- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চিকনগুনিয়া সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে

চিকনগুনিয়া এখন মূর্তিমান এক আতংকের নাম। এডিশ মশার মাধ্যমে এই রোগের জীবাণু ছড়ায়। এটি ভাইরাসজনিত জ্বর। এর কোন প্রতিষেধক নেই। এটি এন্টিবায়োটিকে সারে না। ঢাকার শতকরা ১০ ভাগ মানুষ ইতোমধ্যে এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন বলে বলা হয়ে থাকে। এই ভয়াবহ অসুখ দমনে মশক নিধন ও সচেতনতা ভিন্ন আর কোন পরামর্শ দেয়া হচ্ছে না। সুনামগঞ্জে এখন পর্যন্ত চিকনগুনিয়া জ্বরে আক্রান্ত কোন ব্যক্তির সন্ধান না পেলেও এটি যেকোন সময় আবির্ভূত হতে পারে বলেই আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়ে থাকে। এই আশঙ্কা থেকেই জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ চিকনগুনিয়া সতর্ক বার্তা প্রচার শুরু করেছে। প্রধান বার্তাটি হলো এডিশ মশার বংশ বিস্তার নির্মূল করা। যেসব উৎসে এডিশ মশা বংশ বিস্তার করে, যেমন জমে থাকা পানির যাবতীয় উপকরণ; এগুলোকে বন্ধ করে দিতে হবে। দিনে বা রাতে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার এবং মশক নিধন কার্যক্রম হাতে নেয়া জরুরি বলে অভিজ্ঞজনরা অভিমত প্রকাশ করে থাকেন। চিকনগুনিয়ার সংক্রমণ থেকে সাবধান থাকতে হবে এ কারণে যে এখন মানুষ প্রতিনিয়ত এক স্থান থেকে অন্য স্থানে বেশি বেশি পরিমাণে গমনাগমন করে থাকেন। কেউ ঢাকায় গিয়ে যদি এই রোগে আক্রান্ত হন তাহলে তিনি সুনামগঞ্জে ফিরে আসলে তার শরীর থেকে এডিশ মশা এর জীবাণু সংগ্রহ করে ছড়িয়ে দিতে পারে। সুতরাং সতর্ক থাকা ও নিয়ন্ত্রণমূলক কর্মকা- অতি জরুরি। নতুবা একটা সময়ে এই আশংকা আতঙ্কে পরিণত হতে পারে।
জেলা শহরের দিকে তাকালে দেখা যায় বিভিন্ন রাস্তা-ঘাট ও বাসাবাড়িতে পানি জমে থাকে। বিশেষ করে এই বর্ষাকালে এমন অবস্থা অনেক বেশি। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থার অপার্যপ্ততা ও বাসা-বাড়ির মালিকগণের পরিকল্পনাহীনতা, অবহেলা ইত্যাদি কারণে এই পানি জমে থাকে। গতকাল দৈনিক সুনামগঞ্জের খবরে চিকনগুনিয়া নিয়ে যে সংবাদ পরিবেশন করা হয়েছে সেটিতে শহরের যেসব স্পটে পানি জমে থাকে তার কয়েকটির কথা উল্লেখ রয়েছে। এর বাইরে আরও বহু স্পটে পানি জমে থাকে। সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ড কাউন্সিলররা পানি জমে থাকার বিষয়গুলি স্বীকার করে মশা নির্মূলের অভিযান শুরু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। স্বয়ং মেয়রও এরূপ মশা নিধনের আশ্বাস দিয়েছেন। আমরাও মনে করি অবিলম্বে মশা নিধন অভিযান ব্যাপকভাবে চালু করা প্রয়োজন।
মশক নিধন কার্যক্রমের পাশাপাশি প্রতিকারমূলক কর্মকা- চালু করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে অর্থাৎ শহরের যেসব স্পটে পানি জমে থাকে সেগুলোকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে হবে। শহরবাসীকেও সচেতন করে তুলতে হবে যাতে তারা নিজ নিজ বাসস্থান পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন ও জলাবদ্ধতামুক্ত রাখেন। আমরা মনে করি পৌর কর্তৃপক্ষের একটি শক্তিশালী ভিজিলেন্স টিম শহরে মোতায়েন করে যেসব বাসাবাড়িতে এমন অবস্থা আছে তাদের মাধ্যমে সেগুলো চিহ্নিত করে বাসার মালিকদের প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা ও সংস্কার কাজ করানোয় বাধ্য করা। ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগগুলো কার্যকর হলে মশা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে। কিন্তু সকলেই যদি আসন্ন ঝড়ের পূর্বাভাসের মধ্যেও নিশ্চল থাকেন তাহলে বিধ্বংসী ঝড় যে ব্যাপক ক্ষতির কারণ হবে সেটি বুঝিয়ে বলার প্রয়োজন আছে কি?
কথায় আছে চিকিৎসা করান্রো চাইতে রোগ হওয়ার আগে প্রতিরোধ করা উত্তম। আমরা এই উত্তম কাজটির প্রতিই সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও রাষ্ট্রের সচেতনতার মাধ্যমেই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জকে আমাদের মোকাবিলা করতে হবে।  

  • [১]