশিদ আহমদ নামের হেলপারকে সিলেটের পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) সুনামগঞ্জের ছাতকের বুরাইরগাঁও থেকে আটক করে।
গত ২৬ ডিসেম্বর শনিবার বিকালে সিলেটের লামাকাজী থেকে দিরাইয়ে যাচ্ছিলেন ওই কলেজ ছাত্রী। দিরাই পৌরসভার সুজানগর গ্রামের পাশে এসে যাত্রীবাহী ওই বাসে একা হয়ে যান ওই ছাত্রী। অন্য যাত্রীরা নেমে যায়। এসময় চালকসহ সহকারীরা ছাত্রীকে ধর্ষণের চেষ্টা করে। সম্ভ্রম বাঁচাতে ওই ছাত্রী চলন্ত বাস থেকেই লাফিয়ে পড়েন। স্থানীয়রা তাকে সড়কের পাশ থেকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে দিরাই হাসপাতালে নেন। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিলেটের ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করেন। খবর পেয়ে নির্যাতিতার স্বজনসহ স্থানীয়রা ওই রাতে দিরাই থানার সামনে বিক্ষোভ করে। পুলিশ বাসটি জব্দ করে।
এঘটনায় ওই দিন রাতেই ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে বাসের চালক শহীদ মিয়াসহ ৩ জনকে আসামী করে দিরাই থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করেন। নির্যাতিতা ছাত্রীর বাড়ি দিরাই পৌর শহরের মজলিশপুর গ্রামে। সে দিরাই ডিগ্রি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। ওই ছাত্রী বর্তমানে দিরাইয়ের বাড়িতে বাবা-মার কাছে আছে।

  • [১]