- সুনামগঞ্জের খবর » আঁধারচেরা আলোর ঝলক - https://archive.sunamganjerkhobor.com -

চিকিৎসক সংকটে জেলার ৯ হাসপাতালে অপারেশন বন্ধ

বিন্দু তালুকদার
প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পরও চিকিৎসক সংকটের কারণে জেলার ৯ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) অপারেশন বন্ধ হয়ে আছে। এতে গ্রামের দরিদ্র ও সাধারণ জনগোষ্ঠী কাঙ্খিত সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কবে চিকিৎসক সংকট দূর হবে ও অপারেশন করা সম্ভব হবে তা জানেন না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলা পর্যায়ের প্রতিটি হাসপাতালে প্রসূতি মায়ের সিজারিয়ান ও সাধারণ অপারেশন করার জন্য জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনোকলজিষ্ট, জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থেসিয়া ও জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি নামে ৩টি পদ রয়েছে। প্রতিটি হাসপাতালে একটি করে অপারেশন কক্ষ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতিও রয়েছে । তবে দীর্ঘ দিন ধরে ওই তিনটি পদে চিকিৎসক না থাকায় মহিলাদের সিজার ও সাধারণ অপারেশন করা সম্ভব হচ্ছে না। উপজেলা হাসপাতালে কোন ধরনের অপারেশন হয় না বলেই জানেন স্থানীয় লোকজন । অনেকেই জানেন না প্রতিটি হাসপাতালে    
একটি অপারেশন কক্ষ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, জেলা সদর হাসপাতাল এবং মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র (মাতৃমঙ্গল) ছাড়া জেলার ছাতক, দোয়ারাবাজার, দিরাই, শাল্লা, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, ধর্মপাশা ও জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (হাসপাতাল) দীর্ঘদিন ধরে অপারেশন বন্ধ রয়েছে। এসব হাসপাতালে গত ১৪-১৫ বছর ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় রয়েছে অপারেশন কক্ষ। গ্রামের দরিদ্র লোকজন সেবার জন্য এসব হাসপাতালে গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকগণ তাদেরকে জেলা সদর হাসপাতাল ও বিভাগীয় শহরের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেই দায়িত্ব সারেন। অথচ বাড়ির কাছের উপজেলা সদরের সরকারি হাসপাতালে অপারেশন কক্ষে মূল্যবান যন্ত্রপাতি তালাবন্ধ অবস্থায় নষ্ট হচ্ছে।
জেলার দিরাই, জগন্নাথপুর, ছাতক ও ধর্মপাশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা বিশিষ্ট, জামালগঞ্জ, তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, দোয়ারাবাজার ও শাল্লা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৩১ শয্যা বিশিষ্ট। এর মধ্যে জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকার ঘোষিত জরুরী প্রসূতি সেবার আওতাধীন রয়েছে। কিন্তু চিকিৎসক সংকটের কারণে ওই দুই সরকারি হাসপাতালসহ জেলার ৯ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনটিতেই প্রসূতি সেবা দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সরকারের নিরাপদ প্রসূতি সেবার কার্যক্রমে বিঘœতা ঘটছে বলে স্বীকার করেছেন সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম।
ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. অভিজিৎ শর্মা বলেন,‘ আমাদের ছাতক ও কৈতক হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট রয়েছে। একই সাথে অপারেশেন থিয়েটার কক্ষের ইনচার্য নার্সও নেই। সব মিলিয়ে এখানে অপারেশন করা সম্ভব হয় না। গত ১৫ বছর আগে এসব অপারেশন কক্ষ চালুর পর কিছু দিন অপারেশন হয়েছিল। এর পর থেকে আর অপারেশন হচ্ছে না। ’
দিরাই উপজেলার ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. হাসিবুর রহমান বলেন,‘ দিরাইয়ে জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি পদে একজন কিছু দিন ছিলেন। তিনি থাকালীন সময়ে ছোট ছোট অপারেশন করা সম্ভব হতো। এক বছর আগে তিনি বদলী হয়ে চলে গেছেন। অন্য দুইটি পদে চিকিৎসক না থাকায় মহিলাদের সিজার ও সাধারণ অপারেশন করা সম্ভব হয় না। আমার যোগদানের পর ৫ বছর হয়েছে আমি এখানে অপারেশন হতে দেখিনি। যদি উপজেলা পর্যায়ে অপারেশন করা সম্ভব হতো তাহলে গ্রামের লোকজন কম খরচে সেবা পেতেন।’
জামালগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মনিসর চৌধুরী বলেন,‘ আমাদের হাসপাতালে অপারেশন কক্ষ রয়েছে এবং এই কক্ষে নানা ধরনের যন্ত্রপাতিও আছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন চিকিৎসক না থাকার কারণে কোন ধরনের অপারেশন করা সম্ভব হয় না। গত ১৫ বছর ধরেই অপারেশন বন্ধ রয়েছে। চিকিৎসকের তিনটি পদ শূন্য থাকার বিষয়টি আমরা বার বার কর্তৃপক্ষকে অবগত করে আসছি।’
দোয়ারাবাজার উপজেলা স্বাস্থ্য ও প. প. কর্মকর্তা ডা. মো. জমসেদ আলী বলেন,‘ চিকিৎসক সংকটের কারণে অপারেশন থিয়োটার চালু পর থেকেই বন্ধ আছে। অপারেশন কক্ষ থাকলেও চিকিৎসক না থাকায় আমরা প্রসূতিদের জরুরী অপারেশন করতে পারি না। এসব বিষয় কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।’
সিভিল সার্জন ডা. আব্দুল হাকিম বলেন,‘জেলার ৯টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মধ্যে কোনটিতেই জুনিয়র কনসালটেন্ট গাইনোকলজি, জুনিয়র কনসালটেন্ট এনেস্থিসেয়া ও জুনিয়র কনসালটেন্ট সার্জারি চিকিৎসক নেই। যার কারণে সরকারের নিরাপদ প্রসূতি সেবার কার্যক্রম চরমভাবে বিঘœ হচ্ছে। জগন্নাথপুর ও দোয়ারাবাজার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জরুরী প্রসূতি সেবা প্রদান করা সম্ভব হচ্ছে না। বিষয়টি আমি বার বার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবগত করে আসছি। কিন্তু তোন কাজে আসছে না। বেশ কয়েক মাস আসে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের কাছে এসব বিষয় তোলে ধরেছি। এছাড়া যখনই সভা-সমাবেশে কথা বলার সুযোগ পাই এনিয়ে আমি কথা বলি। কিন্তু আজ পর্যন্ত চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণের কোন উদ্যোগ নেই। এতে করে দরদ্রি জনগোষ্ঠী সরকারি সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।’

  • [১]