- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চাল না পেয়ে ইউএনও’র কার্যালয়ে অবস্থান

জগন্নাথপুর অফিস
জগন্নাথপুরে ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও চাল না পেয়ে চালের দাবিতে ইউএনও কার্যালয়ে দীর্ঘক্ষণ অবস্থান করে অবশেষে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরলেন মানুষজন। বৃহস্পতিবার দুপুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে উপজেলা পরিষদ ভবনের দ্বিতীয় তলায় ইউএনও’র কার্যালয়ের সামনে।  
জগন্নাথপুরের ইউএনও’র কার্যালয়ে অবস্থান নেয়া পৌর এলাকার হবিবনগর গ্রামের অভাবী নারী ছমিরুন নেছা এ প্রতিবেদক বলেন, গত ৫/৬ দিন ধরে ন্যায্যমূল্যে চাল নেয়ার জন্য ভোর রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত অপেক্ষা করেও চাল পাইনি। প্রতিদিনই আসছি কিন্তুখালি হাতে ফিরে যেতে হয়। তিনি অভিযোগ করে বলেন, চাল কেন্দ্রের পরিচালকরা,তাদের পরিচিত লোকজন দেখে দেখে আগেই চাল দিয়ে দেন।  
আরেক নারী জানান, খুবই অভাবের মধ্যে সংসার চলছে তার। সংসারের অন্য সব কাজকর্ম ফেলে সকাল ৬টা  থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকি চাল পাওয়ার আশায়। গত ৮ দিনেও মেলেনি চাল। আমরা কী চাল কোন দিনই পাব না ?  পৌরশহরে বিভিন্ন চাল কেন্দ্রে ঘুরে দেখা যায়, সরকারীভাবে নির্ধারিত প্রতিটি কেন্দ্রে অভাবি মানুষের উপচে পড়া ভিড়। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শত শত মানুষ খালি হাতে বাড়ি ফিরে যাচ্ছেন। আবার সূর্য উদয়ের আগেই চাল কেন্দ্রে পৌঁছা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে চাল নিতে হয়।  j,pur--pic-20-04-2017
চাল কেন্দ্রের ডিলাররা জানান, জনপ্রতি ৫ কেজি করে দুইশত ব্যক্তিকে মধ্যে চাল ও আটা সরবরাহ করা হচ্ছে। চাল কেন্দ্রে প্রতিদিন সহ¤্রাধিক মানুষের ঢল নামে। চাহিদার তুলনায় চাল কেন্দ্রের সংখ্যা কম থাকায় প্রচন্ড ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।  
জানা যায়, অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে জগন্নাথপুরের সব’টি হাওরের ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও অভাবি মানুষের জন্য সরকার গত ১৩ এপ্রিল থেকে খোলাবাজারে ন্যায্য মূল্যে ১৫ টাকা ধরে চাল ও ১৭ টাকা ধরে আটা বিক্রি করা হচ্ছে। জগন্নাথপুর উপজেলায় তিনটি চাল কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৩ টন চাল ও ৩ টন আটা খোলা বাজারে বিক্রি হচ্ছে।  
জগন্নাথপুরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বিল্লাহ জানান, চাল কেন্দ্র বাড়ানোর জন্য আমরা লিখিতভাবে সরকারের উচ্চ পর্যায়ে জানিয়েছি।    

  • [১]