- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চালুর এক সপ্তাহের মাথায় ভেঙে গেল পানির ট্যাংকি, চিন্তিত কৃষকরা

আমিনুল ইসলাম ও সালেহ আহমদ
চালু হওয়ার এক সপ্তাহের মাথায় মঙ্গলবার বিকালে ভেঙে গেল বিশ^ম্ভরপুর ও তাহিরপুরের মধ্যবর্তী এলাকায় বিএডিসির তৈরি করা বোরো ধানের চাষাবাদের সেচ প্রকল্পের পানির ট্যাংকি। এতে হওরপাড়ের ১২ টি গ্রামের কৃষকদের বেরো চাষাবাদ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার বিকালে বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার আঙ্গারুলি হাওর সেচ প্রকল্পের পানির ট্যাংকির ওয়াল ভেঙে পড়ায় এই অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। এ ঘটনায় ঠিকাদারের দায়িত্বে অবহেলা ও নি¤œমানের কাজকেই দায়ী করেছেন এলাকাবাসী। প্রকল্প বাস্তবায়নকারী বিএডিসি কর্মকর্তারা বলেছেন, এই প্রকল্প বাংলাদেশে প্রথম। পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা এই প্রকল্পের কারণে সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে না। সংশ্লিষ্ট কৃষকদের চিন্তির হবার কিছু নেই।
জানা যায়, সম্প্রতি ২৪ লাখ টাকা ব্যয়ে আঙ্গারুলি হাওরের বোরো জমিতে পানি সেচ দেয়ার জন্য বাংলাদেশ এগ্রিকালচার ডেভেলাপমেন্ট কর্পোরেশন (বিএডিসি) নতুন পদ্ধতিতে সেচ প্রকল্পের কাজ শুরু করে। ২৪ লক্ষ টাকা ব্যয়ে এই কাজ করে সুনামগঞ্জের ঠিকাধারী প্রতিষ্টান আকিল এন্টারপ্রাইজ।
নির্মিত এই প্রকল্পের মাধ্যমে আঙ্গারুলি হাওরের পশ্চিম পাড়ে বালিজুরি এলাকায় পানি সেচ কাজ শুরু হয়েছিল এক সপ্তাহ আগে। প্রকল্পটির মাধ্যমে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা ও তাহিরপুর উপজেলার বারোটি গ্রামের কৃষকদের বোরা ধান চাষাবাদের আওতায় আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু সেচ প্রকল্পের পানির ট্যাংকির ওয়াল মঙ্গলবার ভেঙে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এলাকার কৃষকরা প্রায় এক হাজার একর জমি চাষাবাদ নিয়ে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন।
স্থানীয় কৃষক ফেরদৌস আলম জানান, কাজের শুরুতেই এলাকাবাসী ঠিকাদারের অবহেলা ও নি¤œমানের কাজ হচ্ছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন।  কিন্তু কর্তৃপক্ষ তা আমলে নেননি।  চালু হওয়ার এক সপ্তাহ যেতে না যেতেই নবনির্মিত পানির ট্যাংকি ভেঙে পড়ায় চিন্তিত কৃষকরা।
বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাদি উর রহিম জাদিদ কে অবহিত করেছেন এলাকাবাসী।
সুনামগঞ্জ বিএডিসির  উপসহকারী প্রকৌশলী হাছান মাহমুদ মঙ্গলবার বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ট্যাংকির কোন রড হুক করা না থাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
সুনামগঞ্জ বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান বললেন, কাজে কোন অনিয়ম হয় নি। এই ধরণের সেচ প্রকল্প বাংলাদেশে এটাই প্রথম। পরীক্ষামূলকভাবে এক সপ্তাহ হয় এটি চালু করা হয়েছে। এখনো এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয় নি। পানির চাপ কেমন হবে সেটি বুঝা যায় নি, সেজন্য এমন হয়েছে। পরের সেচ প্রকল্পগুলোতে এধরণের দুর্ঘটনা ঘটবে না। এ ঘটনার জন্য সেচ কার্যক্রম বন্ধ থাকবে না। আমরা একাধিক মোটরের ব্যবস্থা করে কৃষকদের চাষাবাদের ব্যবস্থা করে দেব। দ্রুত ভেঙে যাওয়া প্রকল্পটিও মেরামত করা হবে।

  • [১]